ফোনের ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভাল রাখার উপায়

Sarajevo, Bosnia and Herzegovina - December 7, 2019: Girl enters the phone number to receive an SMS notification from Instagram on smart phone

সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে আমরা এমন একটা বাস্তবতায় পৌঁছেছি যা হয়তো দশ বছর পিছিয়ে গিয়ে ভাবলে কল্পনাই করা যায় না। বেঁচে থাকার অভিপ্রায় বা তাকে গুরুত্ব দিতে আজ অনেকটাই অন্যরকম হয়েছি আমরা। প্রিয় মানুষ গুলোর সাথে যোগাযোগের জন্য আজ অতটা অপেক্ষা করে কষ্ট পাওয়াটা কমেছে, কারণ আমাদের হাতের মুঠোয় এসেছে বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার, ফোন। দূরত্ব বাড়ে যোগাযোগ কমে যায়- এই দূরত্ব বাড়তে না দিয়ে সম্পর্ক আরো মধুর করে তুলেছে এই ফোন। সমগ্র বিশ্বে ফোন নেই বা ব্যাবহার করে না এরকম লোকজন খুব কমই আছেন। তাই ফোন ঠিকঠাক রাখতেই হয়। আর ফোন তখনই ভালো থাকবে যখন ব্যাটারি ভালো থাকবে।

ফোনের ব্যাটারি ভালো রাখার জন্য কতগুলো কাজ করা যেতে পারে,

প্রথমত, যেখান থেকেই হোক, ফোন কেনার সময় যে চার্জারটা দেওয়া হয় সেটাই ব্যাবহার করতে হবে। কারণ প্রতিটা ফোনের আলাদা আলাদা চার্জার থাকে, আর সেটা ব্যাবহার না করলে ফোনের ব্যাটারির ক্ষতি হয়।

দ্বিতীয়ত, অনেকেই ফোনের চার্জার হারিয়ে ফেললে কিংবা চার্জার নষ্ট হয়ে গেলে দোকান থেকে যেকোনো সস্তা দামের চার্জার এনে চার্জ দেন। এতে ফোনের ক্ষতি হয়, অন্যান্য যে ডিভাইস আছে তারও ক্ষতি হয়। তাই চার্জার কিনলে অবশ্যই দামী চার্জার কিনবেন, এতে আপনার ফোনের ব্যাটারি ভালো থাকবে।

অনেকে ফোনে চার্জ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘেঁটেই যান। এটা একদমই ঠিক না। এতে ফোন খারাপ হয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি। চার্জ ৫0 %কমে গেলেই আবার চার্জে বসিয়ে দিন। ফোনে মিনিমাম ৫০থেকে ৯0% হওয়া উচিত, কখনোই যেন 20%এর নীচে না নামে সেটা খেয়াল রাখতে হবে।

ফোন ঘাঁটাঘাটি করলে অনেক সময় ফোন গরম হয়ে যায়, চার্জ থেকে খুলে আনার পরও বেশ গরম থাকে ফোন। তো এক্ষেত্রে কি করতে হবে? যখনই ফোনে চার্জ দেবেন তখনই ফোনের কভারটা খুলে চার্জ দিন। এতে দেখবেন আপনার ফোন একদম ই  গরম হবে নাও সুরক্ষিত থাকবে।

আবার অনেকে কি করেন, পাওয়ার ব্যাঙ্ক থেকে চার্জ দেওয়ার সময়ও কাজ করতে থাকেন, এটা কখনো করবেন না। এমনিতেই পাওয়ার ব্যাঙ্ক থেকে চার্জ দিলে ফোন গরম হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে লক্ষ্য করে দেখুন যাতে একটা নুন্যতম তাপমাত্রার বেশি যেন না যায়। কারণ এই ভাবে ফোন গরম হলে ফোনের হার্ডওয়ার বা যে অ্যাপ গুলো আছে তার সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সাবধানে কাজ করুন।

সেরকমই কারেন্টের প্লাগে ফোন চার্জ দিয়ে কখনোই কথা বলবেন না বা অন্য কিছু করবেন না, এতে ফোনের ব্যাটারির ক্ষতি আর তার সাথে আপনারও। যেকোনো মুহূর্তে ফোন  বিস্ফোরণ বা ব্লাস্ট করতে পারে।

যদি  ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট ব্যবহার করে আপনার ফোন  চার্জ দিতে হয় অথচ বাড়িতে একাধিক পুরনো মাইক্রো ইউএসবি পোর্টের চার্জার আছে সেক্ষেত্রে অ্যাডাপটার ব্যবহার করে নিয়মিত স্মার্টফোন চার্জ করতে শুরু করা অত্যন্ত বোকামি, এতে কি হবে আপনার ফোনের  ব্যাটারির আয়ু ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। তাই ইউএসবি টাইপ-সি পোর্টের ব্যবহারই বিপদমুক্ত। কোনো সমস্যায়  না পড়লে চার্জের সময় সময় অ্যাডাপটার ব্যবহার এড়িয়ে যাওয়াই বুদ্বিমানের কাজ।

সারা দিনের শেষে ফিরে ফোনে একদম চার্জ থাকে না, তখন আপনারা সবাই কি করেন? চার্জ দিয়ে ঘুমাতে চলে যান। এতে ফোনের ব্যাটারির আয়ু কমতে থাকে। সবসময় চেষ্টা করবেন ৫০% চার্জ খরচ হয়ে গেলে চার্জ দিতে আর ৯০% হয়ে গেলে ডিসকানেক্ট করে দেবেন ফোন। এতে ফোনের ব্যাটারি অনেক দিন যাবে।

ভালো কম্পানির যে অরিজিনাল চার্জার গুলো আছে তাতে সব সময় আউটপুট লেখা থাকবে। নতুন চার্জার কেনার সময় পুরনো চার্জারের আউটপুট দেখে কিনুন। ফাইভ-ভি ওয়ান অ্যা অথবা ফাইভ-ভি টু অ্যা এই ধরনেরইষ লেখা থাকে । অরিজিনাল চার্জারের থেকে বেশি কারেন্টের চার্জার ব্যবহার না করতে পারাই আপনার জন্য  ভালো। তবে আপনার ফোনে যদি কুইক চার্জ সাপোর্ট থাকে আর ফোনের সাথে কম্পানি যদি কুইক চার্জার না দেয় সেই ক্ষেত্রে আলাদা কুইক চার্জার কিনে চার্জ করলে চোখের নিমেষেই কাজ করবে অথচ ব্যাটারি র কোনত ক্ষতি হবে না। যখনই  নতুন চার্জার কিনবেন তখন কুইক চার্জ ভার্সান মিলিয়ে নিতে ভুলবেন না।