শরিয়াহ সম্মত ওয়েব পরিবেশ. আরওসন্ধানকরুন

বছরের শুরুতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর দু’আ

frank-mckenna-OD9EOzfSOh0-unsplash
Fotoğraf: Frank Mckenna-Unsplash

“হে আল্লাহ, আপনি চিরঞ্জীব; এই নতুন বছরের শুরুতে আপনি আমাকে শয়তান থেকে সুরক্ষা দান করুন এবং নিজের নফসের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখার তাওফিক দান করুন, যা মন্দের দিকে ধাবিত করে এবং আমাকে এমন কাজের তাওফিক দান করুন যা আমকে আপনার নিকটবর্তী করবে!”

সামগ্রিক ইসলামী জীবনযাত্রাকে ‘হায়াতুন তাইয়্যিবা’ হিসাবে অভিহিত করা হয়। কুরআনে বিভিন্নভাবে এটি উল্লেখিত হয়েছে যেমন ঋতুর পরিবর্তন এবং বছরের পবিত্র, অলঙ্ঘনীয় মাস ইত্যাদি।

ঋতুর পরিবর্তন এবং এর প্রভাবের উদাহরণ হিসাবে কুরআনে বলা হয়েছেঃ

“তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন অতঃপর আমি এর দ্বারা সর্বপ্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি, অতঃপর আমি এ থেকে সবুজ ফসল নির্গত করেছি, যা থেকে যুগ্ম বীজ উৎপন্ন করি। খেজুরের কাঁদি থেকে গুচ্ছ বের করি, যা নুয়ে থাকে এবং আঙ্গুরের বাগান, যয়তুন, আনার পরস্পর সাদৃশ্যযুক্ত এবং সাদৃশ্যহীন। বিভিন্ন গাছের ফলের প্রতি লক্ষ্য কর যখন সেুগুলো ফলন্ত হয় এবং তার পরিপক্কতার প্রতি লক্ষ্য কর। নিশ্চয় এগুলোতে নিদর্শন রয়েছে ঈমানদারদের জন্য”। (আল কুরআন – ৬:৯৯)

“তিনিই উদ্যান সমূহ সৃষ্টি করেছে-তাও, যা মাচার উপর তুলে দেয়া হয়, এবং যা মাচার উপর তোলা হয় না এবং স্বাদবিশিষ্ট খেজুর বৃক্ষ ও শস্যক্ষেত্র এবং যয়তুন ও আনার সৃষ্টি করেছেন-একে অন্যের সাদৃশ্যশীল এবং সাদৃশ্যহীন। এগুলোর ফল খাও, যখন ফলন্ত হয় এবং হক দান কর কর্তনের সময়ে এবং অপব্যয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না।” (আল কুরআন – ৬: ১৪১)

পবিত্র মাসগুলির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে:

“নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না”। (আল কুরআন – ৯:৩৬)

অনেকে বছরের সমাপ্তি এবং বছরের শুরুতে উদযাপন ছাড়া আর কিছুই বোঝে না; অ্যালকোহল এবং ড্রাগের মাধ্যমে মন, শরীর এবং আত্মাকে অশান্তিতে ফেলে দেওয়ার আরেকটি সুযোগ পায় তারা। দুঃখের বিষয় হলো, অনেক মুসলমানও এর সাথে জড়িত।

অপরপক্ষে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য নববর্ষ ছিল আল্লাহর নিকট প্রার্থনার এক মুহূর্ত।

আমাদের নতুন বছরটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুকরণে শুরু করার জন্য আসুন আমরা তাঁর আচরণ সম্পর্কে একটু পর্যালোচনা করি।

ইকবাল গ্রন্থে সাইয়িদ ইবনে তাওস মুহাম্মদ ইবনুল ফুদাইল আল-সায়রাফি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আমার কাছে ইমাম আলী ইবনু মুসা আর-রেধা থেকে তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, “মহররমের প্রথম দিনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম ২ রাকাআত সালাত আদায় করতেন, অতঃপর তিনি তাঁর হাত উঠাতেন এবং নীচের বাক্যগুলি দ্বারা তিনবার দু’আ করতেন”:

“হে আল্লাহ, আপনি চিরঞ্জীব; এই নতুন বছরের শুরুতে আপনি আমাকে শয়তান থেকে সুরক্ষা দান করুন এবং নিজের নফসের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখার তাওফিক দান করুন, যা মন্দের দিকে ধাবিত করে এবং আমাকে এমন কাজের তাওফিক দান করুন যা আমকে আপনার নিকটবর্তী করবে!

হে পরাক্রমশালী প্রভু! যার কোনো শরীক নেই। আপনি ছাড়া কারও কোনো রক্ষাকারী নেই। আপনি ছাড়া কারও কোনো অভিভাবক নেই। আপনি ছাড়া কারও কোনো সাহায্যকারী নেই। আপনি ছাড়া কারও কোনো সহায় নেই। আপনি ছাড়া কোনো পুনর্বহালকারী নেই।

হে দানশীল! হে মহান আশার উত্স! হে দুর্বলদের রব! হে উদ্ধারকারী! হে পরিত্রাণদাতা! হে দানশীল!

আপনিই তিনি যিনি চাঁদের উজ্জ্বলতা দিয়ে রাতের অন্ধকার দূরীভূত করেন, সূর্যের রশ্মি দিয়ে দিনকে আলোকিত করেন এবং ঝর্ণা থেকে পানি নির্গমণ করেন!

হে আল্লাহ! আপনার কোনো অংশীদার নেই। হে আল্লাহ! মানুষ (আমার সম্পর্কে) যা কিছু ভাল অনুমান করে তা বাস্তবে পরিণত করুন এবং তারা যা জানে না তা ক্ষমা করে দিন। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট; তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আমি তাঁরই উপর ভরসা করি এবং তিনিই আরশের অধিপতি।

আমরা বিশ্বাস করি – সবকিছুই আমাদের রবের পক্ষ থেকে হয়। উপদেশ গ্রহণকারী ব্যতীত কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না। হে প্রভু! আমাদের অন্তরকে বিচ্যুত করবেন না এবং আমাদের প্রতি আপনার অনুগ্রহ দান করুন; নিশ্চয়ই আপনি সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র”।

আমাদেরও এই দু’আটি পাঠ করা উচিত এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিনিধি হিসাবে আমাদের করণীয় সম্পর্কে চিন্তা করা উচিত।

কিছুবলারথাকলে

যোগাযোগকরুন