SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

বদরের যুদ্ধে পরাজিত কুরাইশদের হাহাকার

ইতিহাস ১০ ফেব্রু. ২০২১
জানা-অজানা
islam
© Guruxox | Dreamstime.com

মক্কার সুবক্তা সুহাইল ইবনে আমরও ছিল এই বন্দীদের ভেতরে। হযরত ওমর মুসলমানদের বিরুদ্ধে তিনি যেন আর কোন প্রকার বক্তব্য দিতে না পারেন সেইজন্যে তার সামনের দুটো দাঁত ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু নবীজি এই প্রস্তাবে রাজি হননি। হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় সোহাইল মক্কার পক্ষে প্রতিনিধি ছিলেন। এবং এর আরও অনেক পরে তিনি সত্য ধর্ম অর্থাৎ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। মাত্র দুজন যুদ্ধবন্দীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এর মধ্যে একজন হচ্ছেন নাদার ইবনে হারিস আর অপরজন হচ্ছেন উকবা ইবনে আবু মুয়াইত।

কুরাইশদের হাহাকার 

সাফরা উপত্যকায় বদর থেকে ফেরার সময় নাদার ইবনুল হারিস এবং ইরকুজ জুবয়া নামক স্থানে উকবা ইবনে আবু মুয়াইতকে হত্যা করা হয়। কুরাইশরা যে এই যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে এই খবর হাইসমান ইবনে আবদুল্লাহ মক্কায় নিয়ে আসেন। যুদ্ধে নিহতদের শোকে মক্কায় আহাজারি ও মাতম শুরু হয়। কিন্তু তারা সচেতন হয়ে যায় এইজন্য যে তাদের মাতম দেখে মুসলিমরা যাতে আনন্দিত না হয়। এছাড়াও তাড়াহুড়া না করতে বলা হয় মুক্তিপনের জন্য। এ যুদ্ধে পরাজয়ের পর কুরাইশরা বদরের যুদ্ধের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এবং এই যুদ্ধের পরের বছর উহুদের যুদ্ধে ২ বাহিনী আবার পুনরায় মুখোমুখি হয়। এই যুদ্ধের ফলে স্বল্প এবং সুদূর প্রসারী প্রভাব সৃষ্টি হয়। বদরের যুদ্ধের জয়ের ফলে নবীজির নেতা হিসাবে কর্তৃত্ব বহু বংশ বৃদ্ধি পায়। গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায় তার। ফলে মুসলমানদের শক্তি বৃদ্ধি পায়। আরবে অবস্থিত অন্যান্য গোত্রসমূহ এই যুদ্ধে মুসলিমদের জয়ের ফলে তাদেরকে নতুন শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করতে শুরু করে। ইসলাম গ্রহণ করার জন্য এ সময় অনেকেই মদিনায় আসেন। যারা বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল সেইসব অংশগ্রহণকারী মুসলমানদেরকে খুবই সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা হতো। অপরদিকে কুরাইশদের যুদ্ধে পরাজয় বরণ এর মধ্য দিয়ে তাদের নেতৃত্বে পরিবর্তন ঘটে।

বদরের যুদ্ধে সত্যের পরীক্ষা 

যুদ্ধে আবু জাহল সহ মক্কার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল এবং মৃত্যুবরণ করেছিল এর ফলে আবু সুফিয়ান নতুন নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। কুরাইশদের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। অবশ্য আবু সুফিয়ান ইসলাম গ্রহণ করেন মক্কা বিজয়ের সময়। মুসলিম সাম্রাজ্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মুসলিম হওয়ার পর। তার ছেলে মুয়াবিয়া উমাইয়া খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন। প্রকৃতপক্ষে বদরের যুদ্ধ ছিল সত্যের সাথে মিথ্যার পরীক্ষার লড়াই। ইতিহাসবিদদের মতে এই বিজয়ের ফলে মুসলমানদের আল্লাহর বাণী প্রচার এবং প্রসার এর ক্ষেত্রটি একধাপ এগিয়ে গিয়েছিল। যদি এই যুদ্ধে মুসলিমরা পরাজয় বরণ করতে তাহলে পৃথিবীর বুকে ইসলাম প্রচার ক্ষণিকের জন্য হলেও বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

এ জয়ের ফলে মুসলমানদের প্রতি অমুসলিমদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয়। অপরদিকে অমুসলিমদের প্রতি মুসলিমদের অর্থাৎ বিজয়ীদের আচরণ ছিল আরেক ঐতিহাসিক ঘটনা। কারণ যুদ্ধ জয়ের পর বিজয়ীরা পরাজিতদের সাথে অতি উত্তম আচরণ করেছিল। এসকল ঘটনায় ছিল ইতিহাসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আর এই জয়ের মধ্য দিয়েই মুসলিম জাতি দ্রুততার সাথে সারা পৃথিবীতে মহান রাব্বুল আলামিনের শাশ্বত বাণী নিয়ে ছড়িয়ে পড়ে।