SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

বদরের যুদ্ধে মুক্তি দেওয়া হয় বন্দীদের

ইতিহাস ০৯ ফেব্রু. ২০২১
জানা-অজানা
Газан-хан – монгольский хан-мусульманин
Газан-хан на коне //

ওই সময়ের রীতিনীতি অনুযায়ী শুরু হয় বদরের যুদ্ধের লড়াই। উতবা ইবনে রাবিয়া, শাইবা ইবনে রাবিয়া ও ওয়ালিদ ইবনে উতবা কুরাইশদের মধ্য থেকে লড়াইয়ের জন্য সামনের দিকে অগ্রসর হয়। আনসারদের মধ্য থেকে আউফ ইবনে হারিস, মুয়াবিজ ইবনে হারিস ও আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা তাদের আহ্বান শুনে এগিয়ে আসে। তবে কুরাইশদের ভেতরে যে যোদ্ধারা ছিল তারা তাদের কটাক্ষ করতে থাকেন। তারা বলেন যে তারা তাদের যোগ্য না। তারা আরো বলেন তাদের সমশ্রেণীর কাউকে যেন লড়াইয়ের জন্য প্রেরণ করা হয়। এই ঘটনার পরে তাদের বদলে হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রা:), উবাইদা ইবনে হারিস (রা:) ও আলি ইবনে আবি তালিবকে (রা:) প্রেরণ করা হয়। হামজার সাথে শাইবা, আলির সাথে ওয়ালিদ ও উবাইদার সাথে উতবা লড়াইয়ে লিপ্ত হন। কুরাইশদের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী তিনজনই লড়াইয়ে নিহত হয়। তিনজন শীর্ষপর্যায়ের মৃত্যু স্থানীয় যোদ্ধার মৃত্যুর ফলে কুরাইশদের মনোবল দুর্বল হয়ে পড়ে।

বদরের যুদ্ধে বীর মুসলিমরা 

কুরাইশরা মুসলিমদের উপর আক্রমণ শুরু করে দেয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে নবীজির নির্দেশনা দিয়েছিলেন যে শত্রুপক্ষের সংখ্যায় বেশি কাছে চলে এলে যেন তীর নিক্ষেপ করা হয়। মুসলিমরা “ইয়া মানসুর আমিত” স্লোগান দিতে দিতে কুরাইশদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে মক্কার কুরাইশরা পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। মুয়াজ ইবনে আমর ও মুয়াজ ইবনে আফরা কুরাইশ বাহিনীর পক্ষের সর্বাধিনায়ক অর্থাৎ আবু জাহেল কে হত্যা করে। এদিকে বিলালের হাতে নিহত হন উমাইয়া ইবনে খালাফ। যিনি তার সাবেক মনিব। বিকেলের দিকে যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়। পবিত্র কোরআনুল কারীমে উল্লেখ রয়েছে যে এই যুদ্ধে মুসলমানদের সাহায্য করার জন্য হাজারো ফেরেশতা সহায়তার জন্য এসেছিল। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যে সকল মুসলিম নিহত হয়েছিলেন তাদের যুদ্ধক্ষেত্রেই দাফন করা হয়। আরবের নীতি অনুযায়ী মুসলিমরা যুদ্ধ জয় করার পরেও আরো তিন দিন যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান করেন এবং এরপর মদিনায় ফিরে আসেন।

বদরের যুদ্ধ বিজয় 

মুসলিমরা যুদ্ধ বিজয়ের পর মদিনায় ফিরে আসেন। তাদের সাথে কুরাইশদের কয়েকজন নেতা সহ ৭০ জন বন্দি ছিল। যুদ্ধবন্দীদের সাথে সর্বোচ্চ মাত্রার সদ্ব্যবহার করা হয়েছিল। এমনকি খাবারের সময় মুসলিমরা নিজেরা খেজুর খেয়ে তাদের ক্ষুধা নিবারণ করলেও বন্দীদেরকে রুটি খেতে দিত। যুদ্ধ বিজয়ীদের যুদ্ধবন্দীদের সাথে এই রকম আচরণ ইতিহাসে খুবই বিরল। মোহাম্মদ (সা:) বন্দীদের ব্যাপারে কি করনীয় এই বিষয়ে তাঁর সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করেন। ওই পরামর্শ সভায় আবু বক্কর মত দেন যে, সকল বন্দি মুসলমানদের ভাই, কেউ একই বংশের অথবা কেউ আত্মীয়। তাই তাদের কাছ থেকে তাদের মুক্তিপণ হিসেবে অর্থ নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া উচিত। এতে মুসলিমদের অর্থ তহবিল সমৃদ্ধ হবে আর ভবিষ্যতে তারা ইসলাম গ্রহণের সুযোগ পাবে।

বন্দীমুক্তির সিদ্ধান্ত 

অপরদিকে উমর ইবনুল খাত্তাবের মত অনুযায়ী বন্দীদের প্রতি কোন প্রকার দয়া, ক্ষমা প্রদর্শন না করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়। নবীজি আবু বকরের পরামর্শকে মেনে নেন এবং মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মুক্তিপণের জন্য এক হাজার থেকে চার হাজার দিরহাম নির্ধারিত হয়। তবে এর বাইরে মুত্তালিব ইবনে হানতাব, সাইফি ইবনে আবি রিফায়া ও আবু ইজজা জুমাহিসহ বেশ কয়েকজনকে কোন প্রকার মুক্তিপণ ছাড়াই ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। এদের মধ্যে শেষের দুইজন নিহত হয় পরবর্তী উহুদের যুদ্ধে। আর বন্দিদের মধ্যে যারা লেখাপড়া জানতো তারা ১০ জন নিরক্ষর মুসলিমকে শিক্ষা দান করলে তা মুক্তিপণ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়। এই বন্দিদের মধ্যে নবীজির মেয়ে জয়নব বিনতে মুহাম্মাদের স্বামী আবু আসও ছিলো। তিনি জয়নবকে মদিনায় আসতে কোন প্রকার বাধা প্রদান করবেন না এই শর্তে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।