SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

বন্ধুত্বের সম্পর্ক গঠনে ইসলামের দিক-নির্দেশনা

পুরুষ ০৪ ফেব্রু. ২০২১
ফোকাস
বন্ধত্বের
© Abdul Rahim | Dreamstime.com

মানুষের কর্ম, চিন্তা-চেতনা ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রভাবিত হয় বন্ধুত্বের কল্যাণে। এ কারণে কাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হবে এবং কাদেরকে বর্জন করে চলতে হবে সে ব্যাপারে ইসলামে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহ তা’আলা বলেন,

“ঈমানদাররা একে অপরের বন্ধু। তারা উত্তম কথা শিক্ষা দেয় এবং মন্দ কার্যাদি থেকে বিরত রাখে। সালাত প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত আদায় করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবনযাপন করে। তাদের ওপর আল্লাহ তা’আলা অনুগ্রহ করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, সুকৌশলী।” (আল কুরআন-৯:৭১)

বন্ধুত্বের প্রভাব যে কতটা সুদূরপ্রসারী তা রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস থেকেও জানা যায়। তিনি বলেছেন, “বন্ধু তার আপন সহচরকেও নিজের ধর্মে ও নিজের আকিদা বিশ্বাসের দিকে নিয়ে আসে।” তাই উত্তম বন্ধুর গুরুত্ব অপরিসীম। এ প্রসঙ্গে নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “একাকী নিঃসঙ্গতার চেয়ে ভালো বন্ধু উত্তম আর নিঃসঙ্গতা মন্দ বন্ধুর চেয়ে উত্তম।” এর অর্থ হল- ভাল এবং যথার্থ বন্ধু যদি নাও থাকে তাহলেও তা একজন মন্দ ও অযোগ্য বন্ধু থাকার চেয়ে ভাল।

বন্ধুত্বের সঙ্গী নির্বাচনে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মুমিন ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক মজবুত করো। এবং তোমার পানাহারে তাকেই শরীক করো।” এখানে শুধুমাত্র মুমিন ব্যক্তিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার কথা বলা হয়েছে। তাহলে মুমিন ছাড়া কি আর কাউকে বন্ধু বানানো যাবে না? এ প্রশ্নের উত্তর স্বয়ং আল্লাহই দিয়েছেন। তিনি বলেন,

“হে ঈমানদারগণ, তোমরা ঈমানদারদেরকে বাদ দিয়ে কোনো কাফেরকে নিজেদের অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না।” (আল কুরআন-৪:১৪৪)

অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেন,

“ঈমানদার ব্যক্তিরা কখনো ঈমানদারদের বদলে কোনো কাফেরকে বন্ধু বানাবে না। যদি তোমাদের কেউ তা করে, তবে আল্লাহর সঙ্গে তার কোনোই সম্পর্ক থাকবে না।” (আল কুরয়ান-৩:২৮)

এ আয়াতসমূহ দ্বারা এটি সুস্পষ্ট যে, এমন ব্যক্তিদেরকেই আমরা বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করব যারা মুমিন, ধর্মপ্রাণ, সত্যবাদী, সদাচারী, সৎকাজে অভ্যস্ত এবং নীতিবান।

হাদিসে বলা হয়েছে, “মানুষ তার বন্ধুর আদর্শে গড়ে ওঠে। সুতরাং বন্ধু নির্বাচনের সময় খেয়াল করা উচিত যে, সে কাকে বন্ধু বানাচ্ছে।” কুরআন-সুন্নাহর দ্যর্থহীন বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হল যে, সব ধরনের মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করাকে ইসলাম কখনই সমর্থন করে না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তো আরও বলেছেন,

“দুনিয়াতে যার সঙ্গে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা রয়েছে, আখিরাতেও তার সঙ্গেই তার হাশর হবে।”

এজন্য বন্ধু নির্বাচনের আগে তাকে পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি।

৩টি গুণ দেখে বন্ধু নির্বাচন করতে হবে। গুণ তিনটি হল

১) বন্ধুকে হতে হবে জ্ঞানী ও বিচক্ষণ

২) বন্ধুর চরিত্র হতে হবে মাধুর্যময় ও সুন্দর

৩) বন্ধুকে হতে হবে নেককার ও পূণ্যবান

অপরদিকে কাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না সে সম্পর্কেও রয়েছে ইসলামের দিক নির্দেশনা। পাঁচ ব্যক্তিকে বন্ধু বানানো যাবে না-

১) মিথ্যাবাদী, ২) নির্বোধ, ৩) কৃপণ, ৪) কাপুরুষ এবং ৫) গুনাহে অভ্যস্ত ফাসেক ব্যক্তি

বন্ধুর হক সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা

যার সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে তার আকীদা-আমল, লেনদেন, আখলাক, আচার-ব্যবহার উত্তমরুপে আগে থেকেই যাচাই করে নিতে হবে। যদি তার মধ্য উক্ত বিষয়গুলোর পাওয়া যায় তাহলে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যায়। নতুবা তার থেকে দূরে থাকাটাই বাঞ্ছনীয়। হাদীসে অসৎ সঙ্গ থেকে বেঁচে থাকার জোর তাগিদ এসেছে। অভিজ্ঞতা ও প্রত্যক্ষ দর্শন থেকেও এর প্রভূত ক্ষতিসমূহ উপলদ্ধি করা যায়। উপযুক্ত মানুষ পেলে বন্ধুত্ব করতে কোনো বাধা ইসলামে নেই, বরং সত্যিকারের বন্ধুত্বের অনুভূতি বড়ই সুখকর এবং উপকারী।

ইসলামে বন্ধুর হক সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা রয়েছে। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে নিম্নে কয়েকটি আলোচিত হল

তার প্রয়োজনে নিজের জান-মাল তার জন্য উৎসর্গ করতেও কৃপণতা করা যাবে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করবে আল্লাহও তার প্রয়োজন পূরণ করে দেবেন। যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভাইয়ের কোনো বিপদ দূর করে দেবে আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিনে ঐ সাহায্যকারীর বিপদ দূর করে দিবেন।” (বুখারী, মুসলিম)

মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কাজ তার থেকে প্রকাশ পেলে তা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে হবে। ঘটনাক্রমে মনোমালিন্য হয়ে দিলে তৎক্ষনাৎ সর্ম্পক ঠিক করে নিতে হবে। সাধারণ বিষয়কে দীর্ঘায়িত করা যাবে না।

বন্ধুর সংশোধন ও প্রশিক্ষণ কাজে কখনো অলসতা করা যাবে না। নিজের বন্ধুদের মধ্যে কোনো অভ্যাস তৈরী করতে দেওয়া যাবে না যা তার সংশোধনের পথে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায় (যেমন-আত্মতুষ্টি, অহংকার ইত্যাদি)। বন্ধুদেরকেও সর্বদা তাদের ভুলত্রুটিসমূহ স্বীকার করে নেওয়ার জন্য উৎসাহ দিতে হবে।

প্রকৃত বন্ধু 

তারাই মূলত প্রকৃত বন্ধু যারা সচেতন দৃষ্টিতে একে অপরের প্রতি খেয়াল রাখে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “তোমরা প্রত্যেকেই তোমাদের আপন ভাইদের জন্য আয়না স্বরূপ। সুতরাং সে যদি তার ভাইয়ের মধ্যে মন্দ কোনোকিছু দেখে তবে তা তার থেকে দূর করে দিবে।” (তিরমিযি)

বন্ধুর কল্যাণ কামনায় কখনও ত্রুটি করা যাবে না। বন্ধুর পরামর্শগুলোকেও আন্তরিকভাবে শ্রবণ করতে হবে। এবং বাস্তবায়নযোগ্য হলে তা গ্রহণও করতে হবে। বন্ধুর জন্য নিজেও দু’আ করবে এবং বন্ধুর নিকটও দু’আর আবেদন জানাবে। এছাড়া বন্ধুর সাথে হাদিয়া আদান-প্রদান করবে।

এভাবে ইসলাম সুন্দর বন্ধুত্বের সম্পর্ক গঠনে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।