বন্ধ নাকের সমস্যায় ঘরোয়া টোটকা? কাজে লাগান তেজপাতা ও রসুন

শারীরিক স্বাস্থ্য Contributor
জ্ঞান-বিজ্ঞান
বন্ধ নাকের সমস্যায়
Photo : Dreamstime

বন্ধ নাকের সমস্যায় ঘরোয়া টোটকাগুলি কী হতে পারে, বা সেগুলি কীভাবে কাজ করে, তা নিয়ে আপনাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে। বর্তমানের করোনা পরিস্থিতিতে আমরা সকলেই সর্দিকাশি থেকে দূরে থাকতে চাইছি। ফলে সামান্য সর্দিকাশি হলে বা নাক বন্ধ হয়ে গেলেই চিন্তা শুরু হয়ে যাচ্ছে প্রত্যেকের। সর্দিকাশির সময় নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া খুবই অস্বস্তির বিষয়। নাক বন্ধ হয়ে গেলে শ্বাস নিতে সমস্যা হয়, খেতে, ঘুমোতেও সমস্যা হয়। বন্ধ নাকের সমস্যায় ঘরোয়া টোটকা হিসেবে তেজপাতা ও রসুন দারুণ কাজে লাগে। নাক বন্ধ হলে কীভাবে তেজপাতা ও রসুনকে ব্যবহার করবেন, আজ আমরা সেটি নিয়ে আলোচনা করব।

তেজপাতা ও রসুন: নানা রোগে কার্যকরী

প্রাচীনকালে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা সহ অন্যান্য চিকিৎসায় তেজপাতা ও রসুনকে কাজে লাগানো হত। সর্দিকাশির সমস্যায়, মাথা ধরা থেকে শুরু করে সাইনাসের সমস্যা, উদ্বেগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে তেজপাতা ব্যবহারের নিদান দিতেন চিকিৎসকেরা। তেজপাতায় ১.৩% এসেনশিয়াল অয়েল থাকে, যার মধ্যে ৪৫% ইউক্যালিপটল, ১২% অন্যান্য টারপিনসমূহ, ৮-১২% টারপিনাইল অ্যাসিটেট, ৩-৪% সেসকুইটারপিন, ৩% মিথাইলইউজিনল ইত্যাদি থাকে। এইসমস্ত যৌগ সর্দি জমে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি দিতে পারে।

আর রসুনের ওষধিগুণের কথা তো সকলেরই জানা। বিখ্যাত রোমান দার্শনিক প্লিনির লেখায় রসুনের নানাবিধ উপকারিতার কথা পাওয়া যায়। একাদশ শতকের পারস্যের খ্যাতনামা চিকিৎসাবিদ ইবন সিনার ‘দ্য ক্যানন অফ মেডিসিন’-এও আর্থ্রাইটিস, সাপ ও পোকামাকড়ের কামড়, সর্দিকাশির চিকিৎসায় ‘অ্যান্টিবায়োটিক’ হিসেবে রসুনকে ব্যবহারের কথা জানা যায়। কিন্তু সর্দিকাশি হলে বন্ধ নাকের ঘরোয়া টোটকা হিসেবে কীভাবে ব্যবহার করবেন তেজপাতা আর রসুন?

বন্ধ নাকের সমস্যায় ঘরোয়া টোটকা হিসেবে তেজপাতা

অতিরিক্ত সর্দিকাশির ফলে শ্লেষ্মা জমে আপনার নাক যদি বন্ধ হয়ে যায়, বন্ধ নাকের সমস্যায় ঘরোয়া টোটকা হিসেবে কাজে লাগান তেজপাতা। তেজপাতায় থাকা ইউক্যালিপটল নাকে জমে থাকা সর্দি দূর করে। এক্ষেত্রে স্টিম নিতে পারেন। পানি গরম করে ওতে গোটা পাঁচেক তেজপাতা ফেলে দিন। এরপর সেই পানিতে স্টিম নিন। দেখবেন চট করে নাক ছেড়ে যাচ্ছে। তেজপাতার সুন্দর গন্ধ আপনার শরীরে একটি আরামদায়ক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া তেজপাতা কিন্তু বুকে জমে থাকা কফকেও বের করে দিতে সক্ষম। খেতে পারেন তেজপাতার চা। এককাপ পানি ফুটিয়ে ওতে তিনটে তেজপাতা দিন। তারপর ১০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে খেয়ে নিন। ইচ্ছে হলে মধুও দিতে পারেন। কারণ মধু সর্দিকাশি জনিত প্রদাহ দূর করে ও দেহে জমে থাকা অতিরিক্ত শ্লেষ্মা বের করে দেয়। দিনে একবার তেজপাতার চা খেলে উপকার পাবেন।

বন্ধ নাকের সমস্যায় ঘরোয়া টোটকা হিসেবে রসুন

সর্দিকাশির সমস্যায় বা বন্ধ নাকের ঘরোয়া টোটকা হিসেবে রসুনের ব্যবহারের ইতিহাস অতি প্রাচীন। রসুন প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। এর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণাবলী সাধারণ সর্দিকাশি থেকে সহজেই উপশম দেয়। এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যাদের চট করে সর্দিকাশি লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাঁরা যদি ঠান্ডার মরশুমে ১২ সপ্তাহ বা তিনমাস রসুনের সাপ্লিমেন্ট নিয়ম করে খান, তাহলে সর্দিকাশির প্রবণতা উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পায়। থেঁতো করার ফলে রসুন থেকে অ্যালিসিন নামক একধরনের যৌগ বের হয় যা বন্ধ নাকে জমে থাকা মিউকাসকে তরল করে বের করে দিতে সাহায্য করে। এছাড়া সর্দিকাশিজনিত প্রদাহের সমস্যা থেকে রসুন মুক্তি দিতে পারে। রসুনের সর্বাধিক কার্যকারিতা পেতে হলে কাঁচা রসুন খাওয়াই বাঞ্ছনীয়। তবে অনেকেই রসুনের উগ্র গন্ধ সহ্য করতে পারেন না। তাঁরা রান্নায় বেশি করে রসুন ব্যবহার করতে পারেন, উপকার পাবেন। এছাড়া নিতে পারেন রসুনের স্টিম।

কীভাবে নেবেন তেজপাতা বা রসুনের স্টিম?

একটি পাত্রে পানি নিয়ে ভাল করে ফুটিয়ে নিন। তারপর কয়েকটি রসুনের কোয়া খোসা ছাড়িয়ে থেঁতো করে গরম পানিতে দিন। এরপর গ্যাস বন্ধ করে এই রসুন ফোটানো পানি দিয়ে স্টিম নিতে পারেন। দিনে দু’বার করে এই স্টিম নিলে খুব তাড়াতাড়ি উপকার পাবেন। একইভাবে বানিয়ে নিতে পারেন তেজপাতার স্টিম।

সর্দিকাশির ফলে আপনার যদি নাক বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আর চিন্তার কোনও কারণ নেই। তাই বন্ধ নাকের সমস্যায় ঘরোয়া টোটকা হিসেবে ব্যবহার করুন তেজপাতা কিংবা রসুন, আর দেখুন এদের জাদু!