বর্তমান সময়ে বাচ্চাদের হাতে ফোন? কোন অপকার করছি আমরা?

শিশু Tamalika Basu
জ্ঞান-বিজ্ঞান
বাচ্চাদের হাতে ফোন

বর্তমান সময়ে বাচ্চাদের হাতে ফোন দেওয়ার কোনো বয়স থাকে না। এক থেকে দেড় বছরের বাচ্চাদের হাতে মোবাইল বা ট্যাব তুলে দেওয়া আদতে তাদেরই ক্ষতি করা, এমনই একটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে। সাত থেকে আট বছরের আগে কোনো বাচ্চার হাতে কোনোরকম ডিভাইস দেওয়া উচিত নয় ওই বিজ্ঞানীদের মতে। অল্প বয়সে হাতে এইসব দিয়ে দেওয়ার মানে তাদের ভাবনা শক্তি এবং মস্তিষ্কের গতি কমিয়ে দেওয়া।

খেলাধূলার অভ্যাস চলে যাওয়া

 দেশের চিকিৎসাবিদরা যথেষ্ট চিন্তিত যুব সমাজের শারীরিক ক্রিয়াকলাপ নিয়ে। মাঠে খেলতে যাওয়া এরা একপ্রকার বন্ধ করে দিয়েছে এরা, তার উপর খেলার জায়গায় আজ আর প্রায় নেই বললেই চলে। অল্প বয়স থেকেই বিভিন্ন রোগে ভুগতে শুরু করছে শিশুরা, অতি সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সারাদিন একজায়গায় বসে থাকছে একটা জিনিস নিয়ে এতে তার সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাজ করতে পারে না সঠিকভাবে। মাঠে খেলার বদলে মোবাইল, ল্যাপটপের সাথে কাটানো সময় দ্রুত হারে বাড়ছে।

ধৈর্য কমে যাওয়া

একটি যেকোনো ডিভাইস ইন্টারনেটর সাহায্য চলে অতি দ্রুত। একের পর এক ছবি আসতেই থাকে, তাদের পছন্দের জিনিস ক্ষণিকের মধ্যে হাতে পেয়ে যায়। এতে তাদের বাস্তবের যেকোনো জিনিসের প্রতি ধৈর্য থাকেনা। তারা অতি অল্পতেই সব কিছুর প্রতি বিরক্ত প্রকাশ করে। ডিভাইসের ছবিগুলো পরপর পরিবর্তন হতে থাকলেও সাধারণ জীবনের ঘটনাগুলো এত দ্রুত হয়না।

বই পড়ার অক্ষমতা 

বেশিরভাগ সময় দেখা যায় যেকোনো ডিভাইস ছেলেমেয়েরা (টিভি, ফোন,আইপ্যাড, ল্যাপটপ) ব্যবহার করছে এন্টারটেইনমেন্টের জন্য। বই পড়ার ধৈর্য তারা রাখতে পারছেনা। বই পড়লে যেটা পড়া হলো সেটা নিয়ে ভাবতে হয় কল্পনা করতে হয়, গল্পের প্রেক্ষাপটে নিজেকে বসিয়ে সবটা ভাবতে হয়। কিন্তু এই ভাবনাচিন্তার মধ্যে তারা যেতে পছন্দ করছেনা। একটি ডিভাইসে যা চাইছে সবসময় সেটা চোখের সামনে ভেসে উঠছে, তাদের আর ভাবতে হচ্ছেনা। এই অভ্যাসগুলো আদতে তার জীবনে তাকে পিছিয়ে দিচ্ছে। জীবনে ভাবনা চিন্তা ছাড়া এক পা ফেললেও বিপদে পড়তে পারে।

সময়ের অপচয় 

আমরা আমাদের সারাদিনের বেশিরভাগ সময়টাই নষ্ট করি ডিভাইসের স্ক্রিনে। সময়টা ওখানে নষ্ট করার থেকে পরিবারের লোকেদের সাথে গল্প করলে নিজেদের মনও যেমন বেশি ভালো থাকবে তেমনি পরিবারের সাথেও একটা সুস্থ সম্পর্কও বজায় থাকবে। বাইরে পিকনিক করতে যাওয়া , বিভিন্ন ছোটো কাজে নিজেকে যুক্ত করাটা সার্বিক ভাবে বাচ্চা থেকে বড়- সবার নিজের ভালো।

এইভাবে চলতে থাকলে আগামী প্রজন্ম সমূহ বিপদের মধ্যে পরবে। ভার্চুয়াল দুনিয়ার মায়া কাটিয়ে বাস্তবের মাটি চেনানোর দায়িত্বটা প্রথমে অভিভাবকদেরই নিতে হবে।