বাসায় বাগান করার প্রাথমিক গাইড

প্রকৃতি Contributor
বাগান
ID 175640856 © Chiara Zeni | Dreamstime.com

সৌন্দর্যতার মোহে আমরা সবাই ডুবে থাকতে চাই। সেরকমই ফুলের সৌন্দর্য যা কখনো এড়ানো যায় না, যা সবসময় একটা সুন্দর মনকে আবেশিত করে। ফুলের শখ নেই এরম কেউ নেই বললেই চলে। কিন্তু ঠিকঠাক ব্যবস্থা ও যথাযথ জায়গার অভাবে অনেকেই এই শখ মেটাতে পারে না। শুধু কি ফুল, ফল বা সবজির চাষও আপনি কলতে পারেন।তাই আপনার এই সুন্দর শখটি যাতে নিভে না যায় তার জন্যই আপনাকে জানতে হবে। আপনার বাগান করার জায়গা নেই তা নিয়ে চিন্তার আর কোনো প্রয়োজন নেই। আপনার বাসার বারান্দা আর ছাদই আপনার শখটা মিটিয়ে দেবে।

বাগান করবেন কীভাবে?

প্রথমত আপনাকে একটি ঠিকঠাক  জায়গা বেছে নিতে হবে, যেখানে বেশ আলো খেলবে, ছাদের বা বারান্দায় কোন জায়গায় বাতাস ভালো পাওয়া যাবে সেগুলো খেয়ালে রাখুন।এক্ষেত্রে আপনি টব পদ্ধতিই ব্যবহার করুন। টবে সব গাছ হয় না, ছাদে বা বারান্দায় গাছ বসানোর সময় যেন সেই গাছটি বড় না হয়, মাঝারি বা ছোটো গাছ বসাতে হবে;আর তা যেন দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। কম বর্ষজীবী গাছ ছাদে বা বারান্দায় লাগাবেন না। ভালো হয় যদি হাইব্রিড অথবা কলম জাতীয় গাছ বসাতে পারেন তো, যেমন-আম্রপালি বা মল্লিকা জাতের আম, পেয়ারা, আপেল কুল, লেবু, পেঁপে, জলপাই, আমড়া,করমচা, শরিফা, আতা, ডালিম, এমনকি কলা গাছও লাগানো যেতে পারে।

আপনি সব মৌসুমের ফুলই অল্প অল্প করে লাগাতে পারেন যেমন-বেল, জুঁই, টগর, গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকা, জবা বা শিউলি জাতীয় ফুল বসান।

মাটির টবই বেশি ব্যাবহার হয়, তবে প্লাস্টিক টব হালকা হওয়ায় অনেকেই ঝোলানো টব করে, এতে অর্কিড গাছ লাগিয়ে বাড়ির শোভা বাড়ায়।গাছ অনুযায়ী টব, ছোটো গাছ হলে ছোটো টব, আর মাঝারি গাছের জন্য মাঝারি টব।টবে গাছ লাগানোর আগে টবটা পানি  দিয়ে ধুয়ে ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে। এতে ব্যাকটিরিয়া, ছত্রাক বা পোকার আক্রমণ কম হবে। টবের নীচে একটা ছিদ্র করতে হবে যাতে  অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যেতে পারে। ছিদ্রযুক্ত টবের নীচে নারকেলের ছোবড়া, ইঁট অথবা কাঠ রাখুন। এরপর মোটামুটি দু-ইঞ্চি খালি রেখে উপযুক্ত মাটি ভর্তি করে দিন। মাটি হিসেবে সবচেয়ে উপযুক্ত হল দোআঁশ মাটি, তবে এঁটেল ও বেলে মাটিও ব্যবহার করা যেতে পারে। মাঠ, ক্ষেতের মাটি বা পুকুরের পাশ থেকে মাটি সংগ্রহ করুন, নদীর পলি মাটিও আদর্শ।

বাগান করার আদর্শ মাটিঃ

উপকারী মাটিতে শুকসম জীব ও নানান রকমের জৈবিক পদার্থ মিশে থাকে, যা গাছের সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

মাটির সঙ্গে চুন মিশিয়ে তাতে গোবর সার বা পাতা পচা সার বা কম্পোস্ট সার মিশিয়ে উন্মুক্ত স্থান এ রেখে পচিয়ে নিলে ভালো সার তৈরী হয়। সদ্য বসানো সার এ গাছ বসালে উপকারিতা কম পাওয়া যায় এবং অনেক সময় পচনক্রিয়া চলার সময় যে তাপের সৃষ্টি হয় তাতে গাছ মরে যেতে পারে। তাই আগে সার তৈরি করে নিলে সেই অসুবিধা থাকেনা আর উর্বরতা যুক্ত মাটিও পাওয়া যায়।ফলে গাছ বসানোর সময় থেকেই সার গ্রহণে সক্ষম হয়। সদ্য লাগানো ফুলের চারাকে কিছুদিন ছায়ায় রেখে সহনশীলতা বাড়িয়ে নিয়ে তারপর অল্প অল্প করে রোদ খাওয়ানো যেতে পারে। আস্তে আস্তে মাটিকে শক্ত করতে হবে যাতে গাছ সহজেই না হেলে যায়, শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। টবে গাছের গোড়ার মাটি একেবারে গুঁড়ো না করে চাকার সাহায্য অল্প খুচিয়ে দেওয়াই ভালো। গাছকে অবলম্বন এর জন্য এমনভাবে আলগা সুতো দিয়ে বাঁধতে হবে যাতে গাছের কোনোরকম ক্ষতি না হয়।

মাটিতে জল কম থাকলে যেমন গাছ ভালো হয় না, সেরকম অতিরিক্ত জলেও গাছের গোড়া পচে যায়। তাই বুঝেশুনে গাছের গোড়ায় জল দিতে হবে, এক্ষেত্রে ঝাঁঝরি সবচেয়ে ভালো। এমন জল দিতে হবে যাতে সাতদিন ভেজা থাকে। বর্ষাকাল এ স্যাঁতসেঁতে মাটির ওপর টব রাখা যাবে না, এতে নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো হয় না তাই ইঁট ফাঁক করে টব রাখতে হবে। টবের মাটিতে সার থাকায় আর বাইরে থেকে সার দিতে হয় না, গাছ লাগানোর কিছুদিন পর থেকেই সপ্তাহে একদিন খোলপচা, গোবর ইত্যাদি দিতে হবে জলের সাথে।

গাছে কুঁড়ি ধরলে ৫0 গ্রাম T.S.P ও১00 গ্রাম ইউরিয়া আর ২৫গ্রাম M.P মিশিয়ে প্রতি গাছে তিন গ্রাম করে সপ্তাহ অন্ত দিতে হবে।

হোক না বাড়ির ছাদ বা একচিলতে বারান্দা কিংবা কার্নিশ আপনার শখের বাগান এতেই তৈরী হয়ে যাবে।