বাস্তব বুদ্ধি দিয়ে জীবনসঙ্গী বাছুন

Photo by Ramiz Dedaković on Unsplash
Saygı bir evliliğin temelidir. Fotoğraf: Ramiz Dedaković-Unsplash

বৈবাহিক জীবনে অযাচিত সমস্যা এড়াতে সঠিক জীবন সঙ্গীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হয় অনেক ভেবে চিন্তে। কিছু ভালো মূহুর্তকে সঙ্গী করে বিবেচনা ছাড়া বিবাহ বন্ধনে না জড়ানোই ভালো। জীবনের ভবিষ্যত বিচার করে এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কগুলোকে আমাদের একটু সতর্কতার সাথে দেখতে হবে।

সঠিক জীবনসঙ্গী বাছার ক্ষেত্রে আমাদের জীবনে কিছু মানদন্ড রাখতে হবে, নাহলে আমরা আবেগের বশে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে নেব। যার ফল ভোগ করতে হবে আমাদের বাকি জীবন ধরে।

বাস্তব পথ অবলম্বন করে জীবনসঙ্গী বাছুন

আমাদের জীবনে ছোটো ছোটো অনেক মূহুর্তকে বেশি রকম প্রাধান্য দিয়ে আমরা বড়ো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিই। জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমাদের ভাবনাগুলো আরও পরিণত করতে হবে। অনেকে ভাবে বিবাহের পর সে ঠিক করে ফেলবে সবটা, কিন্তু এই ভাবনাতে সে বেশিরভাগ সময় ভুল প্রমাণিত হয়। আমরা পরিবর্তন করতে চাইলেও বিপরীতে থাকা মানুষটা যদি পরিবর্তন না চায় তবে সমস্যা সৃষ্টি হবে। তাই খাদ্যাভাস , ধর্ম বা ব্যাক্তিগত আরো কিছু ভালোলাগার বিষয়ে নূন্যতম একটা ভারসাম্য রাখা দরকার জীবনসঙ্গী বাছার ক্ষেত্রে। হয়তো একজন খুব সংস্কৃতিমনস্ক কিন্তু আর একজন এটাকে যথেষ্ট সম্মান পর্যন্ত করে না সেক্ষেত্রে এমন ভাববেন না যে বিবাহের পর ঠিক করে ফেলবেন সঙ্গীর স্বভাব-চরিত্র বা ব্যক্তিত্ব। এই সমস্ত বিষয় নিয়ে উল্টে ঝামেলা বাড়বে।

চারিত্রিক গুরুত্ব

আমরা জীবনে আবেগের ছোটো ছোটো মূহুর্তকে খুব ভালোবাসি। অনেকের সাথে সাথে তাই কথা বলার সময় আমরা খুব আনন্দিত হয়ে যাই তার সাথে যদি কোনো আমাদের পছন্দ মিলে যায়। আমরা হয়তো যাকে কল্পনা করি জীবন সঙ্গী হিসাবে, তার সাথে কথা বলা মেলামেশা করার পর যদি আমাদের কিছু পছন্দ মিলে যায়, তখন আমরা আবেগতাড়িত হয়ে যাই। কোনোরকম চারিত্রিক বিবেচনা না করেই আমরা তার সাথে জীবন কাটিয়ে দেবার কথা কল্পনা করে ফেলি। এই সমস্ত হঠাৎ নিয়ে ফেলা সিদ্ধান্ত গুলো আমাদের জীবন ওলট পালট করে দিতে পারে। একটা সম্পর্কে থাকে অনেক দায়িত্ব, একে অপরের প্রতি সন্মান যা সম্পর্কের ভীত হিসেবে কাজ করে। অন্য মানুষের সাথে আচরণ , কৃতজ্ঞতাবোধের মাধ্যমে যেকোনো মানুষের চারিত্রিক দৃঢ়তা প্রকাশ পায়।তাই জীবনসঙ্গী বাছার ক্ষেত্রে এই গুণ গুলি এড়িয়ে যাবেন না।

জীবনসঙ্গীর আবেগ

মানুষ বড় ব্যস্ত, সময় আমাদের জীবনে ভীষণ কম। এই ব্যস্ততার কারণে আমরা হারিয়ে ফেলি অনেক ছোটো ছোটো মূহুর্তকে যার ফল দেখা যায় বৈবাহিক বন্ধনে। আমরা প্রত্যেকে কাউকে আঁকড়ে বাঁচতে চাই কিন্তু যদি সেই ব্যাক্তির থেকেই আমরা ভালোবাসা না পাই তবে আমরা মনে মনে গোমরাই। প্রত্যেকের কাছেই জীবনসঙ্গীর সঙ্গীর সাথে কাটানো আবেগের মূহুর্তগুলি ভীষণ মূল্যবান। এই মূহুর্ত গুলো অনেকসময় ছেলেমেয়ের আলাদা হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে তার জীবনসঙ্গিনীর কাজের প্রশংসা করলে সে অনেকটাই খুশি হবে, আবার অনেক সময় যদি আপনি আপনার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটান কোনো ছোটো ছোটো ঘটনার ভিতর দিয়ে তাহলে সে বেশ আনন্দিত থাকবে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো পুরুষদের ক্ষেত্রে অনেকসময় আলাদা হয় যেমন আপনার সঙ্গী যদি কোনো সমস্যায় পড়ে আপনি তার সাথে সমস্যাগুলো ভাগ করে নিয়ে তাকে একটু মানসিক শান্তি দিতে পারেন ,আবার ধরুন কোনো কাজ তিনি করতে ভরসা পাচ্ছেন না তখন তাকে ভরসা দিয়ে আশ্বস্ত করুন। এই সমস্ত বিষয়গুলো আমাদের বৈবাহিক জীবনের সুখের চাবিকাঠি ।

প্রত্যেক সম্পর্কের শক্ত ভীতের কারণ পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্মান। আমরা বৈবাহিক জীবনে আবদ্ধ হয়ে যাবার পরও অনেক সময় আরও ভালো সঙ্গী পাবার কথা তুলে আনি যার কারণে অযথা ঝামেলা। আমাদের প্রত্যেককে এটা মাথায় রাখতে হবে যে আপনাদের দুজনের সম্মতিতেই আপনার বিবাহ করেছেন। অযথা আরো ভালো কিছু আপনি পেতে পারতেন বারবার বলাতে মনো মনমালিন্য বাড়া ছাড়া কিছু হয়না। তাই যাকে পেয়েছেন তাকে নিয়েই আপনি সর্বোচ্চ সুখী এটা ভাবুন।