বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ কী?

একে অপরের সাথে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া একটা সাধারণ ঘটনা কিন্তু বছরের পর বছর সেই বন্ধনকে দৃঢ় রাখা বস্তুতই চ্যালেঞ্জের। দুটো মানুষ একসাথে এক ছাদের তলায় সারাক্ষণ থাকার জন্য কিছু দায়বদ্ধতা থেকেই থাকে। একটা সম্পর্ক তখনই টেকে যখন একে অপরের মন বুঝে চলে, কোনটা দায়িত্ব আর কোনটা কর্তব্য সেটা বোঝে, কি চাই আর কি দরকার সেটার পার্থক্য করতে পারে তাদের সংসার বা সম্পর্ক টিকবেই। কিন্তু যারা এগুলো না বুঝে হঠাৎ করে বিয়ে করে নিল, তাদের বিয়েটাকে টেকানো সম্ভব না। ‘অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ’ হোক বা ‘লাভ ম্যারেজ’ যেকোনো ক্ষেত্রেই বিয়ে করার আগে ভাবা উচিৎ, একে অপরের সাথে থাকতে পারবেন কিনা সেটা সম্পর্কে আসার বা তৈরী হওয়ার আগেই ভাবতে হবে।

কিন্তু আমরা বা আপনারা করেন ঠিক তার উল্টো, কিছুজন কে বাদ দিলে কম বেশি সবাইই এই কাজই করে। এবার আপনি বলুন একটা সম্পর্ক তৈরী হয়ে যাওয়ার পর এভাবে হয় না, আমি আর সম্পর্কে থাকতে পারছি না এসব বলার কোনো মানে হয় না। এগুলো নিজের বিবেককে জিজ্ঞেস করে দেখুন কাজটা ঠিক করছেন কিনা, একটা মানুষের জীবন নিয়ে খেলার কোনো অধিকারই আপনার নেই। এটা ভাবুন, আজ যেটা আপনি অন্যের সাথে করছেন, সেই একই জিনিস যদি আপনার বা আপনার কোনো কাছের মানুষের সাথে হয়, আপনার সেটা ভালো লাগবে। কর্মের ফল কখনো এড়ানো যায় না, আজ আপনি যেটা করছেন অন্য এর সাথে সেটা আপনার কাছে ফিরে আসবেই। তাই আপনার উল্টোদিকের মানুষ টাকে বুঝে, তার ভালো খারাপ সবগুলোকে জেনে থাকতে পারবেন কিনা সেটা ভেবেই সম্পর্কে আসুন।

আর একটা কথা অবশ্যই স্মরণে রাখবেন, কেউই কখনো পারফেক্ট হতে পারে না।আপনি নিজেও কিন্তু পারফেক্ট নন, তাই অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন।

আজকাল বিবাহ বিচ্ছেদ প্রায়ই ঘটছে। মনমালিন্য, তর্ক-বিতর্ক রোজ; ব্যাস কিছুদিন পর বাড়ি থেকে চলে যাওয়া। তারপর বিচ্ছেদ হওয়া।

তবে যেগুলোকে বিবাহ বিচ্ছেদ এর কারণ  হিসেবে বেশি দেখা যাচ্ছে সেগুলো হল-

বিশ্বাসঘাতকতা- বিশ্বাস জিনিস টা একটা মানুষের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড়ো আশ্রয়, আর এই বিশ্বাসকে নিয়ে যারা খেলে তারা বিশ্বাসঘাতক বৈকি। একটা মানুষ কে বিয়ে করে আর একটা অন্য মানুষের সাথে সম্পর্কে জড়ানোটা আজকাল বিবাহ বিচ্ছেদের সর্বপ্রধান কারন হয়ে উঠেছে, যা অত্যন্ত অশোভনীয়। একজন যার জন্য সর্বস্ব দিয়ে ভালোবেসে তার সংসার সাজাচ্ছে, সে অন্য কোনো মানুষ এর সাথে শারীরিক সম্পর্ক তৈরী করছে।

টাকা– মানুষের জীবনে টাকা ছাড়া চলে না। কিন্তু সবসময় টাকা-টাকা করে নিজের সম্পর্ক জলাঞ্জলি দেওয়ার কোনো মানে হয় না। কিন্তু অনেকেই টাকার জন্য সংসারে সবসময়  অশান্তি করে। ও অতটাকা মাইনে পায়,ওর অত টাকা -এই তুলনা করে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করে।তারপর আর কি!  বিচ্ছেদ হয়ে যায়। অর্থের পিছনে সবসময় ছুটতে ছুটতে সম্পর্কের অস্তিত্ব টুকুই আজ হারিয়ে যাচ্ছে।

যোগাযোগের অভাব- কথায় আছে, দূরত্ব বাড়ে যোগাযোগ ঘুচে যায়। নিজেকে নিয়ে সবসময় ব্যস্ততা, তার মাঝে কাছের মানুষটার খবর নেওয়ার আর সময় হয়ে উঠছে না, কথাও হয়না প্রতিদিন, কে কী খেল, সারাদিন একে অপরের কীভাবে কাটল এটুকু কথাও তাদের মধ্যে হয়ে ওঠে না। ফলে একে অপরের থেকে দূরে সরে যায় আর সম্পর্কে বিচ্ছেদ কালো অন্ধকার এর মতো ঘনিয়ে আসে।

সবসময় তর্ক বিতর্ক করা- সবসময় কোনো না কোনো কিছু নিয়ে ঝগড়া করা, যেগুলো হয়তো একে অপরের সাথে ভালো করে কথা বলে মেটানো যায়। কিন্তু তা না করে সর্বক্ষণ চেঁচামেচি করা। ফলে সম্পর্কে তিক্ততার সাথে বিচ্ছেদ ঘটে।

ঘনিষ্ঠতার অভাব- দুটো মানুষের যেমন মনের মিল ততটাই প্রয়োজনীয় যতটা শারীরিক সম্পর্ক। বিবাহ সম্পর্কের ক্ষেত্রে মন ও শরীর দু দিক দিয়েই ভালোবাসা থাকার কথা। কোন নির্দিষ্ট পরিস্থিতি বা ঘটনায় আপনার সঙ্গীর প্রতিক্রিয়া যদি আপনি আগে থেকে আঁচ না করতে পারেন তবে বুঝতে হবে আপনি ঘনিষ্ঠতা হারিয়ে ফেলেছেন। হৃদয়ের যে সুতো আপনাদেরকে এক সুত্রে গেঁথেছে সেটার কেন্দ্রস্থল হল বোঝাপড়ার দাঁড়িপাল্লা। পাল্লা দু’দিকেই সমান হতে হবে। না হলে ভারসাম্য রক্ষা করা যাবে না।

এছাড়া অবাস্তব প্রত্যাশা, মতের মিল হচ্ছে না, সাম্যের অভাব, কেউ কাউকে বোঝার চেষ্টা করে না, ছেলেমেয়ে কে নিয়ে রীতিমতো তর্ক করাও বিচ্ছেদের কারণ। এছাড়া অনেকে বিয়ের জন্য তৈরী থাকে না ফলে বিয়ের প্রথম দশ বছরেই বিচ্ছেদের সম্ভাবনা প্রবল। ওজন বৃদ্ধির কারণে মানসিক সমস্যা, টান কমে যাওয়া, আবার বাজে ব্যবহার, গালাগালি, মারপিট সম্পর্কের ভাঙন ধরিয়ে দেয়।