বিজ্ঞানীদের নতুন আবিষ্কার : প্লাস্টিক খেকো ব্যাক্টেরিয়া

আবিষ্কার Contributor
জ্ঞান-বিজ্ঞান
প্লাস্টিক খেকো ব্যাক্টেরিয়া
Photo : Dreamstime

প্লাস্টিক সমস্যার সমাধানে কী কাজে দেবে প্লাস্টিক খেকো ব্যাক্টেরিয়া? একবিংশ শতাব্দীর পৃথিবীতে প্লাস্টিক হল মানব সভ্যতার অভিশাপ। প্লাস্টিক বা পলিথিন নিয়ে সমস্যা হল প্রধানত এর ক্ষয়হীনতা। স্থলে পাহাড় প্রমাণ আবর্জনার স্তুপে প্লাস্টিক এর পাশাপাশি সমুদ্রে প্রতি বছর টন টন প্লাস্টিক জমা হয়ে সামুদ্রিক জীবদের বিপদ ডেকে আনে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা Plastic Oceans International এর হিসেব অনুসারে সারা পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ৩০ কোটি টন প্লাস্টিক উৎপন্ন হয় যার অর্ধেক মাত্র একবার ব্যবহৃত হয় এবং ৮০ লক্ষ টন আবর্জনা হিসেবে সমুদ্রে মেশে। বিশ্ব জুড়ে বিজ্ঞানীরা তাই নিরন্তর চেষ্টা করে চলেছেন এই প্লাস্টিক সমস্যার সমাধান করতে এবং সেই দিকেই জার্মানির লিপজিগে অবস্থিত হেল্মহোজ পরিবেশ গবেষণা কেন্দ্রের একদল বিজ্ঞানীরা সন্ধান পেলেন এমন এক ব্যাক্টেরিয়ার যারা কিনা খেয়ে ফেলতে পারে প্লাস্টিক। তাঁদের এই গবেষণা প্রকাশিত হল Frontiers in Microbiology জার্নালে।

প্লাস্টিক নিয়ে প্রধান সমস্যা কী?

মনে রাখবেন, প্লাস্টিক বা পলিইউরিথেন কে সহজে ধ্বংস বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা যায় না। প্লাস্টিক প্রায় ৩০-১০০ বছর অব্দি অবিকৃত অবস্থায় থেকে যেতে পারে। একে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তুলতেও দরকার পরে প্রচুর পরিমাণে শক্তি। প্লাস্টিক কে গলাতে এমনিতেই প্রচুর পরিমাণে তাপ লাগে। তাছাড়া স্থলভাগে জমা হওয়া প্লাস্টিক মাটিতে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে। প্রচুর পরিমাণে সমুদ্রে জমা হওয়া প্লাস্টিক সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি তো করেই তার সাথে অনেক প্রাণীর প্রাণহানিও করে থাকে। ২০১৮ সালে বিজ্ঞানী ডগলাস রাডার একটি প্রতিবেদনে লিখেছিলেন, “আমাদের প্লাস্টিক এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জটিল রসায়নের ব্যাপারে গভীরে জানতে হবে।”

প্লাস্টিক সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান এবং প্লাস্টিক খেকো ব্যাক্টেরিয়া

২০১১ সালে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এক ধরণের ছত্রাক আবিষ্কার করেছিল যারা প্লাস্টিক খেয়ে ফেলতে পারে। এই ছত্রাক গুলো বায়ুশূন্য স্থানেও স্বচ্ছন্দে প্লাস্টিক খেয়ে ফেলতে পারে। তারপর থেকে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা আরও কয়েক ধরণের ছত্রাক খুঁজে পান যারা পলিইউরিথেন এর ক্ষয় ঘটাতে সক্ষম। ২০১৭ সালে একদল বিজ্ঞানী আর এক ধরণের ছত্রাক খুঁজে পান যারা পলিইউরিথেন এর প্রধান রাসায়নিক কে ভেঙে ফেলে তার ক্ষয় ঘটাতে সক্ষম।

এই সাম্প্রতিক জার্মান গবেষক দলের গবেষণায় প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিক বর্জ্য জমা হয়ে থাকা এক জায়গায় পাওয়া গেল মাটিতে থাকা এমন এক ব্যাক্টেরিয়া যা পলিইউরিথেন ডিওল (প্লাস্টিক এর মধ্যে থাকা রাসায়নিক) কে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এই ব্যাক্টেরিয়ার নাম সিউডোমোনাস পুতিডা। এরা এমন এক ধরণের উৎসেচক নিঃসরণ করে যারা প্লাস্টিকের মূল রাসায়নিক বন্ধন কে ভেঙে ফেলতে পারে। এই বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন যে এই ব্যাক্টেরিয়াটিকে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং শিল্পজাত করা যায়। এই মুহূর্তে এই ব্যাক্টেরিয়া যে উৎসেচকটি নির্গত করে সেটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং সেটিকে উৎপাদন করার চেষ্টা চলছে।