বিজ্ঞানের আলোকে মিসওয়াকের গুরুত্ব

Miswak

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। অর্থাৎ কেউ যদি নিজেকে ঈমানদার হিসেবে দাবি করতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অবস্থায় থাকতে হবে। ইবাদতের জন্য পাক পবিত্র থাকা অত্যাবশ্যকীয়। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অন্যতম একটি বিষয় হচ্ছে মিসওয়াক। মিসওয়াকের মাধ্যমে একজন মানুষ শারীরিক ও আত্মিক ভাবে উপকৃত হয়ে থাকেন।

মিসওয়াক রাসূল (সা.) এর সুন্নাত সমূহের মধ্যে অন্যতম একটি সুন্না, যা তিনি নিয়মিত করতেন।

মিসওয়াক কি?

মিসওয়াক হচ্ছে একটি আরবি শব্দ, যার বাংলা অর্থ হচ্ছে ‘দাঁতন’। আমরা সাধারণ মানুষ মিসওয়াক বলতে গাছের ডালের টুকরো ব্যবহার করে দাঁত ও মুখের ভেতরের অংশ পরিষ্কার করাকেই বুঝি। আরবদেশে সাধারণত দাঁত পরিষ্কার ‘স্যালভাদরা পারসিকা’ নামক গাছের ডাল দিয়ে মিসওয়াক করা হতো। যাকে আরবিতে ‘আরাক’ গাছও বলা হয়। তবে মিসওয়াক হিসেবে আমাদের দেশে পিলু, নিম, বাবলা,কানির, জায়তুন, জাতীয় তেঁতো, লবনাক্ত গাছের নরম আশঁযুক্ত ডাল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ সব গাছ ছাড়াও বিভিন্ন গাছের ডালকে মিসওয়াক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

মিসওয়াকের গুরুত্ব

মিসওয়াকের মাধ্যমে মুখের ভেতর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা করা হয়। এই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা আল্লাহ্র সন্তুষ্টির লাভের একটি উপায়। (বুখারি, নাসাঈ, মিশকাত) অন্য হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এমনটি কখনা হয়নি যে, জিব্রাইল আলাইহিস সালাম আমার নিকট এসেছেন আর আমাকে মিসওয়াকের আদেশ দেননি। এতে আমার আশঙ্কা হচ্ছিল যে, মিসওয়াকের কারণে আমার মুখের অগ্রভাগ ছিলে না ফেলি। (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত)

বিখ্যাত সাহাবী আবূ হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) বরেছেন, আমি যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম তাহলে তাদেরকে প্রতি ওয়াক্ত সালাতের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম। (বুখারী হাদিস: ৮৮৭, ৭২৪০ ও মুসলিম হাদিস: ২৫২)।

শুরাইহ্ বলেন আমি আয়িশাহ্ (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম রাসূল (সা.) যখন গৃহে প্রবেশ করতেন তখন কোন কাজটি সর্বপ্রথম করতেন? আয়িশাহ্ (রা,) বললেন মিসওয়াক করতেন। (মুসলিম হাদিস: ৪৯৮,ই.ফা.)।

আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, আমি মিসওয়াক করার ব্যাপারে তোমাদেরকে অত্যাধিক উৎসাহিত করেছি। (সুনান আন নাসায়ী, হাদিস: ৬)।

মিসওয়াকের উপকারিতা

মিসওয়াকের বহু উপকারিতা রয়েছে। যেমন: রাসূল (সা.) এর বানী, ‘আয়িশাহ্ (রা.) থেকে বর্ণিক রাসূল (সা.) বলেছেন মিসওয়াক মুখ পবিত্র ও পরিস্কার রাখে এবং তার দ্বারা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়। (সুনান আন নাসায়ী, হাদিস: ৫)।

এছাড়াও মিসওয়াকের মাধ্যমে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায় তা হলো:

(১) রাসূল (সা.) এর সুন্নাত আদায় হয়।

(২) মিসওয়াককারীর মুখস্ত শক্তি বেড়ে যায়।

(৩) শয়তান অসুন্তুষ্ট হয়।

(৪) প্রশান্তি ও স্বস্তি অর্জিত হয়।

(৫) মুখ পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন হয়।

(৬) মাথা ব্যথা দূর হয়।

(৭) ক্ষতিগ্রস্ত চোখের রোগ দূর হয়।

(৮) প্লেগ রোগ দূর হয়।

(৯) মুখ সুগন্ধি যুক্ত হয়।

(১০) মাড়ি শক্ত হয়।

(১১) কফ কেটে যায়।

(১২) ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ হয়।

(১৩) মুখের লালাস্রাব বৃদ্ধি হয়।

(১৪) দাঁতের টিস্যু নিরাময় নিয়ন্ত্রণ করে।

কী দ্বারা মিসওয়াক করবো

যেসব গাছের স্বাদ তিতা সেসব গাছের ডাল দিয়ে মিসওয়াক করা মুস্তাহাব। যায়তুনের ডাল দিয়ে মিসওয়াক করা উত্তম। মিসওয়াক হাতের আঙ্গুলের মতো মোটা ও নরম হওয়া ভালো। লম্বায় হবে এক বিঘাত।

মিসওয়াক করার নিয়ম

মুখের ডানদিক থেকে শুরু করে দাঁতের প্রস্থের দিক থেকে মিসওয়াক করা। দৈর্ঘ্যরে দিক থেকে নয়। ডান হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলী মিসওয়াকের নিচে আর মধ্যমা ও তর্জনী মিসওয়াকের ওপর এবং বৃদ্ধাঙ্গুলী দ্বারা এর মাখার নিচ ভালভাবে ধরা। এ নিয়মটি হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রয়েছে।

মিসওয়াক কখন করবো

ওযু করার পূর্বে, নামাজের পূর্বে, ঘুম থেকে ওঠার পরে, ঘুমাতে যাবার আগে, কোন মজলিসে যাওয়ার পূর্বে, কুরআন ও হাদিস তিলাওয়াতের পূর্বে।

মহান রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে নিয়মিত মিসওয়াক করার তৌফিক দান করুন।