বিজ্ঞানের বিপ্লব: ফল থেকে হবে মোবাইল চার্জ

fruits mobile charger
ID 150988163 © Alex N | Dreamstime.com

মোবাইল ছাড়া বর্তমান সময়ে কোন কিছু ভাবাই যায়না। মোবাইল সবকিছু হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। হঠাৎ যদি মোবাইলের চার্জ নষ্ট হয়ে যায়, তবে আপনাকে পড়তে হয় বিপাকে। কারণ চার্জ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়। তবে মোবাইলের চার্জ শেষ হলেও এখন আর চিন্তার কারণ নেই। মুহূর্তে ফল থেকে চার্জ দিতে পারবেন মোবাইল। শুনতে অবাক লাগলেও ঘটনা কিন্তু সত্যি।

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক এই ডিউরিয়ান ফ্রুট নামে এক ফলের বর্জ্যকে ‘সুপার ক্যাপাসিটর’ বা তড়িতের ধারকে রূপান্তরিত করেছেন, যা থেকে সহজেই এনার্জি উৎপন্ন করা যাবে এবং তা থেকে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ কিংবা প্রয়োজনীয় গ্যাজেটে চার্জ দেয়া যাবে। ‘সায়েন্স ডিরেক্ট’-এর এক রচনা থেকে এই ভাবে ফলের বর্জ্য থেকে চার্জিংয়ের বিষয়টি জানা যায়। প্রতিবেদনে গবেষক দল জানায়, ফল থেকে তারা সুপার ক্যাপাসিটরে রূপান্তর করেছেন, যা থেকে মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া যাবে। শুধু ডিউরিয়ান ফলই নয়, কাঁঠালের বর্জ্য থেকেও এটি করা সম্ভব।

সুপার-ক্যাপাসিটরগুলো সহজেই শক্তি সঞ্চয় ও নির্গমন করতে পারে, যা থেকে একটি ছোট ব্যাটারি আকারের ডিভাইসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে শক্তি সঞ্চয় করা যায়, যা থেকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট এবং ল্যাপটপের মতো ডিভাইসে চার্জ করার জন্য শক্তি সরবরাহ করতে পারে। এই গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক ভিনসেন্ট গোমস জানান, কাঁঠাল ও ডিউরিয়ান ফলকে নিয়ে তারা গবেষণা করছেন। এই ফল থেকে প্রাপ্ত বর্জ্য দিয়ে স্থায়ী কার্বন এরোজেলে রূপান্তর করা হয়। আর এই কার্বন এরোজেল থেকে ইলেকট্রোড তৈরি করা হয়। তিনি বলেন, কার্বন এরোজেল থেকে ইলেকট্রোড তৈরি করা হয়। প্রাকৃতিকভাবে স্বাভাবিক সুপার-ক্যাপাসিটর থেকে উচ্চশক্তির এনার্জি স্টোরেজ ডিভাইস তৈরি করা প্রয়োজন।
যেখানে জ্বালানির পরিমাণ কমছে সেখানে এই পদ্ধতিতে এনার্জি বাড়ালে একটা বিকল্প পথ তৈরি করা যাবে বলেও মনে করেন অধ্যাপক ভিনসেন্ট গোমস।

গবেষকরা বলছেন ফলের মধ্যে যে এনার্জি থাকে তা দিয়ে চার্জ করা যাবে মোবাইল। শুধু তাই নয়, ফলের বর্জ্য দিয়েও করা যাবে মোবাইল চার্জ। গবেষকরা বলেছেন, কার্বন এরোজেলসের  দ্বারা এনার্জি পাওয়া যায়। আর তাতেই করা যায় মোবাইল, ফোন, ল্যাপটপ বিভিন্ন গ্যাজেট চার্জ। প্রথমে ফলের বর্জ্য পদার্থ সংগ্রহ করে সেটাকে পানিতে ফুটিয়ে তারপর জমিয়ে কার্বন এরোজেলস তৈরি করা যায়। এটা অনেকটাই হালকা ও সছিদ্র।

গবেষকরা বলেছেন, গ্রাফিন থেকে যে উৎপাদক তৈরি করা হয় তাকে খুব সহজেই এই ফলের বর্জ্য পদার্থ পেছনে ফেলে দেবে। এখন পৃথিবীর জীবাশ্ম জ্বালানি যে পরিমাণে শেষ হয়ে যাচ্ছে। সেই দিক থেকে দেখলে এই সুপার ক্যাপাসিটার এনার্জি স্টোর করাটা খুবই দরকার। এজন্য এই সব গবেষণার খুবই প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, বিশেষ করে যেখানে ফসিলজাত জ্বালানির পরিমাণ ক্রমশ কমছে। সেই জায়গায় এই পদ্ধতিতে এনার্জি বাড়ালে বর্তমান চালু ব্যবস্থার একটা বিকল্প পথ তৈরি করা যাবে।