বিজ্ঞান ও আমাদের কুরআন শরীফ, একটি আলোচনা

কুরআন ১৩ মে ২০২০ Contributor
বিজ্ঞান ও কুরআন
Al-Quran mukjizat teragung © Fajri Hidayat | Dreamstime.com

সমগ্র মুসলমান জাতির জন্য সর্বকালের সেরা সম্পদ হলো কোরান শরীফ। আল্লাহতালা তাঁর সমগ্র জীবকূলের সৃষ্টির রহস্য এবং মানবজাতির পথ চলার জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা এই পবিত্র গ্রন্থের মধ্যে দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন। বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে পৃথিবী এগিয়েছে কিন্তু এই অগ্রগতির অনেক দিন আগেই বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক যুগান্তকারী আবিষ্কারের পূর্বাভাস পাওয়া যায় আল কোরানে। বিজ্ঞান কুরআন থেকেই শিক্ষা লাভ করে অনেকক্ষেত্রে।

কোরানে উল্লেখিত বহু আয়াতে পাওয়া যায় আধুনিক বিজ্ঞানের ধারণা যার কোরাণ নাজিলের সময় কোনো অস্তিত্বই ছিল না। এই সমস্ত আয়াতকে বিজ্ঞান তো ভুল প্রমাণ করতে পারেইনি উল্টে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক খামতিকে কোরানের মাপকাঠিতে ঠিক করা হয়েছে।

এখানে তারই কিছু সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো।

বিজ্ঞান বলে গ্রহনক্ষত্রগুলি স্থির নয়…

পৃথিবী স্থির সূর্য ঘুরছে বা সমস্ত কিছুই স্থির- এই ধরণের ভ্রান্ত তথ্য বহুদিন আগে থেকেই ইউরোপীয় সমাজে প্রচলিত ছিল। এর বিরোধিতা করে গ্যালিলিও, কোপারনিকাসের মতো বিজ্ঞানীদের প্রাণ হারাতে হয়েছে। কিন্তু এই তথ্য সুরা জারিয়াত, আয়াত:৪৭এ আল্লাহতাআলা বলেছেন “আমি এ মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা এবং অবশ্যই এ ব্রহ্মান্ড গতিশীল” ।

পরাগায়ণ

সাধারণভাবে প্রচলিত ধারণা ছিল যে মানুষ ও অনান্য জীব যাদের জননাঙ্গ আছে তারাই একমাত্র জনন করতে পারে জড়বস্তু বা উদ্ভিদ পারেনা। পরে বিজ্ঞানীরা অযৌন জননের ধারণা নিয়ে আসেন এবং প্রমাণ করেন যে ফুলের মধ্যে দিয়েও জনন সম্ভব। একথা বহুদিন আগেই সুরা ইয়াসীনে লেখা হয়েছে, “তিনি সমস্ত কিছু জোড়া সৃষ্টি করেছেন, তা শুধু মানুষ নয় সমস্ত কিছুই এমনকি যারা মাটিতে সৃষ্টি হয় তাও জোড়ায় আসে।”

বিজ্ঞান ও বিদ্যুৎ আলো

টমাস আলভা এডিসন বাল্ব আবিষ্কার করার বহদিন আগেই পবিত্র কোরানে এর বর্ণনা ছিল। সুরা নূরের ৩৫তম আয়াতে এমনকি ভাস্বর আলোর কথা বলা হয়েছে যা একটি কাঁচের অবয়বের ভিতরে প্রজ্জ্বল একটি প্রদীপের মতো। আগুন নয় আবার কোনো নক্ষত্র নয় তবুও নিজের আলোয় আলকিত হচ্ছে। এর থেকেই বোঝা যায় দেড় হাজার বছর আগের কোরানে অষ্টাদশ শতকের বিজ্ঞানের চেয়ে এগিয়ে ছিল।

বিগব্যাং থিয়োরি

বিগব্যাং থিয়োরি বা মহাবিষ্ফোরণ তত্ত্বকে বিজ্ঞানের এক আশ্চর্য আবিষ্কার হিসাবে ধরা হয়। কিন্তু আশ্চর্য এই যে দেড় হাজার বছর আগের পবিত্রকোরানে তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা আছে। এই থিয়োরির মূল কথা হলো, একসময় মহাবিশ্ব একত্রিত ছিল, একসময় ভয়াবহ বিষ্ফোরণের দ্বারা এরা আলাদা হয় এবং ধীরে ধীরে পৃথিবীর বর্তমান অবস্থা তৈরি হয়। সুরা আম্বিয়া আয়াত ৩০-এ বলা হয়েছে “যারা অবিশ্বাসী তারা কি এই সত্য হতে বঞ্চিত যে আমিই এই  মহাবিশ্বকে একঅপরের থেকে পৃথক করে পৃথিবী সৃষ্টি করেছি এবং পানি থেকে জীবন সৃষ্টি করেছি।” উল্লেখ্য এই যে বিজ্ঞান এটাও মেনে নিয়েছে যে প্রথম প্রাণের সন্ধান পাওয়া যায় পানিতে।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি

আজকের দিনের বহুল ব্যবহৃত ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি যা প্রত্যেকের মোবাইলেও আছে তার আবিষ্কার ১৮৮০ সালে। তখনই জানা যায় যে প্রতিটি মানুষের আঙুল গঠন ভিন্ন এবং তা কোনোভাবেই মিলতে পারেনা। এই কথা বহুদিন আগেই কোরআনে বলা হয়, “আমি মানুষের প্রত্যেকটি হাড়কে একত্রিত করতে পারব, এমনকি আমি প্রতিটি আঙুলের অগ্রভাগকেও সুবিন্যস্ত করব। (সুরা কিয়ামাহ, আয়াত- ৩ ও ৪)

মহাকাশ জয়

মহাকাশ জয় একসময় স্বপ্ন ছিল কিন্তু গত পাঁচটি দশকে এ অসম্ভবকেও সম্ভব করা হয়েছে। রাশিয়ার প্রথম চন্দ্রাভিযান থেকে শুরু করে আজ ভারতের মঙ্গলযান, প্রতিটি অভিযানেই সফলতা, ব্যর্থতার সাথে এসেছে নতুন নতুন শিক্ষা। কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলা সর্বজ্ঞ, তিনি সুরা রাহমানে বলেছেন, ” হে মানব ও জিন জাতি, তোমরা যদি চাও তো পৃথিবীর বাধা কাটিয়ে মহাকাশে যেতে পারো। তবে এক্ষেত্রে প্রচুর শক্তি প্রয়োজন।” স্পষ্টই বোঝা যায় তাঁর ইঙ্গিতে তিনি রকেটের প্রয়োজনীয় জ্বালানীর দ্বারা মুক্তিবেগ লাভ করার কথা বলছেন।