বিপদ সর্বত্র, ভরসা আল্লাহর রহমত

dancing-rain-in-the-autumn-_KPuV9qSSlU-unsplash
Fotoğraf: Dancin Rain in the Autumn-Unsplash

আল্লাহর ৯৯ টি আসমাঊল হুসনার মধ্যে আর-রহমান এবং আর-রহিম নাম দুটি আমরা আমাদের দু’আর মধ্যে সর্বাধিক ব্যবহার করি।

আর-রহমান এবং আর-রহিম উভয়টিই একই আরবি মূল শব্দ ‘রহমা’ থেকে এসেছে, যার অর্থ দয়া,করুণা।

দুর্ভাগ্যক্রমে, আমাদের মধ্যে বেশিরভাগই আল্লাহর রহমতের গভীরতা এবং ব্যাপ্তি না বুঝেই এই নাম দুটি উচ্চারণ করি, এ নাম দুটির অর্থের গভীরতা নিয়ে চিন্তা করলে আমরা হতবাক হয়ে যাব।

অস্থায়ী দুনিয়া

কুরআন প্রায়শই প্রাকৃতিক জগতের দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সুতরাং আসুন আমরা এক মুহুর্তের জন্য এই অস্থায়ী দুনিয়া নিয়ে একটু চিন্তা করি।

ওজোন স্তরের ক্ষয়প্রাপ্তি, দূষণের ঝুঁকি, আমাদের সন্তানদের জন্য একটি টেকসই পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি সম্পর্কে আমরা প্রায়শই শুনি।

প্রকৃতি এবং মহাবিশ্ব সম্পর্কে অসংখ্য বই এবং টিভি প্রোগ্রাম আমাদের কৌতূহলকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

আমাদের চারপাশে এমন সব নিয়ামক রয়েছে যা এতটাই সুষম ভারসাম্যপূর্ণ যে এগুলির ক্ষুদ্রতম স্থানান্তরের কারণে আমরা সকলে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়তে পারি।

কয়েক বছর আগে ধূমকেতু ‘শুকামার-লেভি’ বৃহস্পতির গ্রহে পতিত হয়ে কয়েক মিলিয়ন পরমাণু বোমার শক্তি দিয়ে বিস্ফোরিত হয়েছিল। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, মাত্র কয়েক ডিগ্রির পার্থক্যের কারণে পৃথিবীর সাথে এটির সংঘর্ষ হয়নি।

সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে জীবন

বেশিরভাগ মানুষ পৃথিবীকে শক্ত বলে মনে করেন। আমাদের নীচে, খুবই পাতলা আবরণের ভূত্বক আছে যার উপরে মহাদেশগুলি স্থাপিত। সেই ভূত্বকের নীচে কয়েক হাজার মাইল ব্যাপি ফুটন্ত গলিত শিলা, একটি শক্ত লোহার কোরের চারপাশে ভেসে আছে।

ভূত্বকের উপরের সমস্ত জীবন্ত প্রাণী কমলার পৃষ্ঠে অবস্থিত ব্যাকটিরিয়াগুলির মতো অবস্থান করছে। এই ব্যাকটিরিয়াগুলিকে আপনি যেমন কোনো মাইক্রোস্কোপ ছাড়া দেখতে পারবেন না, ঠিক তেমনি মহাকাশের নভোচারীরা বিশেষ সরঞ্জাম ছাড়া পৃথিবীর কোনো জীবকে দেখতে পান না।

আমাদের নিকটবর্তী বিপদ

কল্পনা করুন! আমাদের পায়ের কয়েক মাইল নীচে কয়েক হাজার মাইল ব্যাপি ফুটন্ত,তরল, গলিত লাভার সমুদ্র।

আমাদের উপরে কেবল কয়েক মাইল ব্যাপি শ্বসনযোগ্য বাতাসের পাতলা স্তর, তার উপরে কিছুই নেই; একদম শূন্যতা।

এবং সূর্য, যা ছাড়া বেঁচে থাকা সম্ভব না, ৯৩ মিলিয়ন মাইল দূরে। আমরা এই দূরত্বের কোনো ধারণাও করতে পারি না। ৯৩ এর পরে মাত্র ছয়টি জিরো।

শুধু প্রতিবিম্ব!

আমি কোনো বিজ্ঞানী নই বা কোনো জ্যোতির্বিদও নই। তবে আমরা যদি এই সাধারণ বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করি তবে আমাদের হতবাক হয়ে যেতে হয়। কত বিচিত্রময়তার মাঝে আমরা এই পৃথিবীতে বেঁচে আছি।

মন শুধু শংকিত হয়। বৃহস্পতিতে আঘাতকারী ধূমকেতু ‘শুমাকার-লেভি’ এর মতো প্রায় ১ বা ২ মাইল পুরু দৈর্ঘ্যের যেকোনো পাথরের যদি পৃথিবীর সাথে সংঘর্ষ হত তাহলে এই গ্রহের সমস্ত জীবন মুছে যেত।

বিজ্ঞানী এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আমাদেরকে জানান যে, জীবিত প্রাণী কেবলমাত্র এই গ্রহে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ততম সীমানার মধ্যে বেঁচে আছে। পরিসংখ্যানগতভাবে, আমাদের উপর ধেয়ে আসা বিপদগুলি অনেক বড়। তারা বলেন, আমাদের বেঁচে থাকার গাণিতিক সম্ভাবনা এতটাই কম যে, দুনিয়াতে আমাদের বেঁচে থাকাটাই অনেক আশ্চর্যজনক!

আল্লাহর রহমত

আমরা মুসলমানরা ঈমানদার হিসেবে বলব যে, এই গ্রহে আমাদের সৃষ্টি এবং আমাদের অব্যাহত অস্তিত্ব সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর রহমতের কারণে। কোরআন অনেক সুন্দর বর্ণনাভঙ্গিতে এই বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপঃ

“তারা কি তাদের সামনের ও পশ্চাতের আকাশ ও পৃথিবীর প্রতি লক্ষ্য করে না? আমি ইচ্ছা করলে তাদেরকে সহ ভূমি ধসিয়ে দেব অথবা আকাশের কোন খন্ড তাদের উপর পতিত করব। আল্লাহ অভিমুখী প্রত্যেক বান্দার জন্য এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।”  (আল কুরআন-৩৪:৯)

“নিশ্চয় আল্লাহ আসমান ও যমীনকে স্থির রাখেন, যাতে টলে না যায়। যদি এগুলো টলে যায় তবে তিনি ব্যতীত কে এগুলোকে স্থির রাখবে? তিনি সহনশীল, ক্ষমাশীল।” (আল কুরআন-৩৫:৪১)

“তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না? করলে দেখত তাদের পূর্ববর্তীদের কি পরিণাম হয়েছে। অথচ তারা তাদের অপেক্ষা অধিকতর শক্তিশালী ছিল। আকাশ ও পৃথিবীতে কোন কিছুই আল্লাহকে অপারগ করতে পারে না। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।

যদি আল্লাহ মানুষকে তাদের কৃতকর্মের কারণে পাকড়াও করতেন, তবে ভুপৃষ্ঠে চলমান কাউকে ছেড়ে দিতেন না। কিন্তু তিনি এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দেন।” (আল কুরআন-৩৫:৪৪-৪৫)

তাই প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আসুন আমরা আল্লাহর করুণা ও রহমতের জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি।