শরিয়াহ সম্মত ওয়েব পরিবেশ. আরওসন্ধানকরুন

বিপর্যয় এবং তা থেকে ফিরে আসা: পৃথিবীতে আল্লাহর চিরাচরিত নিয়ম

fabrizio-verrecchia-7Ieipcj7lp4-unsplash
Fotoğraf: Fabrizio Verrecchia-Unsplash

খুবই নিঃসঙ্গ ও নীরবতার সাথে ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি ঘটে গেল – যেখানে বিশ্ব কথা বলা বন্ধ করে দিল কিন্তু হৃদয় তার আওয়াজ খুঁজে পেল।

কোনো যুদ্ধ যেটা করতে পারে নি, একটি ক্ষুদ্র সংক্রামক তা করে দেখাল। সম্ভবত এখন চিন্তার সময় এসেছে।

প্রতিদিন আমাদেরকে এমনভাবে জীবন অতিবাহিত করতে বলা হয়েছে যেন এটিই আমাদের শেষ দিন। এটি একটি প্রশ্নের উদ্রেক করে, আমাদের সময় সীমিত ছিল জানলে আমরা কি আশ্চর্য হতাম? কখনও কখনও আমাদেরকে এটি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য একটি প্রবন্ধের প্রয়োজন পড়ে এবং কখনও একটি বিশ্বব্যাপী মহামারীর প্রয়োজন পড়ে। আমরা সর্বদাই যে বাস্তবতার সম্মুখীন তা হল, সংগ্রামের মধ্য থেকে মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে, সংগ্রামের মধ্য থেকে মানুষ বড় হয় এবং শিক্ষা গ্রহণ করে  আর এই সংগ্রামের মাধ্যমেই মানুষ আল্লাহর কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে এবং এই সংগ্রামকে সাথে করেই জীবন নামের যাত্রাটি মানুষ অতিবাহিত করে। এটি অন্য কোনো উপায়ে কখনও হয় না।

لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ فِي كَبَدٍ

নিশ্চয় আমি মানুষকে শ্রমনির্ভররূপে সৃষ্টি করেছি। (আল কুরআন-৯০:৪)

বিপর্যয় মানুষের অভ্যন্তরীণ প্রকৃতিকে প্রকাশ ঘটিয়ে দেয়; দৈনন্দিন চিত্তবিনোদন, ব্যক্তিগত অভ্যাস এবং আরাম ও সুবিধা ভোগের নিরলস সাধনার পিছনে যেটি লুকানো ছিল। আমাদের দৈনন্দিন রুটিন তখনই পরিবর্তন হয় যখন আমরা অপ্রত্যাশিত ঘটনার মুখোমুখি হই এবং যা আমাদের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ করে। এগুলো এমনকিছু ঘটনা যা ঘটে যায় আমাদের পরিকল্পনার বিপরীতে। এবং যে কোন ভাবেই হোক অজানা বিশৃঙ্খলার মাঝে এটি আমাদের মধ্যকার সেরা গুণটি জন্ম দেয়। আমরা নিজের জন্য তৈরি করা প্রতিবন্ধকতাগুলি সরিয়েছি এবং পূর্ণ চেতনা দিয়ে আমরা পুরো বিশ্বকে ঘুরে দেখেছি। আমাদের উচিত এখন চিন্তা করা, কারণ খুজে বের করা এবং বিবেচনা করা।

আমি কে, আমি কেন এখানে আছি, এবং কোথায় আমার গন্তব্য?

এটি জানার আগে, আমরা একটি  বইটি তুললাম, দিনপঞ্জিটি লিখলাম, নতুন কৌশল তৈরি করলাম, সেটা অনুশীলন করলাম, পরিবাবের সাথে শ্রেষ্ঠ সময় কাটালাম, কুরআনটি হাতে তুলে নিলাম আর এর উপরের ধুলোগুলো উড়িয়ে দিলাম এবং সর্বশেষ কবে আমরা এমন কিছুর সাথে যুক্ত হয়েছি তা চিন্তা করলাম…

একটিমাত্র শব্দ  যা ব্যাখ্যা করে, আমরা এই নতুন শক্তি সম্পর্কে কী অনুসন্ধান করছি: তা হলো ‘উদ্দেশ্য’। যে কারণে আমরা জীবন অতিবাহিত করি।

হযরত ইউনূস আ’লাইহিস সালাম আল্লাহর রহমতের আশ্রয় প্রার্থনা করে তিমির পেটের ভিতর  আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। কুরআন আমাদের সেই মুহুর্তটির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়:

“এবং মাছওয়ালার কথা স্মরণ করুন; তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে চলে গিয়েছিলেন, অতঃপর মনে করেছিলেন যে, আমি তাঁকে ধরতে পারব না। অতঃপর তিনি অন্ধকারের মধ্যে আহবান করলেনঃ তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তুমি নির্দোষ, আমি গুনাহগার। অতঃপর আমি তাঁর আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলাম। আমি এমনি ভাবে বিশ্ববাসীদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকি।”(আল কুরআন-২১:৮৭-৮৮)

হযরত মূসা আ’লাইহিস সালাম যখন তূর পর্বতের কাছে আল্লাহর সাথে কথা বলেছিলেন এবং তখনই রাতের আধারে নির্জনতার ভিতর তাঁকে নবুওয়াত দেওয়া হয়েছিল। “অতঃপর যখন তিনি আগুনের কাছে পৌছলেন, তখন আওয়াজ আসল হে মূসা,আমিই তোমার পালনকর্তা, অতএব তুমি জুতা খুলে ফেল, তুমি পবিত্র উপত্যকা তুরে রয়েছ। এবং আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, অতএব যা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে, তা শুনতে থাক। আমিই আল্লাহ, আমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। অতএব আমার এবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর”। (আল কুরআন-২০:১১-১৪)

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন একাকীভাবে নিঃসঙ্গতার সাথে হেরা গুহায় আল্লাহর ধ্যনে মগ্ন ছিলেন, তখন তাঁকে নবুওয়াত দেওয়া হয়। “পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট বাধা রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তার নামে, যিনি মহা দয়ালু, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না”। (আল কুরআন-৯৬:১-৫)

সর্বদা অন্ধকার থেকেই আলো আসে

সম্ভবত পরীক্ষার এই সন্ধিক্ষণে আমাদের অন্তরের অজানা দিকটি পর্যালোচনা করে দেখার দরকার। জে দিকে আমরা এতদিন দৃষ্টিপাত করিনি। আপাতদৃষ্টিতে বিপরীত মনে হলেও, আমরা আসলেই জানি না আমরা কারা। যদিও আমরা আমাদের আগ্রহ এবং ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে নিজেদেরকে সংজ্ঞা তুলে ধরি, কিন্তু আমরা তার থেকেও আরও অনেক বেশি কিছু। আমদের এর চেয়ে আরও বড় কিছু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

“মহাবিশ্বের সমস্ত নিদর্শনই আপনার মধ্যে রয়েছে। নিজেকেই সবকিছু জিজ্ঞাসা করুন ”- রুমি।

কাজের ব্যস্ততা আমাদের আনন্দজনক পরিস্থিতির ইতি টানে। বিপর্যয় আমাদের সেই একই কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যে এটাই হয়তো পরিণতি। জীবনের ইতি। তাই আজ থেকে নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, আপনি কোথায় চলেছেন এবং আপনি সেই গন্তব্যের কতটা কাছাকাছি আছেন। আপনি যদি আজ অন্য একটি দুনিয়ায় চলে যান তবে কি আপনি সন্তুষ্ট হবেন? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আল্লাহ কি সন্তুষ্ট হবেন?

অজ্ঞতাময় সুখী জীবন যাপনের জন্য আমরা দুনিয়াতে বেঁচে নেই। আমাদের কোনো বাধা ছাড়ায় যা ইচ্ছা তাই করার নিরবচ্ছিন্ন যে ধারা তা যেমন রহস্যজনকভাবে আনন্দদায়ক, তেমনি প্রলুব্ধকর। হালকা চিন্তাভাবনার মাধ্যমে, যেভাবেই হোক, আমারা প্রতারিত হই এর থেকে আশা করার জন্য। আমাদের এমন মুহুর্তগুলিতে উদ্দেশ্য সন্ধানের জন্য তৈরি করা হয়েছিল যা আমাদের পরিকল্পনাগুলিকে অস্বীকার করে, আমাদের উপলব্ধিগুলিকে চ্যালেঞ্জ করে এবং আমাদের জীবনকে সত্যিকারের মূল্যবান জীবনযাত্রার সন্ধানে প্রেরণ করে। এটি এমন একটি যাত্রা, যা প্রশ্ন, সন্দেহ এবং ভয় নিয়ে আসে।

কিন্তু কষ্টের মাঝেও আপনি স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করবেন।

কিছুবলারথাকলে

যোগাযোগকরুন