শরিয়াহ সম্মত ওয়েব পরিবেশ. আরওসন্ধানকরুন

বিবাহ এবং পরিবার গঠনে উৎসাহ দেয় ইসলাম

Melaka/Malaysia-19.11.2017:The malaysian wedding couple in traditional dress

পরিবারকে সুশৃঙ্খল ও গতিশীল করার জন্য ইসলাম নানা বিধিবিধান প্রবর্তন করেছে। মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর প্রিয় হাবিব মোহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে এসব বিধান মানবজাতিকে জানিয়ে দিয়েছেন। এখানে পারিবারিক জীবনের প্রতি ইসলামের গুরুত্বারোপের উল্লেখযোগ্য কিছু দিক তুলে ধরা হলো।

বিয়ের প্রতি উৎসাহ

পরিবারের মূল ভিত্তি হলো বিয়ে। বিয়ের মাধ্যমেই গড়ে ওঠে পরিবার। রচিত হয় সভ্যতার ভিত্তিভূমি। তাই ইসলাম পরিবার গঠনে উদ্বুদ্ধ করার জন্য বিয়ের নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহপাক এরশাদ করেন, ‘আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতিম মেয়েদের হক যথাথভাবে পূরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভালো লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায়সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে একটিই অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদেরকে; এতেই পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা।’ (নিসা : ৩)। বিয়ে ইসলামী শরিয়তের এক অনন্য ব্যবস্থা। সাধারণভাবে বিয়ে করা সুন্নাত। তবে বিয়ের হুকুম সবার ক্ষেত্রে একই রকম নয়। ব্যক্তিভেদে তা ফরজ, ওয়াজিব, মুস্তাহাব, মাকরুহ প্রভৃতি হয়ে থাকে।

মহান আল্লাহ মানুষকে সহজাত প্রবৃত্তি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। রক্তে-মাংসে গড়া মানুষ তার প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণের জন্য সদা উদগ্রীব থাকে। যদি সে তার মনোদৈহিক চাহিদা পূরণের অবকাশ না পায়, তাহলে হতচকিত-বিচলিত হয়ে পড়ে এবং পাপের পথে ধাবমান হয়। এ ক্ষেত্রে বিয়েই একমাত্র কার্যকর ব্যবস্থা, যা তার দেহ-মনের চাহিদা পূরণ করে তাকে আত্মিক প্রশান্তি ও অনাবিল সুখানুভূতিতে অবগাহন করিয়ে ব্যভিচারের পথ থেকে নিবৃত্ত করে। এদিকে ইশারা করে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন, ‘আর আল্লাহর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে যে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের সঙ্গিনীদের, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। চিন্তাশীল জাতির জন্য এতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে।’ (আর রুম : ২১)।

সন্তান জন্মদানের মধ্য দিয়ে বংশবিস্তার করাও বিয়ের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য। বিয়ের মাধ্যমে এক পরিবারের সঙ্গে আরেক পরিবারের আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পানি থেকে। অতঃপর তিনি তার বংশগত ও বৈবাহিক সম্বন্ধ স্থাপন করেছেন।’ (আল ফুরকান : ৫৪)।

স্বামী-স্ত্রীর মিলনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম নেওয়ার ফলে মুসলিম উম্মাহর সংখ্যাও বেড়ে যায়। ফলে মুসলিম উম্মাহ একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দণ্ডায়মান হয়। এ জন্য নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা এমন নারীদের বিয়ে করবে, যারা স্বামীদের অধিক ভালোবাসে এবং অধিক সন্তান প্রসব করতে সক্ষম। কেননা আমি (কিয়ামতের দিন) তোমাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে (আগের উম্মতদের ওপর) গর্ববোধ করব।’

বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রেম-ভালোবাসার যে ফল্গুধারা প্রবাহিত হয়, তা পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর মানবপ্রেমে মানুষকে উজ্জীবিত করে। এছাড়া দৃষ্টি সংযতকরণ, আদর্শ জাতি ও আদর্শ সমাজ গঠন এবং পৃথিবী আবাদ করার জন্যও বিয়ের প্রয়োজন। বিয়ের ফলে স্ত্রী-সন্তানদের প্রতি স্বামীর যে দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয়, তা তার কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধি করে এবং তার যোগ্যতা-অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে উদ্বুদ্ধ করে। সে তাদের জন্য উপার্জনে প্রবৃত্ত হয়। বিয়ের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য লাভ করা যায় ও আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি পায়। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করো এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরও। তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ তো প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।’ (আন নূর : ৩২)।

বিয়ে মানুষকে পশুর জীবন থেকে নিষ্কৃতি দিয়ে মনুষ্যত্বের পর্যায়ে উন্নীত করে। বিয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। বিয়ে হচ্ছে মানুষের দায়িত্ব-কর্তব্যবোধের একটি প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র। এখান থেকে মানুষ নিজের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হয়ে সমাজের মানুষের প্রতিও তার যে দায়িত্ব-কর্তব্য আছে, সে ব্যাপারে সজাগ হয়। বিয়ের মাধ্যমে চারিত্রিক অবক্ষয় থেকে জাতি রক্ষা পায়। সমাজে জেনা-ব্যভিচার ও অশ্লীলতা হ্রাস পায়। মহানবী (সা.) বলেন, ‘যার দিনদারি ও নৈতিক চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, সে যদি তোমাদের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তাহলে তার সঙ্গে (তোমাদের পাত্রীর) বিয়ে দাও। যদি তা না করো, তাহলে পৃথিবীতে ফিতনা-ফ্যাসাদ ও ব্যাপক বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়বে।’

কিছুবলারথাকলে

যোগাযোগকরুন