বিবাহ এবং ব্যবসায় বরকত প্রাপ্তির উপায় কী?

Quran
Photo 130597342 © Photoking | Dreamstime.com

প্রাপ্তবয়স্ক হিসাবে, আমরা বেশিরভাগ দুটি ক্ষেত্রের দিকে মনোনিবেশ করিঃ আমাদের জীবিকা এবং সম্পর্ক। এগুলি মুসলমানদের জন্য নেয়ামত হওয়ার সাথে সাথে পরীক্ষাও। বিবেকবান, ঈমানদার মানুষ বিবাহ এবং ব্যবসা উভয় ক্ষেত্রে আল্লাহর হুকুমের দিকে খেয়াল রাখে।

বিবাহে বরকত

নারী-পুরুষের বিয়ে আল্লাহ তা’আলার অশেষ এক নেয়ামত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নাত। পরিপূর্ণ ঈমানের অন্যতম আলামত। চারিত্রিক আত্মরক্ষা ও উন্নতির অন্যতম উপায়। আদর্শ পরিবার গঠন ও যুবক-যুবতির চরিত্র গঠনের অনুপম হাতিয়ারও বিয়ে।

তাই তো যথাযথ কারণ ছাড়া ইসলামে বিয়ে বিহীন থাকার কোনো সুযোগ নেই। হাদিসে এসেছে-
‘যখন কোনো বান্দা বিয়ে করলো তখন সে তার ঈমানের অর্ধাংশ পূর্ণ করল। (মিশকাত)

তাছাড়া বিয়ে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম সুন্নাত। নবিজী বলেন, ‘বিয়ে হলো আমার সুন্নাত। যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত তরিকা ছেড়ে দেবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।’ (বুখারি)

সবচেয়ে বেশি বরকতের বিয়ে

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিয়েতে অযথা অতিরিক্ত খরচে নিরুৎসাহিত করেছেন। অতিরিক্তি খরচের বিয়ে বরকতহীন। বিয়েতে কীভাবে বরকত ও সমৃদ্ধি আসবে, সে ব্যাপারে হাদিসে পাকে সুস্পষ্ট বক্তব্য এসেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ঐ বিয়েতে সবচেয়ে বেশি বরকত হয়, যে বিয়েতে ব্যয় বা খরচ কম হয়।’ (বায়হাকি)

বর্তমান সময়ের বিয়েগুলোর দিকে লক্ষ্য করলেই দেখা যায়, বেহুদা বা অনর্থক খরচাদিতে পরিপূর্ণ।  বিয়ের অতিরিক্ত খরচ ও চাহিদার কারণে অনেক স্থানে পারিবারিক অশান্তি ও অকল্যাণ বয়ে আনে। যা ব্যক্তি পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর নয়।

সুতরাং প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘোষণা অনুযায়ী বিয়েতে যতটুকু খরচ না করলেই নয়, ঠিক সে পরিমাণ ব্যয় করার মাধ্যমে বিয়েতে সবচেয়ে বেশি কল্যাণ ও বরকত অর্জন করা আবশ্যক।

ব্যবসায় বরকত

মানুষের জীবন-ধারণের জন্য দরকার খাদ্য বা জীবিকা। প্রত্যেককেই নিজের জীবিকা উপার্জন করে নিতে হয়। জীবিকা যেমনিভাবে নিজের প্রয়োজন মেটানোর জন্য উপার্জন করতে হয়, তদ্রুপ এটি বান্দার ওপর একটি ফরয হুকুমও। এ প্রসঙ্গে হাদীসেও নির্দেশনা এসেছে। হযরত আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘অন্যান্য ফরয ইবাদতের পর হালাল জীবিকা উপার্জন করা ফরয’। (বাইহাকী, মেশকাত)

জীবিকা উপার্জনের সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম হলো হালাল ব্যবসা। নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে ব্যবসা করেছেন। অন্যকে ব্যবসা করতে উৎসাহিত করেছেন। ব্যবসায়ীর উচ্চ মর্তবার কথাও ঘোষণা করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সৎ ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন শহীদের সাথে থাকবে’। (সুনানে কুবরা, তাবরানী)

অনেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করে। অথচ কীভাবে ব্যবসায়ে বেশি লাভবান হওয়া যায়, তা জানে না। ফলে তেমন উন্নতি করতে পারে না। বিশাল অংকের পূঁজি খাটায়। অথচ বিক্রি কম হওয়াতে আশানুরূপ মোনাফা তুলে নিতে পারে না। দিনদিন ধ্বস নামতে থাকে ব্যবসায়। ফলে তারাই মনও ভেঙ্গে যায়। ব্যবসায়ে সময় দিতে পর্যন্ত আগ্রহ বোধ করে না । কারণ, সে ক্রেতাসাধারণকে আকৃষ্ট করতে পারছে না। ক্রেতার সাথে সৌজন্যমূলক ব্যবহার করছে না। হয়তো ক্রেতাকে আকৃষ্ট করার কলাকৌশল জানে না; বা জানলেও সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারছে না। ক্রেতা একটা মাল দেখার পর সেটা বদলে দিতে বললে, বিরক্তি প্রকাশ করছে। কোমলতা দেখাতে পারছে না। ক্রেতাকে পণ্যসামগ্রী ভালো করে যাচাই-বাছাই করার সুযোগও দিতে চায় না। অভিব্যক্তি অসুন্দর। ফলে দিনদিন খরিদদার কমে যাচ্ছে। ব্যবসায়ে দেখা দিচ্ছে মন্দা। হতাশা বাড়ছে। ঋণ করে থাকলে ঋণের বোঝাও ভারী হচ্ছে। আস্তে আস্তে দেউলিয়া হতে চলেছে ব্যবসায়ী।

কে হবে সফল ব্যবসায়ী?

অথচ একটু নিজের ব্যবহারের প্রতি খেয়াল করে, হাদীসের ব্যবস্থাপত্র মতে আমল করলে সেই হতে পারত সর্বোচ্চ বিক্রেতা। লাভবান ব্যবসায়ী। রিযিকে এসে পড়ত আসমানী বরকত। প্রথমেই নিয়ত শুদ্ধ করে সৎ-ভাবে ব্যবসা করতে হবে। কারণ, উপরুল্লিখিত হাদীসে প্রতিদানের ব্যাপারে সৎ ব্যবসায়ীর কথাই বলা হয়েছে। তারপরে, ব্যবসায়ীর কথাবার্তা হতে হবে মধুর। ব্যবহারে থাকতে হবে কোমলতা। আচরণ হতে হবে মিষ্টি। অভিব্যক্তি থাকতে হবে প্রফুল্ল। তাহলে ব্যবসায়ে আসবে আসমানী বরকত। আর হাশর হবে শহীদের সাথে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা’আলা কেনা-বেচা ও বিচার-আচারে কোমলতা ও নম্রতাকে পছন্দ করেন। (বুখারী, তারগীব)

অপর এক হাদীসে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, লেনদেনে নম্রতা ও কোমলতা অবলম্বন করো, তোমাদের উপরও কোমলতা করা হবে। (তারগীব)