ইতিহাসে আন্দালুসিয়া ও মরক্কোর ধর্মীয় সহনশীলতা

ইতিহাস ১০ জুন ২০২০ Contributor
ইতিহাসে সহনশীলতা
ID 17378967 © Maximbg | Dreamstime.com

ইতিহাসে ইসলামীয় সভ্যতার সম্প্রসারণ এবং সাংস্কৃতিক প্রকাশের ক্ষেত্রে সৌদি আরবকে এক অন্যতম প্রধান কেন্দ্রস্থল রূপে গণ্য করা হয়। কারণ এটি ইসলামের উৎসস্থল।  তবে ধর্ম কোন এক জায়গায় বিরাজ করে না, তা সুদূরপ্রসারী।

ইতিহাসে আন্দালুসিয়া: মধ্যযুগের বৌদ্ধিক মক্কা

আন্দালুসিয়া কেন নিজেকে এত সমৃদ্ধ এবং প্রসিদ্ধ এক সভ্যতা রূপে পরিণত করতে পেরেছিল তার কারণ হল ‘সময়ের সহনশীলতা’ এবং শান্তিপূর্ণ পারস্পরিক অবস্থান। মধ্যযুগীয় ইউরোপে তখন অন্ধকার সময়। ধর্মীয় সংস্কৃতি প্রসারে মুক্তমনা রীতি নীতির প্রচলন ছিল কম। সেই একই সময় উত্তরোত্তর সংস্কৃতি বিকাশের মধ্যে দিয়েই দক্ষিণ স্পেন বিশ্বের অন্যতম প্রধান বৌদ্ধিক এবং মননশীল ক্ষেত্রভূমিতে পরিণত হয়েছিল। কার্যত এই অঞ্চলটিকে কেন্দ্র করেই সেই যুগের সেরা কিছু কবিতা, সংগীত, বিজ্ঞান এবং স্থাপত্য শৈলীর প্রসার ধীরে ধীরে পরিপূর্ণতা লাভ করেছিল। শৈল্পিক নিদর্শনের উৎকর্ষতাই কোথাও গিয়ে তার উন্মুক্ত এবং বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গিকে ফুটিয়ে তোলে। শিল্পী এবং বিদগ্ধ পণ্ডিতবর্গের যে একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা যে এই অনুসন্ধানপর্বে বিশেষ ভাবেই যুক্ত ছিল তা সহজেই অনুভূত হয়।

বিভিন্ন ধর্ম এবং ধর্মীয় রীতি-নীতি ব্যবস্থাপনার প্রতিও এই উদারনৈতিক এবং উন্মুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি  উপস্থিত ছিল। স্পেনীয় ঐতিহাসিক বিবৃতি অনুসারে শান্তিপূর্ণ এই সহাবস্থানের ভঙ্গিমাকে বলা হয় ‘লা কনভিভেনসিয়া’ বা সহাবস্থান (শব্দের সবচেয়ে আক্ষরিক অর্থে)। বস্তুত এটি হল সেই যুগের কথা যে সময়ে একজন মুসলিম শাসকের সাম্রাজ্যে একজন ইহুদি কার্যনির্বাহী সদস্য চোখে পড়ত এবং একইসঙ্গে একজন আর্চবিশপ ছিলেন সেক্রেটারি অফ স্টেট। অপেক্ষাকৃত শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষেই অধিকাংশের মতাদর্শ গৃহীত হয়েছিল। এঁরা প্রত্যেকেই একে অপরকে গ্রহণ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করেনি।

ইতিহাসে মরক্কো ও মুসলিম ও ইহুদিরা

ইতিহাসে পাওয়া তথ্যসূত্র অনুসারে মুসলিম ও ইহুদিরা দীর্ঘদিন বর্তমান মরক্কো দেশে স্থায়িভাবে বসতি স্থাপন করেছিল। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত ইহুদিদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তখন মরক্কোতে প্রায় আড়াই লাখ ইহুদি বাস করত, পরবর্তী সময়ে সংখ্যাটা অবশ্য প্রায় এক কোটিতে দাঁড়িয়েছিল। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে অভিবাসনের দরুণ মরক্কো নিবাসী ইহুদীরা ইজ্রায়েলে চলে যেতে বাধ্য হয়। তবুও, মরোক্কান ইহুদিরা সুলতান পঞ্চম মুহাম্মদ দ্বারা ভাল আচরণই পেয়েছিল। ঐতিহাসিক রেকর্ড অনুসারে, ভিচি-ফ্রান্সের এক নাৎসি সেনাপতি মরক্কোতে ইহুদীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এসেছিলেন। সুলতান জবাব দিয়েছিলেন: ‘আমাদের মরক্কোতে ইহুদী নেই, শুধুমাত্র মরোক্কোর নাগরিকরা রয়েছে।’ প্রতিবছর, ‘হলোকাস্ট’-এর স্মারক দিবসে এই বিশেষ ঘটনাটি উদযাপন করেন মরোক্কর ইহুদিবাদীরা।

সুলতানের এই দৃষ্টিভঙ্গি যেন কোরানে উল্লেখিত আদেশেরই একরকম প্রয়োগ। উপরোক্ত অংশগুলি আমাদের যা শিক্ষা দেয় তার একটি সুন্দর দিক অবশ্যই রয়েছে। এটি আবার প্রমাণ করে যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রয়োজন এবং তা অবশ্যই সম্ভব। ঘৃণা এবং প্রতিশোধের যুক্তিতে ইসলাম সর্বদাই বিরোধিতা করে এসেছে।