বিশ্বের ধনী দেশগুলিতে মৃত্যুর প্রধান কারণ ক্যান্সার

সুস্বাদ Omar Faruque ০৫-সেপ্টে.-২০১৯

সারা পৃথিবী জুড়ে মানুষের আয়ুষ্কাল বেড়েছে। ১৯৫০ সালে বৈশ্বিক গড় আয়ু ছিল ৪৬ । ২০১৫ সাল নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭১ এর বেশি। যেসব কারণে মৃত্যু আমাদের অকালে গ্রাস করতে পারে তার মধ্যে আছে সন্ত্রাসবাদ, যুদ্ধ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ- যা থেকে মোট মৃত্যুর ০ দশমিক ৫ শতাংশের কম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

কিন্তু বিশ্বজুড়ে এখনো বহু মানুষ খুব অল্প বয়সে মারা যাচ্ছে এবং তা হচ্ছে প্রতিরোধযোগ্য নানা কারণে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী মারা যায়, ক্যান্সার, হৃদরোগ সহ বিভিন্ন ব্যাধিতে।  যদিও হৃদরোগকে ছাপিয়ে গেল ক্যানসার। বিশ্বের ধনী দেশগুলির ক্ষেত্রে এটাই এখন সত্যি। গবেষকেরা বলছেন, অদূর ভবিষ্যতে সারা দুনিয়ায় সব থেকে বেশি লোকের মৃত্যুর কারণ হবে ক্যানসার।

চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের সমীক্ষা বলছে, বিশ্বের ধনী দেশগুলিতে এখন ক্যান্সারে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছেন। অদূর ভবিষ্যতে সারা পৃথিবীতে একই প্রবণতা দেখা যাবে। এতদিন সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর কারণ ছিল হৃদরোগ। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়ীকী ল্যানসেটে প্রকাশিত চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের দুটি সমীক্ষায় এই বদল দেখা যাচ্ছে।

বিশ্বে এখনও মধ্যবয়সীদের মধ্যে ৪০ শতাংশের মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ। কিন্তু ধনী দেশগুলিতে এর প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ লোক ক্যানসারে মারা যাচ্ছেন। কানাডার লাভাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গিলেস ড্যাজেনাইস বলেছেন, ‘আমাদের রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ২০১৭ সালে বিশ্বজুড়ে ২৬ শতাংশ লোক ক্যান্সারে মারা গিয়েছেন। এক্ষেত্রে এক নম্বরে ছিল হৃদরোগ ও দু’নম্বরে ক্যান্সার। কিন্তু হৃদরোগে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ কমছে, তাই কয়েক দশকের মধ্যে ক্যান্সারেই সবথেকে বেশি লোক মারা যাবেন’।

দু’বছর আগে অর্থাৎ ২০১৭ সালে পাঁচ কোটি ৫০ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিলেন। তার মধ্যে এক কোটি ৭৭ লাখ হৃদরোগে মারা গিয়েছেন। আর ৭০ শতাংশ হৃদরোগের কারণ ছিল উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, খাদ্যাভ্যাস, বেশি মাত্রায় কোলেস্টোরেল এবং জীবনধারনের অভ্যাসগত ত্রুটি।

ধনী দেশগুলিতে ওষুধ সেবনের ফলে উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টোরেলের পরিমাণ কম থাকছে। ফলে হৃদরোগে মৃত্যুর সংখ্যাও অনেকটা কমে গিয়েছে। কিন্তু গরিব দেশগুলোতে অনুন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার কারণে হৃদরোগে মৃত্যুর সংখ্যা যথেষ্ট বেশি। গরিব ও মাঝারি আয়ের দেশগুলিতে হার্ট অ্যাটাক হলে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা ও জরুরি ওষুধের স্বল্পতার কারণে মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে।

যেসব দেশে সমীক্ষা করা হয়েছিল তার মধ্যে আছে বাংলাদেশ, ভারত, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কানাডা, চিলি, চীন, পোল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপিন্স, কলম্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ইত্যাদি।

Source: The Daily Sun

Photo: Unsplash