বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদ

কভার গল্প Omar Faruque ১৭-সেপ্টে.-২০১৯

মসজিদসমূহ কেবলমাত্র সুন্দর, মুসলমানদের প্রার্থনা ও উপাসনা করার জন্য পবিত্র স্থান নয়, এতে চমকপ্রদ এবং আড়ম্বরপূর্ণ স্থাপত্যও রয়েছে। যদিও প্রতিটি মসজিদ আলাদাভাবে নকশাকৃত, মূলত এর গম্বুজ, মোজাইক এবং সর্পিল বুরুশ পরিহিত মুখোশ পাওয়া যাবে। সিলিংসমূহ সাধারণত টকটকে ক্যালিডোস্কোপিক রঙে সজ্জিত।

ঐতিহাসিকভাবে, সর্বপ্রথম মসজিদটি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এবং তাঁর সাহাবিগণ দ্বারা ক্বুবায় নির্মিত মদীনাহ আল-মুনাওয়ারা।

সেই থেকে মসজিদটিতে মুসলিম সম্প্রদায় নামাজ আদায় করে। নবী করীম (সাঃ) অভ্যাসগত প্রতি শনিবার পায়ে হেঁটে বা উটের পিঠে চড়ে দু’রাক’আত নামায পড়ার জন্য কুবা মসজিদে আসতেন। বিগত শতাব্দীতে, বেশ কয়েক খলিফা দ্বারা মসজিদটি সংস্কার করা হয়েছিল। ক্বুবা মসজিদে চারটি মিনার, ৫৬টি গম্বুজ এবং এর পাশেই ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বাসস্থান পুরোপুরি সজ্জিত করার জন্য প্রসারিত করা হয়েছে। একটি গ্রন্থাগার, বাণিজ্য কেন্দ্রে ১২ টি দোকান রয়েছে, এবং পুরুষদের জন্য ৬৪টি ও মহিলাদের জন্য ৩২ টি টয়লেট এবং ৪২ টি ওযুর স্থান নির্মিত হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ইসলামের বিস্তারে মসজিদের প্রচার উত্সাহিত করে। ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি ইসলামিক স্থাপনাগুলো সভ্যতা ও ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শত, সহস্র ইসলামিক স্থাপনার মধ্য থেকে কয়েকটি নিদর্শন উপভোগের অবিশ্বাস্য অন্তর্দৃষ্টি দেয়। আসুন আপনাদের সামনে কতগুলি অপরূপ মসজিদের ছবি ভাগ করে নিই

মক্কার আল হারাম মসজিদ

মসজিদুল হারাম ইসলামের প্রধানতম মসজিদ। এখানে অবস্থিত কাবার দিকে ফিরে মুসলিমদের নামাজ পড়তে হয়। হজ্জ ও উমরার সময়ও মসজিদুল হারামে উপস্থিত হতে হয়।এটি বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদ। বলা যায় এই চমকপ্রদ মসজিদটি এক সভায় তিন লক্ষ নামাজিকে স্থান দিতে সক্ষম! সর্বাধিক পবিত্র কাবা, ৪৯ ফুট দীর্ঘ ঘনক্ষেত্র যা কালো সিল্কের কাপড় দিয়ে আচ্ছাদিত।

ছবি: Mseesquare ShahiqUnsplash

 

মদিনার নববি মসজিদ

সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত এই মসজিদটি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) স্বয়ং নির্মিত করেছিল। মসজিদটি মুসলিমদের অন্তরে একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে কারণ এটি আল হারাম মসজিদের পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম পবিত্র স্থান। মূল নববী মসজিদটি ছিল একটি খোলামেলা দালান যা কেবল খেজুর কাণ্ড, পিটানো মাটি এবং খেজুর পাতা দিয়ে তৈরি। ১৯০৯ সালে, বিদ্যুৎ সংযোগে সৌদি আরবের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে।

ছবির: Adli Wahid, Unsplash

 

তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সুলতান আহমেদ মসজিদ (নীল মসজিদ)

অটোম্যান স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত মসজিদটির প্রযুক্তিগত সৌন্দর্য সত্যিই দারুণ ও চিত্তাকর্ষক। এটি মুসলমানদের জন্য শুধুমাত্র একটি মসজিদ নয়। বরং এটি ওই অঞ্চলের সর্বাধিক জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় স্থাপত্য-নিদর্শন। দৃষ্টিনন্দন নীল গম্বুজ ও মসজিদের দেয়ালের নীল রঙের টাইলসের কারণে এটি ‘ব্লু  মস্ক’ বা ‘নীল মসজিদ’ নামে পরিচিত। অবশ্য এর অফিসিয়াল নাম ‘সুলতান আহমেদ মসজিদ’। প্রায় ২০,০০০ নীল টাইলসে বিভিন্ন বিমূর্ত নকশার বৈশিষ্ট্যযুক্ত এই স্থাপনাটি।

ছবি: Adli Wahid , Unsplash

 

নাসির আল মুলক ইরান

বর্ণিল আলোকময়তায় অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনা থেকে আকর্ষণীয় এবং ব্যতিক্রম হিসেবে ফুটিয়ে তোলে এই নাসির আল মুলক মসজিদটি। মসজিদটির কাঁচ সাজানো হয়েছে বিভিন্ন ডিজাইনে। সেই কাঁচ সকালের আলো ধারণ করে। আর বর্ণিল সেই আলো খেলা করে মসজিদের ফ্লোরে। আলোর এই বর্ণিল খেলার জন্য একে পিঙ্ক মসজিদও বলা হয়। মসজিদটির কিছু টাইলস সাজানো হয়েছে গোলাপি রঙে। জ্যামিতিক নকশাকৃত টাইলসগুলো পুরোপুরি তরঙ্গায়িত।

ছবি: Steven Su , Unsplash

 

আবুধাবির শেখ জায়েদ গ্রান্ড মসজিদ

আবুধাবির এই মসজিদটি ২০০৭ সালে নির্মিত হয়েছিল প্রয়াত শাসকের নামে। শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদগুলির মধ্যে একটি। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ কার্পেট এবং সর্ববৃহৎ ঝাড়বাতি উভয়ই ১২০০ হস্তশিল্প কারিগর দ্বারা নিখুঁতভাবে নির্মিত। এই মসজিদের উন্মুক্ত দরজা বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের নন্দনীয় আর্কিটেকচার প্রত্যক্ষ করার আমন্ত্রণ জানায়।

ছবি: Junhan Foong , Unsplash

 

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শাহ ফয়সাল মসজিদ

মসজিদটি দেখতে অনেকটা মরুভূমির বেদুঈনদের তাঁবুর মতো। সারা পৃথিবীতে এটি ইসলামাবাদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত। পাকিস্তানের ইসলামাবাদের উত্তরে অবস্থিত মার্গলা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এবং উঠানটি  প্রায় ১০,০০০ লোক ধারণে সক্ষম। অমুসলিম দর্শনার্থীদেরও দর্শণে স্বাগতম করে।

ছবি: Syed Bilal Javaid , Unsplash

 

মালয়েশিয়ার ক্রিস্টাল মসজিদ

মালয়েশিয়ার কুয়ালা তেরেংগানুতে অবস্থিত, দুর্দান্ত কাঠামোটি ইস্পাত, কাঁচ এবং স্ফটিক দিয়ে তৈরি। এর সামগ্রিক নকশা মসজিদকে একটি অসাধারন চেহারা দেয়। মসজিদটি ২০০৬ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল এবং একসাথে ১,৫০০ এর বেশি নামাজী থাকতে পারে। মসজিদটি দেখার সবচেয়ে ভাল সময় সন্ধ্যায় যখন এটি বিভিন্ন রঙে আলোকিত হয়। মসজিদটির একটি উন্মুক্ত দরজা রয়েছে, যা সারা বিশ্বের পর্যটকদের আকর্ষণ করে। কেবল সরবরাহ করা পোশাক এবং স্কার্ফ লাগাতে ভুলবেন না এবং প্রবেশের আগে আপনার জুতা খুলে ফেলুন।

ছবি: 123RF