বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় একটি বৃহৎ পরিবারের ন্যায় সম্পৃক্ত

Diversity
ID 135505970 © Marcos Calvo Mesa | Dreamstime.com

একজন অপরিচিত মহিলার সাথে ঘন্টাব্যাপী ইসলাম নিয়ে আলোচনা হলো। সে আমাকে অনুরোধ করলো, ভার্সিটি ক্যাম্পাসের মসজিদটি তাঁকে চিনিয়ে দিতে। আমি তাঁকে সাথে করে নিয়ে যাওয়ার পথে সে তাঁর মত অনেক মহিলাকেই হাসিমুখে সালাম দিতে লাগল। আমি কৌতুহলের সাথে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, “আপনার এখানে এত মানুষের সাথে পরিচয় আছে?”

তিনি বললেন, “এরা আমার বোন। আমরা একে অপরকে আমাদের হিজাব দ্বারা চিনতে পারি, তাই সালাম বিনিময় করি। মুসলমানরা সবাই একটা বড় পরিবারের মত!”

এই কথাটি আমার উপর অনেক প্রভাব ফেলেছিল। মুসলিমরা একে অপরকে রাস্তায় সালাম দেয় যদিও তারা একে অপরকে চেনে না!

সালামের সৌন্দর্য

আপনি হয়ত আরব বা কোনো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ‘হ্যালো’ এর পরিবর্তে ‘আসসালামু আলাইকুম’ শব্দটি শুনে থাকবেন। আপনি যদি একটু চিন্তা করেন তাহলে বুঝবেন, সালাম নির্বোধ ‘হ্যালো’ এর চেয়ে অনেক ভাল, এটি একটি সুন্দর দু’আ।

“তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক”। যখন আপনি কোনো ভাই বা বোনকে সালাম করেন তখন আপনি তার জন্য শান্তির দু’আ করেন। এটি একটি ঘোষণা যে, আপনি তাদের সন্তুষ্টি, সুখ এবং স্বাচ্ছন্দ্য চান।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছেঃ

“মুমিন হওয়া ছাড়া কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না, আর পারস্পরিক ভালবাসা ছাড়া তোমরা কেউ মুমিন হতে পারবে না। আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি বিষয় বলবো যা তোমাদের মধ্যে ভালবাসা সৃষ্টি করবে? তা হল তোমরা খুব সালামের প্রসার ঘটাও” (মুসলিম)

এই সাধারণ অভিবাদনটি আমাদের মাঝে ঐক্য ও ভালবাসা সৃষ্টি করে।

আমার শহরটি অনেক ছোট। এখানে তেমন হিজাবী বোনও নেই, তাই আমি যখন কোনো বোনকে পাই আর তাঁকে সালাম করি তখন এটি যেন আমার সারাটি দিনকে সুন্দর করে দেয়।

পারস্পরিক অধিকার

আল্লাহ কুরআনে বলেছেনঃ

“মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই” (আল কুরআন-৪৯:১০)

ভিক্ষুক হোক বা রাজা, একজন মুসলিমের উপর অপর মুসলিমের ছয়টি অধিকার রয়েছে।

১) দেখা হলে সালাম দেওয়া।

২) দাওয়াত গ্রহণ করা।

৩) সৎ কাজে আদেশ দেওয়া।

৪) হাঁচি দিলে তার উত্তর দেওয়া।

৫) অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া।

৬) মৃত্যুবরণ করলে তার জানাযায় শরীক হওয়া।

এই নির্দেশনাগুলির প্রত্যেকটিই ভালবাসা এবং ঐক্য বৃদ্ধি করে।

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাউকে ভালবাসা

বোনদের সারিতে দাঁড়িয়ে, নামাজ শুরু হওয়ার অপেক্ষায়, একটি মেয়ে যাকে আমি চিনতাম না সে আমাকে বলল, “বোন, আপনার স্কার্ফটি সরে গেছে, দিন আমি এটি ঠিক করে দিই”

একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত মহিলা কত যত্ন করে আমার স্কার্ফটি ঠিক করে দিয়েছিল, এই ভেবে যে এটি আমার নামাজে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং সে আমাকে তাঁর বোন হিসেবে সম্বোধন করেছিল। আমি আর কখনই তাঁকে দেখিনি, তবে আমি আর কখনই তাকে ভুলব না।

হাদিসে আছে-“ঐসকল লোক কোথায় যারা আমার সন্তুষ্টির জন্য পরস্পরকে ভালোবাসত? আজ আমি তাদেরকে আমার আরশের ছায়ায় স্থান দেব যেখানে এটি ব্যতিত আর কোনো ছায়া নেই” (মুসলিম)

এই হাদিসটি একে অপরকে ভালবাসার গুরুত্ব প্রকাশ করে। এটি এত গুরুত্বপূর্ণ যে, আল্লাহ কেবল ঐ সমস্ত মানুষকে খুঁজে বের করে তাঁর আরশের নিচে ছায়া দেবেন।

আরেকটি হাদিসে একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে-একজন লোক অন্য শহরে তাঁর এক মুসলিম ভাইকে দেখতে যাচ্ছিলেন এবং আল্লাহ তাঁর পথে একজন ফেরেশতা প্রেরণ করলেন। ফেরেশতা লোকটির সাথে দেখা করে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ

“আপনি কোথায় যেতে চান?”

লোকটি বললঃ

“এই শহরে আমার এক ভাইয়ের সাথে দেখা করার ইচ্ছা আছে।”

ফেরেশতা বললেনঃ

“আপনার প্রতি কি তাঁর কোনো অনুগ্রহ আছে?”

সে বললঃ

“না, তাঁর সাথে দেখা ছাড়া আমার কোনো ইচ্ছা নেই, কারণ আল্লাহর জন্য আমি তাকে ভালবাসি।”

তখন ফেরেশতা তাঁকে বললেনঃ

“আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনাকে এটি জানাতে এসেছি যে, আল্লাহও আপনাকে ঐরূপ ভালোবাসেন যেরূপ আপনি আপনার মুসলিম ভাইকে ভালোবাসেন” (মুসলিম)

সুতরাং আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হলে পরস্পরকে ভালোবাসতে হবে।

আরেকটি হাদিসে বর্ণিত আছে-

“তুমি মুমিনদেরকে তাদের পারস্পরিক সহানুভূতি, বন্ধুত্ব ও দয়ার ক্ষেত্রে একটি দেহের মতো দেখবে। যখন দেহের কোন একটি অঙ্গ ব্যথা পায়, তখন শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এর কারণে রাত জাগরণ ও জ্বরের মাধ্যমে তার ব্যথায় সমঅংশীদার হয়।” (বুখারী)

আল্লাহ আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করুন এবং আমাদের মধ্যে ভালবাসা বৃদ্ধি করে দিন। আমীন!