SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

বিয়েতে মোহরানা সম্পর্কে ইসলামের বিধান

বিবাহ ১১ ফেব্রু. ২০২১
জানা-অজানা
বিয়েতে মোহরানা
© Issam Elhafti | Dreamstime.com

ইসলামী শরিয়াহ মতে, সামর্থ্যবান সকল প্রাপ্ত বয়স্ক নর-নারীর জন্য বিবাহ ওয়াজিব বা আবশ্যক। বিবাহ সম্পর্কে মহান রাব্বুল আলামীন বলেন,

“তোমরা নারীদের মধ্য হতে পছন্দমতো যাকে ইচ্ছা বিবাহ করো। যদি সকলের প্রতি ইনসাফ করতে পার তবে দুই, তিন বা (সর্বোচ্চ) চার। অন্যথায় একটাই।” (আল কুরআন-৪:৩)

স্বাভাবিক জীবনেও বিবাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এ কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা বিবাহ করো। কেননা তা চক্ষুকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে।”

বিবাহের জন্য ইসলামী শরিয়াহ কিছু শর্ত আরোপ করেছে, তার মধ্যে প্রধান একটি হল মোহরানা। বিয়েতে মোহরানা সম্পর্কে নিম্নে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

মোহরানার পরিচয়

স্ত্রীকে নিজের কাছে হালাল করার জন্য তাকে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা বা কোনো কিছু প্রদান করাকে মোহরানা বলা হয়। বিয়েতে মোহরানা মোহরানা একজন নারীর অধিকার। এটি কোনো উপহার নয় যে, মন চাইলে কেউ দিল, আর না চাইলে দিল না।

বিয়েতে মোহরানা সম্পর্কে কুরআন

আল্লাহ তা’আলা বলেন,

“আর তোমরা নারীদের মোহরানা সন্তুষ্টে চিত্তে দিয়ে দাও, আর তারা যদি খুশি হয়ে তোমাদের জন্য কোনো অংশ ছেড়ে দেয় তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতে পারো।” (আল কুরআন-৪:৩)

এছাড়াও পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার ২৪নং আয়াত ও সূরা মুমতাহিনার ১০নং আয়াতে, বিয়েতে মোহরানা প্রদানের কথা উল্লেখিত হয়েছে।

উল্লেখিত আয়াতের মাধ্যমেই প্রমাণিত হচ্ছে যে বিবাহ শুদ্ধির জন্য মোহরানা প্রদান আবশ্যক।

বিয়েতে মোহরানা সম্পর্কে হাদীস

মোহরানা একজন নারীর হক, যদি কোনো ব্যাক্তি মোহরানা আদায় না করার ইচ্ছা নিয়ে বিবাহ করে তবে সে ব্যাভিচারী গন্য হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, “যে ব্যাক্তি কোনো মেয়েকে মোহরানা দেওয়ার ওয়াদায় বিয়ে করেছে, কিন্তু বাস্তবে তার মোহরানা দেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই, তবে কিয়ামতের দিন সে আল্লাহর নিকট ব্যাভিচারী হিসেবে দাঁড়াতে বাধ্য হবে।” (মুসনাদে আহমাদ)

তাই সর্বোত্তম হচ্ছে, একজন নারীকে বিবাহ করার পর তার সাথে মিলিত হওয়ার পূর্বেই তার মোহরানা তাকে বুঝিয়ে দেওয়া।

উপরোক্ত হাদীস এবং মোহরানা সম্পর্কে আরও বিভিন্ন হাদিস পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে যে, পুরুষের জন্য মহিলাকে বিবাহ করার সময় বা বিয়ের পরবর্তীতে মোহরানা প্রদান করা অত্যাবশ্যক।

বর্তমান সমাজব্যবস্থাই মোহরানা

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও বাস্তব যে, বর্তমান সমাজে মানুষ বিয়েতে মোহরানাকে কাবিন বানিয়ে নিয়েছে। আর এর প্রতি তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপও নেই যে, তা তাদেরকে আদায় করতে হবে। কনে পক্ষ ছেলে পক্ষকে কাবিন বেশি করার জন্য চাপ দেয়। তারা ভাবে যে, তাহলে মনে হয় তাদের মেয়ের সংসার আর ভাঙ্গবে না। অপরদিকে ছেলে পক্ষ মেয়ে পক্ষকে যৌতুক বেশি করার জন্য চাপ দেয়। এভাবে সমাজে মোহরানা নিয়ে এক ধরণের খেলা চলে। আর কেউই তা পরিশোধের চিন্তা করে না।

বর্তমান সমাজে একজন ছেলে ইসলামিক রীতিনীতি মেনে বিয়ে করতে চাইলে তার জন্যে মেয়ে খুঁজে পাওয়া অনেকক্ষেত্রে মুসকিল হয়ে যায়। কারণ কোনো পরিবারই তার মেয়েকে কম টাকার কাবিনে বিয়ে দিতে রাজি হয় না। সকলেই এই ভয় পায় যে, পরে যদি আবার মেয়েকে ছেড়ে দেয়। এসবের মূল কারণ হচ্ছে আমরা ধর্মীয় শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছি। অথচ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের বিধানই হচ্ছে নগদ মোহরানা প্রদান করে বিয়ে করা। আমরা যখন ইসলাম থেকে দূরে সরে গেছি তখন শয়তান এসে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। আর সে সমাজে তার বিধান ‘যৌতুক’ চালু করে দিয়েছে।

মোহরানার পরিমাণ

বিয়েতে মোহরানার সর্বনিম্ন পরিমাণ নিয়ে আলেমদের মাঝে মতপার্থক্য আছে। অনেক আলেমর মত হচ্ছে, “যে পরিমাণ মোহরে উভয় পক্ষ রাজী হবে ততটুকুই হবে মোহরানা, তা যে পরিমাণই হোক না কেন।” আবার অনেক আলেমের মতে, সর্বনিম্ন মোহরানা এক দিনারের এক চতুর্থাংশের কম হতে পারে না।

মোহরানা অত্যধিক নির্ধারণ করার বিষয়ে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বলেছেন, “সাবধান! তোমরা নারীদের মোহরানা অধিক পরিমাণে বৃদ্ধি করো না। কেননা যদি দুনিয়াতে তা সম্মানের বস্তু হত, তবে এ ব্যাপারে নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদের চেয়ে বেশি উদ্যোগী হতেন। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বার উকিয়ার বেশি পরিমাণ মোহরানা দিয়ে তার কোনো স্ত্রীকে বিবাহ করেছেন অথবা কোনো কন্যাকে বিবাহ দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই।”

এ কারণে মোহরানার বিষয়ে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি উভয়কে ত্যাগ করে আমাদের উচিত মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা। আর তা হল প্রত্যেক ব্যক্তি বিবাহের সময় তার সামর্থ্য অনুযায়ী মোহরানা প্রদান করা।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলকেই তাঁর বিধান মেনে ইহকালীন শান্তি এবং পরকালীন মুক্তি লাভ করা ও সমাজের সকল স্তরে তার বিধান প্রতিষ্ঠা করার তওফিক দান করুন। আমীন।