SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

বিয়ে করতে ইচ্ছুক? জেনে নিন কিছু টিপস

বিবাহ ১৮ ফেব্রু. ২০২১
ফিচার
বিয়ে করতে
Photo by Lukas from Pexels

বিবাহ হচ্ছে একটি সামাজিক বন্ধন বা বৈধ চুক্তি যার মাধ্যমে দু’জন পুরুষ ও নারীর মাঝে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং আদর্শ পরিবার ও নিরাপদ সমাজ গড়ে ওঠে। বিয়ে করতে কী প্রয়োজন?  বিবাহ শুধুমাত্র নারী-পুরুষের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্কই নয়, বরং সুস্থ ও স্বাভাবিক সমাজ গঠনের মূল হাতিয়ারও। বৈবাহিক জীবন যেন সুন্দর হয় সে কারণে বিবাহের পূর্ব থেকেই পরিকল্পনা করা উচিত।

সুন্দর বৈবাহিক জীবন শুরু করার জন্য নিম্নে এমনই কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ শেয়ার করা হল, যেগুলি বিবাহ উপযুক্ত পুরুষ ও নারীদের জন্য অনেক ফলদায়ক হবে ইনশাআল্লাহ-

১। বিয়ে করতে ইস্তিখারা করা

সকল নর-নারীর জীবনে বিবাহ অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। তাই যখন কেউ বিয়ের সিদ্ধান্ত নিবেন, তাদের জন্য কর্তব্য হল ইস্তিখারার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করা।

ইস্তিখারা করলে কোনো কাজে কল্যাণ থাকলে আল্লাহ সেদিকে বান্দার মন ঘুরিয়ে দেন, আর অকল্যাণ থাকলে সেই কাজ থেকে বান্দার মন ফিরিয়ে দেন। যেহেতু বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন সারাজীবনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, তাই উদ্দিষ্ট পাত্র বা পাত্রীর মাঝে আপনার জন্য কল্যাণ আছে কিনা সেটি জানতে অবশ্যই ইস্তিখারা করুন।

২। নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করা

বিয়েতে সম্মতি দেওয়ার পূর্বে অভিজ্ঞ এমন কারও সাথে পরামর্শ করা উচিত, যিনি পাত্র বা পাত্রীর পরিবার সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম যেকোনো কাজে তাঁর সাহাবীদের সঙ্গে অধিক পরিমাণে পরামর্শ করতেন। আবূ হুরায়রা(রাযিঃ) বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের চেয়ে অন্য কাউকে আপন সাথীদের সঙ্গে বেশি পরামর্শ করতে দেখি নি।”(তিরমিযী)

তবে যার সাথে পরামর্শ করাহবে, এক্ষেত্রে তারও কর্তব্য হচ্ছে, বিশ্বস্ততা রক্ষা করা। তিনি যেমন কারও কোনো দোষ লুকাবেন না, তেমনিভাবে আসলে নেই, এমন কোনো দোষের কথাও নিজ থেকে বানিয়ে বলবেন না। আর অবশ্যই এ পরামর্শের কথা কাউকে বলা থেকে বরত থাকবেন।

৩। বিয়ে করতে পাত্র বা পাত্রী দেখা

বিবাহের পূর্বে পাত্র ও কনের পারস্পরিক সাক্ষাতের অনুমতি ইসলামী শরীয়ত দিয়েছে। কিন্তু সে সম্পর্কেও সুস্পষ্ট কিছু দিক-নির্দেশনা রয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিবাহের জন্য প্রস্তাব দেয়, অতঃপর তার পক্ষে যদি ঐ নারীর এতটুকু সৌন্দর্য দেখা সম্ভব হয়, যা তাকে মুগ্ধ করে এবং মেয়েটিকে বিয়ে করতে উদ্বুদ্ধ করে, তবে সে যেন তা দেখে নেয়।” (বাইহাকী)

৪। বিয়েতে পাত্রীর অনুমতি নেওয়া

বিয়েতে একজন নারীর অনুমতি নেওয়া খুবই জরুরী। বিয়ের সিদ্ধান্তে পাত্রীর মতামত নেওয়া তাঁর অধিকার এবং পিতা বা অভিভাকদের ইচ্ছার বাইরে যাওয়াও তাঁর জন্য অনুচিত।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এমন কোনো নারী পূর্বে যার বিবাহ হয়েছিল, বিয়ের ব্যাপারে তার নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তার পিতা বা অভিভাবকের তুলনায় বেশি এবং একজন কুমারী মেয়ের বিয়েতে অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। তবে নীরবতাই তার সম্মতি।” (বুখারী ও মুসলিম)

৫। বর-কনের পারস্পরিক যোগাযোগ

বিবাহের পূর্বে একজন নারী বিয়ের প্রস্তাবদানকারী পুরুষের সাথে মোবাইল, চিঠি বা অন্য কোনো মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারবেন। তবে এই যোগাযোগ হবে শুধুমাত্র বিয়ের চুক্তি বা শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা করার জন্য। এবং এই যোগাযোগ হতে হবে অবশ্যই ভাব ও আবেগবর্জিত পন্থায়। উল্লেখ্য, এ যোগাযোগ উভয়ের পিতা বা অভিভাবকের সম্মতিতেই হওয়া উচিত।

কিন্তু বিবাহের পূর্বে প্রস্তাবদানকারীর সাথে ঘুরতে বের হওয়া, সফরে যাওয়া বা নির্জনে অবস্থান করা ইসলামী শরীয়তে সম্পূর্ণভাবে নিষেধ। কেননা, বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত ঐ পুরুষ তার কেউ নয়। তাঁর সাথে পর্দা রক্ষা করা ফরজ।

৬। একজনের সাথে বিয়ের কথা-বার্তা চলতে থাকাবস্থায় অন্য কারও প্রস্তাব না দেওয়া

কোনো নারীর যখন অন্য কারও সাথে বিবাহের জন্য কথাবার্তা চলছে বা যখন কোনো নারীর অন্য কারও সাথে বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, এমন মুহুর্তে সেই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া ইসলামী শরীয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে প্রথম প্রস্তাবদানকারী যদি অনুমতি দেয় বা বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়, তখনই দ্বিতীয় কেউ সেই নারীকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব দিতে পারবে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “একজন মুমিন অপর মুমিনের ভাই। তাই কোনোকিছু কেনার সময় এক ভাইয়ের উপর আরেক ভাইয়ের অধিক দাম হাকানো বা এক ভাই যখন কোনো নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়, তখন অন্য ভাইয়ের জন্য তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া নিষেধ, যদি না সে তাকে অনুমতি দেয়।” (মুসলিম)

৭। উপযুক্ত পাত্র বা পাত্রীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান না করা

উপযুক্ত পাত্র বা পাত্রীর কাছ থেকে যখন বিয়ের প্রস্তাব আসে তখন তা নাকচ করা উচিত নয়। এ ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তাগিদ দিয়েছেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যদি এমন কেউ তোমাদেরকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, যার ধার্মিকতা ও চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, তবে তোমরা তার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেবে। যদি তা না করো, তবে পৃথিবীতে ব্যাপক বিশৃংখলা ও অরাজকতা সৃষ্টি হয়ে যাবে।” (তিরমিযী)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন, “তিনটি বিষয়ে দেরি করা উচিত নয়। ১) সালাত আদায়- যখন সালাতের সময় হয়ে যায়, ২) দাফন করা- যখন জানাযা হয়ে যায় এবং ৩) একজন নারীর বিয়ে- যখন সমমর্যাদা সম্পন্ন কোনো পুরুষ বিয়ের প্রস্তাব দেয়।” (তিরমিযী)