বুদ্ধিমতী মহিলা কারা? আপনি কি তাদের মধ্যে একজন হতে চান?

অনেক সংস্কৃতিতে পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের উপদেশ দেওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। বিশেষত যেসব মহিলা বিবাহ করতে চান তাদেরকে বেশি পরামর্শ প্রদান করা হয়। যেমন: কীভাবে সে একজন ভাল স্ত্রী হতে পারে, কীভাবে একজন ধার্মিক স্ত্রী হতে পারে, কীভাবে তার স্বামীর সকল চাহিদা পূরণ করতে পারে ইত্যাদি।

কিন্তু এর মানে এই নয় যে, মহিলাদের বুদ্ধি পুরুষের চেয়ে কম। সঠিক দিকনর্দেশনা পারে একজন মহিলাকেও জ্ঞানী হিসেবে গড়ে তুলতে।

সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ হলেও আসলে জ্ঞানী হয়ে কেউই জন্মায় না। মানুষ তার বুদ্ধিমত্বাকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যায়, যা তাকে জ্ঞানী প্রমাণিত করে। আর যারা তাদের এই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সামনে যেতে পারে তারাই প্রকৃত সফল মানুষ। অল্পতেই যারা ব্যর্থতার গ্লানি নিজের কাঁধে তুলে নেয় তারা কখনোই সামনে এগিয়ে যেতে পারে না। তবে নিজের যোগ্যতাকে চিনে তাকে নিজের মধ্যে ধারণ করলে আপনিও হয়ে উঠতে পারবেন একজন বুদ্ধিমতী মহিলা। নিজেকে জ্ঞানীদের কাতারে নিলে তবেই দেখা মিলবে সফলতার। আর সেই পর্যায়ে নিতে হলে অবশ্যই নিজের মধ্যে জ্ঞান আরোহণের প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবে।

সাধারণত যে সহজ কিছু উপায় নিয়মিত অনুসরনের মাধ্যমে নিজেকে বুদ্ধিমতী মহিলাদের কাতারে নিয়ে যেতে পারবেন সেরকম কিছু বিষয় নিয়েই আজকে আমরা আলোচনা করবো। চলুন তাহলে শুরু করা যাক-

১. জানার আগ্রহ থাকা

নিজের মধ্যে যে জ্ঞান আছে তা নিয়ে কখনওই সন্তুষ্ট থাকা চলবে না। সবসময় অন্যদের থেকে নতুন নতুন সবকিছু জানতে আগ্রহী হতে হবে। বলতে তো সবাই পারে। কিন্তু শুনতে পারার ক্ষমতা খুব কম মানুষেরই থাকে। মেয়েদের মধ্যে সাধারণত শ্রবণের চেয়ে কথা বলার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। আপনি যখন শুধু বলেই যাবেন আপনি কিছু শিখতে পারবেন না। আপনার জ্ঞানভাণ্ডারে যা আছে তা এক পর্যাযে শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু আপনি যখন কাউকে মন দিয়ে শুনবেন আপনি অনেক নতুন নতুন তথ্য তার কাছে থেকে জানতে পারবেন। যাতে আপনার ধৈর্য্য যেমন বাড়বে তেমনি অনেক কিছু জানতেও পারবেন।

২. ভিন্নভাবে শিখুন

আমাদের চারপাশে শেখার জিনিসের কোনো শেষ নেই। শিখতে চাই আমাদের মন থেকে আশা ইচ্ছা। তবে এই শেখার কাতারে তো থাকে অনেকেই। তাহলে সবাই কেন সঠিকভাবে সবকিছু শিখতে পারেনা? এর মূল কারণ হচ্ছে সবাই একইভাবে চেষ্টা করে। ফলে নতুন কোনো রাস্তা সম্পর্কে কেউ জানেনা। জানতে না চাওয়ার এই ইচ্ছা মানুষকে জানার জগৎ থেকে দূরে রাখে। যারা নতুনভাবে নতুন কিছু শিখতে চায় তারা নানা বাঁধার সম্মুখীন হয় এবং রাস্তাও বের করে আর অনেক কিছু জেনে নিজের জ্ঞান ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করতে পারে।

৩. প্রচুর বই পড়ুন

বই মানুষের বুদ্ধিমত্তা বিস্তৃত করে। বই পড়ার মাধ্যমে জীবনের অনেক সমস্যার সমাধান করা যায় খুব সহজেই। বইয়ের জ্ঞান অসীম। বইকে জ্ঞানভান্ডার ভলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। নিয়মিত ইন্সপায়রেশনাল বইগুলো পড়া, মনীষীদের বিভিন্ন উক্তি বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে প্রচুর জ্ঞান আহরণ হয়। তাই নিজেকে জ্ঞানী হিসেবে দেখতে চাইলে অবশ্যই নিয়মিত বই পড়ার বিকল্প কিছু নেই।

৪. একাগ্রতা থাকতে হবে

প্রত্যেকটি মানুষের জন্য একাগ্রতা অনেক বড় একটি অস্ত্র। আপনি আপনার মনোযোগের মাধ্যমে অসাধ্যকেও সাধন করে ফেলতে পারবেন। শুধু চাই আপনার প্রবল ইচ্ছা আর আকাঙ্ক্ষা। মন দিয়ে চাওয়া কোনো কাজ যেমন বিফলে যায়না তেমনি একাগ্রতার সাথে কোনো কিছু আয়ত্বে আনতে চাইলে তা আসতে বাধ্য। একাগ্রতার সাথে ধীরে ধীরে শিখে ওঠা কাজ আপনাকে করে তুলবে জ্ঞানী। আপনার জ্ঞানকোষকে করবে সমৃদ্ধ।

৫. অধ্যবসায়

ছোটবেলা থেকে অধ্যবসায় নিয়ে আমরা অনেক ধরনের রচনা, ভাব সম্প্রসারণ পড়েছি। অধ্যবসায় সম্পর্কে কম বেশি মোটামুটি আমরা সকলেই জানি।
আপনি যখন কোনো নতুন পরিবেশে যাবেন তখন আপনি অনেক কিছু শিখতে পারবেন। কিন্তু এই শেখার মাঝেও অনেক সময় ঘাটতি রয়ে যায়। তখন চোখের সামনে থাকা অনেক কিছুই আমাদের কাছে ধরা পড়ে না। ফলে জীবনের অনেক পর্যায়ে আমরা জানা জিনিস মনে করতে পারে না। তাই নিজের জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করতে চাই অধ্যবসায়।