বৈবাহিক সম্পর্কের উন্নতিতে কথা হোক প্রাণখোলা

Pulau Pangkor
PANGKOR ISLAND BEACH RESORT - PULAU PANGKOR - PERAK

বিবাহ জীবন সুখের হবে সকল মানুষের কামনা এটাই থাকে, কিন্তু এই বন্ধন সুখের করার জন্য কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে । অনেকে ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করার সাহস পায় না। এর কারণটা সবার অজানা নয়। আমাদের সবসময় চাওয়াটা এত বেশি যে পাওয়া-দেওয়ার ব্যপারটাই ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারি না।সবসময় অসাধারণ কিছু চেয়ে থাকি, কিন্তু একজন মানুষ সবদিক থেকে পারফেক্ট কখনোই হতে পারে না।তাই কোনো জীবনসঙ্গী নির্বাচন করতে গেলে এই অসাধারণ কে সাধারণ করতে হবে। আর সবচেয়ে বড়ো ভুল হল কারোর বাহ্যিক সৌন্দর্যের ঘোরে পড়া, ওটা মুহুর্তের ভালোলাগা কিন্তু ভালোবাসা না। কারোর বেশি টাকা আছে তো তার লোভে পড়ে বিয়ে করে নিলেন, এক্ষেত্রে কখনোই কোনো দাম্পত্য জীবন সুখের তো দূর টিকতেই পারে না। একটা সম্পর্ককে অনেকদিন পর্যন্ত স্থায়ী করা মোটেই সহজ ব্যপার না। সৌন্দর্য হোক কিংবা টাকা দুটোই কখনো সুখ দিতে পারে না যদি তার মধ্যে ভালোবাসা না থাকে।

কথায় আছে, খিদে থাকলে নুন ছাড়া খাদ্যও মুখে মধু লাগে। সেরকমই যেরকমই দোষ-গুণ হোক না কেন ভালোবাসা থাকলে একটা সম্পর্ক টিকবেই। অনেকেই ভাবেন যে বিয়ের পরে নাকি মন উবে যায়, সম্পর্কে ভাঙন ধরে, কিন্তু এটা কেন হল সেটা দেখেন না। আমরা সবসময় অন্যের দোষ, ত্রুটি নিয়ে বিচার করি কিন্তু এটা কি ঠিক? সবাই তো এক হয় না, প্রত্যেকটা মানুষ আলাদা, আর তাদের ভালোলাগা ও ভাবনাচিন্তা সেটাও আলাদা। কিন্তু এই ভালোলাগা সব এক না হলেও অনেকটাই হয়ে থাকে, সেরকম কাউকেই তো বেছে নিতে হবে।

এছাড়া সম্পর্কের ভেতরে আন্তরিকতা থাকা অত্যন্ত দরকার। কখনো কারোর সঙ্গে তুলনা করে কেউ কাউকে বিব্রত করবেন না।বাধাবিপত্তিহীন জীবন হয় না, তাই যতই বিপদের সম্মুখীন হন একসাথে সেটা মিটিয়ে নিন।

মনে করা হয় বন্ধুত্বের থেকে ভালো কোনো সম্পর্ক নাকি হয়না। তাই স্বামী-স্ত্রী যদি একে অপরের বন্ধু হিসেবে থাকতে পারি,একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা করি—-এর কোনো বিকল্প হয় না।

আমরা যেরকমটা পাওয়ার আশা করি সেরকম লোক খুবই কম। এমন মানুষ চাই যে একটু বিনীত, নমনীয়, বিশ্বাসযোগ্য, ভালো স্বভাব, সহযোগী মনোভাবাসম্পন্ন, ক্ষমাশীলও উদার, ধৈয্যশীল হবে। কিন্তু কিছু তো অনুপস্থিত হতেই পারে আমাদেরকেই মানিয়ে নিয়ে চলতে হবে।

একজন নারী ও পুরুষের মাঝে ভালোবাসা অটুট বন্ধন তৈরী করে দেয়।এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় যে একে অপরকে ছেড়ে থাকা তো দূর,ভাবাই যায় না। একজন সুন্দর স্বভাবের নারী যেমন সংসারকে সুন্দর করে তোলে, সেরকম এটা করার জন্যও তো তার স্বামীর সমস্ত সহযোগিতাই কাম্য।

সম্পর্ক যখন বিয়েতে এগোয় তখন দায়িত্ব অনেকটা বেড়ে যায়। একে অপরকে বুঝে চলা, যেকোনো পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকা, কোনো সিদ্ধান্ত একসাথে নেওয়া। মতের মিল যে সবসময় হবে তার কোনো মানে নেই, কিন্তু মিল করে  নিতে হবে।

কোন সম্পর্কে ঝগড়া থাকে না? সবেতেই আছে,তা বলে সেটাকে মিটিয়ে নেওয়া যাবে না এরকম তো না। ঝগড়া হবে,কিছুদিন কথা হবে না আবার হঠাৎ করেই মিলন ঘটবে—হ্যাঁ এর নামই সংসার।সংসারের নিয়মে দেখা যায় ঝগড়া হলে একে অপরের প্রতি টানটাতে নতুন করে প্রলেপ পড়ে । কাছের মানুষ কাছে থাকলে তাকে যতটা ভালোবাসা যায়,সে যদি দূরে চলে যায় আরোও বেশি ভালোবাসা গড়ে ওঠে। প্রতিদিন যেন নতুন করে আবার প্রেমে পড়ি আমরা আবার নতুন করে আরো বেশি ভালোবাসি। আমরা তো একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠি।

দিনে বেশি কথা না বলা হলেও একবার বলতে তো পারি “আমি তোমাকে ভালোবাসি”। হ্যাঁ এটা ঠিক মাঝেমাঝে বলে উঠতে পারি না কিন্তু মনে চেপেই কি লাভ? তার থেকে বলে দেওয়াই ভালো। দিনটা হয়তো আরোও সুন্দর হবে,আরো নির্ভরযোগ্য হবে। যত বেশি সুন্দর কথা হবে তত সম্পর্কের  উন্নতি হবে। আর মনের সম্পর্ক সুন্দর হলে শারীরিক সম্পর্কও সুন্দর হবে।

কখনো অহেতুক একে অপরকে সন্দেহ করাটা ঠিক না। এতে বিশ্বাস এ চির  ধরে। কাচে চির ধরলে কাচ একদিন ভাঙবেই,সেরকম সম্পর্কও তাই। খুঁতখুঁতে স্বভাব ত্যাগ করে, একে অপরকে সময় দেওয়া, সপ্তাহের সমস্ত কাজের শেষে একদিন ঘুরে আসা, তখন বিবাহ-সুখ মিলবেই।