ব্যভিচার এবং পরকীয়া: অত্যন্ত গর্হিত দুটি গুনাহ

আকীদাহ Contributor
ফিচার
marriage
© Rawf88 | Dreamstime.com

যিনা, ব্যভিচার এবং পরকীয়া বলতে বুঝায় বিবাহ বহির্ভূত অবৈধ পন্থায় যৌন বাসনাপূরণকরা। আর পরকীয়া বলতে বোঝায় বিবাহের পরও অন্য কোনো পরপুরুষ বা পরনারীর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা। ইসলামে এরূপ অবৈধ পন্থায় যৌনচাহিদা পূরণ করা সম্পূর্ণ হারাম এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

রাসূলসাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মানুষ তার সকল অঙ্গের মাধ্যমেই যিনা করে। পরনারীকে দেখা হচ্ছে চোখের যিনা, পরনারীর সাথে কথা বলা কণ্ঠের যিনা, তৃপ্তির সাথে তার কথা শোনা কানের যিনা, তাকে হাত দিয়ে স্পর্শ করা হাতের যিনা, অবৈধ উদ্দেশ্য নিয়ে তার সাথে পথ চলা পায়ের যিনা। এভাবে ব্যভিচারের যাবতীয় উপকরণ যখন পরিপূর্ণ হয়, তখন লজ্জাস্থান সেটিকে পূর্ণতা দান করে অথবা পূর্ণতা দান থেকে বিরত থাকে।” (বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ)

ইসলামের মহান লক্ষ্যসমুহের মধ্যে অন্যতম হল, মানুষের ইজ্জত, আবরু ও বংশের হেফাজত করা। যিনার মাধ্যমে এ মহান উদ্দেশ্য বিঘ্নিত হয়। এ কারণে ইসলামে যিনা ও পরকীয়াকে নিষিদ্ধ বা হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। ইসলামী শরীয়ত দুনিয়াতেই যে সকল মানবিক অপরাধের শাস্তি নির্ধারণ করেছে এটি তন্মধ্যে অন্যতম। ব্যভিচার এমন একটি গর্হিত অপরাধ যা সম্পর্কে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন:

“তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তীওহইও না। নিশ্চয় এটি অত্যন্ত অশ্লীল কাজ ও মন্দপন্থা।” (১৭:৩২)

“তোমরা অশ্লীলতার ধারের কাছেও যেও না; তা প্রকাশ্যে হোক অথবা গোপনে।” (৬:১৫১)

অশ্লীল কাজসমূহের মধ্যে যিনা বা ব্যভিচার সর্বনিকৃষ্ট। পর্দার বিধান পালন করা, দৃষ্টি অবনত রাখা ও পরনারীর সাথে নির্জনে অবস্থান নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে ইসলাম ব্যভিচারের পথ ও মাধ্যমের মাঝে প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করে দিয়েছে।

লজ্জাস্থানের হেফাজত জান্নাতের গ্যারান্টি

যারা অবৈধ যৌন সম্ভোগ থেকে বিরত থেকে নিজেদের লজ্জাস্থানকে কুকর্ম থেকে হেফাজত করবে, তাদের জন্য আখিরাতে জান্নাতের গ্যারান্টি রয়েছে। আল্লাহ তা’আলা সফলকাম মুমিনদের পরিচয় প্রদান করে বলেন,

“(মুমিন তারা) যারা নিজেদের লজ্জাস্থানসমূহের হেফাজত করে, তবে স্ত্রী ও দাসীদের ক্ষেত্রে তারা নিন্দনীয় হবে না। সুতরাং, এছাড়া অন্য কাউকে কামনা করলে তারা হবে সীমালংঘণকারী। এবং যারা আমানত ও ওয়াদা রক্ষাকারী; আর যারা নিজেদের সালাতে অত্যন্ত যত্নবান। তারাই হবে জান্নাতুল ফেরদাউসের উত্তরাধিকারী, যাতে তারা অনন্তকালথাকবে।” (৪০:৫-১১)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমাকে তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী জিনিস (অর্থাৎ, জিহ্বার) এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী জিনিস (অর্থাৎ, লজ্জাস্থান) এর ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেবে আমি তাকে জান্নাতের নিশ্চায়তা দিব।” (বুখারী, মুসলিম)

দুনিয়াতে যিনা বা ব্যভিচারের শাস্তি

শরিয়া আইনে ব্যভিচারীদেরকে ১০০টি করে বেত্রাঘাত করতে হবে এবং এর সাথেসমাজ থেকে একবছরের জন্য তাদেরকে বহিষ্কার করাও যেতে পারে। আর বেত্রাঘাতের ক্ষেত্রে এটাই ইসলামী শরীয়তের সবচেয়ে বড় শাস্তি।

কুরআনে আল্লাহ বলেন, “ব্যভিচারী পুরুষ ও ব্যভিচারিণী নারী উভয়কে ১০০টি করে বেত্রাঘাত করো। আল্লাহর বিধান কার্যকরকরতে গিয়ে দয়া যেন তোমাদের অন্তরেউদ্রেক না হয়। যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতেবিশ্বাস করে থাক। আরঈমানদারদের একটি দল যেন এদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।” (২৪:২)

দুনিয়াতে ব্যভিচার এবং পরকিয়ার শাস্তি

বিবাহিত কেউ যদি অবৈধ যৌন সদ্ভোগ করে তবে শরিয়তের আইন মোতাবেক তাদেরকে জনসম্মুখে পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। আর যদি দুজনেই বিবাহিত হয় তবে দুজনের জন্যই পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড। যাতে করে এ কঠিন শাস্তি প্রত্যক্ষ করে আর কেউ এই গর্হিত কাজের প্রতি আর সাহস না করে।

যিনাকারীর পরকালীন শাস্তি

আখিরাতে যিনাকারীর শাস্তি কিরূপ হবে তার বর্ণনায় হাদীসে এসেছে, “যিনারাকীরা উলঙ্গ অবস্থায় এমন এক গুহার মধ্যে থাকবে যার অগ্রভাগ হবে অত্যন্ত সংকীর্ণ আর নিম্নভাগ হবে প্রশস্ত। উহার তলদেশে অগ্নি প্রজ্বলিত থাকবে আর তাদেরকে তাতে দগ্ধ করা হবে। তারা মাঝে মধ্যে সেখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার কাছাকাছি অবস্থায় পৌছে যাবে; তখন আগুন আবারতাদেরকে ঘিরে ফেলবে। আর তাদের সাথে এই আচারণ কিয়ামত অবধি জারিথাকবে।” (বুখারী)

বৃদ্ধ যিনাকারীর শাস্তি

বাধ্যর্কে উপনীত কোন ব্যক্তি যদি ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তবে আখিরাতে তার শাস্তি আরো কঠোর হবে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “আল্লাহ তিন শ্রেণীর মানুষের সাথে কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাদেরকে পবিত্রও করবেন না এবং তাদের প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেনও না। তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি; তারা হল, বৃদ্ধ যিনাকারী, মিথ্যাবাদী শাসক ও অহংকারী ফকীর।”

আল্লাহ্ আমাদেরকে এই গর্হিত অপরাধথেকে হেফাজত করুন।আমীন।