SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

ব্লকচেইন কি এবং কিভাবে কাজ করে?

প্রযুক্তি ১৮ জানু. ২০২১
জানা-অজানা
ব্লকচেইন
© Ruslangrumble | Dreamstime.com

ব্লকচেইনের ধারণাটি অনেক পুরনো হলেও বিগত কয়েক বছর বিটকয়েন ও ক্রিপটোকারেন্সির জনপ্রিয়তা বাড়ার কারণে ইদানীংকালে ব্লকচেইন টেকনোলজি নিয়ে মানুষের আগ্রহ অনেক বেড়ে গেছে। কারণ, অধিকাংশ ক্রিপটোকারেন্সি এই ব্লকচেইন টেকনোলজির উপর ভিত্তি করেই কাজ করে। তাই আজকের নিবন্ধে আমরা ব্লকচেইন কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে তা নিয়ে সংক্ষেপে কিছু ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব।

ব্লকচেইন কি?

ব্লকচেইনের সাধারণ অর্থ হচ্ছে ব্লক দিয়ে তৈরি চেইন। আর চেইন কি বলতে কি বোঝায় তা আমরা সবাই জানি। একই রকমের উপাদান পাশাপাশি একটির সাথে আরেকটি যুক্ত হয়ে শিকল গঠন করাকেই চেইন বলা হয়। তাহলে, অনেকগুলি এই রকমের ব্লককে একটির সাথে আরেকটি জোড়া দেওয়ার মাধ্যমে ব্লকের একটি শিকল তৈরি করাই ব্লকচেইন টার্মটির দ্বারা বোঝানো হয়। আর যে ব্লকগুলির দ্বারা এই চেইনটি তৈরি হয় সেই ব্লকগুলি মূলত তথ্য সংরক্ষণ করে।

টেকনিক্যালি এর সংজ্ঞা দিতে গেলে বলা যায়, ব্লকচেইন হচ্ছে একটি বন্টিত লেজার, যা সকলের জন্য উন্মুক্ত। ব্লকচেইনের ব্লকগুলোর মধ্যে যখন একটি তথ্য প্রবেশ করানো হয়, তখন ঐ তথ্যটিকে মুছে ফেলা রা বা তথ্যটির কোনো ধরনের পরিবর্তন সাধন করা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু কিভাবে?

ব্লকচেইনের উপাদান

এটা জানতে হলে প্রথমে জানতে হবে যে, এই ব্লকগুলোর প্রত্যেকটিতে কি থাকে। সম্পূর্ণ ব্লকচেইনের প্রত্যেকটি ব্লকে মূলত তিনটি জিনিস থাকে- ১) ব্লকটির নিজস্ব তথ্য। ২) ব্লকটির নিজের হ্যাশ এবং ৩) এই ব্লকটির ঠিক পেছনে যুক্ত থাকা পূর্বের ব্লকটির হ্যাশ।

তথ্যের বিষয়টি তো সকলেই বোঝে, কিন্তু হ্যাশ জিনিসটি কি? হ্যাশ হচ্ছে মূলত একটি সনাক্তকারী। প্রত্যেকটি ব্লকের হ্যাশ একেবারেই তার জন্য নিজস্ব এবং প্রত্যেকের জন্য নির্দিষ্ট। অর্থাৎ, দুটি ব্লকের হ্যাশ কখনই একরকম হতে পারবে না। এই বিষয়টি অনেকটা মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্টের মত। দুটি মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট যেমন কখনই একই হওয়া সম্ভব না, তেমনি দুটি ব্লকের হ্যাশও কখনো মিলবে না। এই হ্যাশগুলি উৎপন্ন হয় প্রত্যেকটি ব্লকে সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী। অর্থাৎ, একটি ব্লকের তথ্য যদি কোনোরকম পরিবর্তন করা হয়, তাহলে ঐ ব্লকটির হ্যাশও পরিবর্তিত হয়ে যাবে।

এ কারণেই প্রত্যেকটি ব্লকে তার আগের ব্লকের হ্যাশও সংরক্ষণ করা থাকে। প্রত্যেকটি ব্লক যদি তার আগে যুক্ত থাকা হ্যাশটির সন্ধান রাখে, তাহলে কোনো ব্লকের তথ্য কেউ ইচ্ছামত পরিবর্তন করে ফেলতে পারবে না। তাই ব্লকচেইনে প্রবেশ করা প্রত্যেকটি তথ্য মুছে ফেলা বা পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব। কারণ, এক্ষেত্রে যদি আপনি একটি ব্লকে থাকা তথ্য পরিবর্তন কর‍তে চান, তাহলে আপনাকে ঐ ব্লকটির সাথে সাথে তার পূর্বের সবগুলো ব্লকের তথ্য পরিবর্তন করতে হবে। নয়ত সম্পূর্ণ ব্লকচেইনটি কাজ করা বন্ধ করে দেবে।

ব্লকচেইন কিভাবে কাজ করে?

এতক্ষণে নিশ্চই বুঝতে পেরেছেন যে, ব্লকচেইন টেকনোলজি কিভাবে তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কিন্তু ব্লকচেইন নিরাপদ হওয়ার আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে, এটির বন্টিত নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। ব্লকচেইন মূলত একটি পেয়ার-টু-পেয়ার নেটওয়ার্ক তৈরি করে যেখানে ব্লকচেইনের প্রত্যেকটি ব্লকের তথ্য ইন্টারনেট সংযোগ থাকা যেকোনো ব্যাক্তি ব্লকগুলোকে শনাক্ত করতে পারে। যখন কোনো নতুন একজন এই ব্লকচেইন নেটওয়ার্কে নিবন্ধন করে, তখন সে তার সামনের এবং তার পূর্বের সব ব্লকগুলোর কপি পেয়ে যায় এবং সে প্রত্যেকটি ব্লককে শনাক্ত করে এবং নিশ্চিত করে যে, ব্লকচেইনে থাকা প্রত্যেকটি তথ্য এখনও পর্যন্ত ঠিক আছে। ব্লকচেইনের প্রত্যেকটি ব্লক যত বেশি বার শনাক্ত করা হয়, তথ্যগুলি তত বেশি অপরিবর্তনীয় হয়ে ওঠে। মুলত এভাবেই ব্লকচেইন টেকনোলজি কাজ করে থাকে।

ক্রিপটোকারেন্সি ফ্যাক্ট

আপনি কি জানেন প্রত্যেকটি ক্রিপটোকারেন্সি ট্র্যানজেকশন প্রোসেস করতে সাধারণত কমপক্ষে ১০ মিনিট সময় লাগে? এর কারণ হল এই ব্লকচেইন। ক্রিপটোকারেন্সি ট্র্যানজেকশনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার চিন্তা করে প্রত্যেকটি নতুন ব্লক প্রতি ১০ মিনিট পর পর তৈরি করা হয়। তাই একটি ট্র্যানজেকশন রিকুয়েস্ট করলে সেই ট্র্যানজেকশনটি নিয়ে নতুন একটি ব্লক তৈরি করতে কমপক্ষে ১০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়।

ব্লকচেইন সিস্টেমের সুবিধা

তৃতীয় পক্ষের ঝামেলা থেকে মুক্তি — উপরের উদাহরণ গুলোর দিকে লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন ব্লকচেইন লেনদেন ব্যবস্থাপনায় কোনো রকম তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন হয় না। ফলে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ লেনদেন করতে পারে কোন ঝামেলা ছাড়াই। যা প্রচলিত ব্যাংকিং সিস্টেমে খুবই ঝামেলাপূর্ণ।

নিরাপত্তা

পেপাল লেনদেন সিস্টেমের কথা চিন্তা করুন। এখান থেকে যেকোনো সময় পাঠানো টাকা বা ব্যবহারকারীর তথ্য চুরি হতে পারে; কিন্তু ব্লকচেইন সিস্টেমে পরিচয় গোপন থাকায় ও প্রতিনিয়ত তথ্যগুলি হালনাগাদ হওয়ার কারণে এখানে চুরি কিংবা দূর্নীতির অনুপ্রবেশ একেবারেই অসম্ভব।

দূর্নীতি দূরীকরণে

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সরকারি লেনদেন ব্যবস্থাপনায় যদি এটি ব্যবহার করা হয় তাহলে চিন্তা করুন যে, সরকারী লেনদেন ব্যবস্থাপনায় দূর্নীতির হার কতটা হ্রাস পাবে।