ভাইরাস সংকট কাটাতে ছ’দিনে হাসপাতাল গড়তে চলছে চিন

জীবন Tamalika Basu ২৫-জানু.-২০২০
china virus
ID 170261107 © Freerlaw | Dreamstime.com

বেজিং : করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য উহান শহরে ছয় দিনে একটি হাসপাতাল তৈরির কথা জানিয়েছে চিন। বর্তমানে দেশটিতে এক হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ এতে আক্রান্ত এবং ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২০০৩ সালে সার্সের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেইজিংয়ে শিয়াওটাংশান হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছিল। সেটা তৈরি করা হয়েছিল সাত দিনে, যা বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুত হাসপাতাল তৈরির রেকর্ড ভেঙেছিল বলে ধারণা করা হয়।

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গ্লোবাল হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক জোয়ান কাউফম্যান বলেন, এটা মূলত রোগ-অন্তরণ বা রোগীদের আলাদা করে রাখার জন্য একটি হাসপাতাল; যেখানে সংক্রমণের শিকার রোগীদের পাঠানো হবে। এতে সুরক্ষা এবং জীবাণু প্রতিরোধী সরঞ্জাম থাকবে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম বলছে, নতুন হাসপাতালে এক হাজার শয্যা থাকবে। চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম অনলাইনে যে ভিডিও পোস্ট করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, খনন যন্ত্র এরইমধ্যে ওই স্থানে পৌঁছেছে। পুরো এলাকাটি ২৫ হাজার বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

চিনে প্রথম এই ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয় উহান শহরে; যেখানে প্রায় এক কোটি ১০ লাখ মানুষের বসবাস। শহরটির হাসপাতালগুলোতে উদ্বিগ্ন বাসিন্দাদের উপচে পড়া ভিড় এবং ফার্মেসিগুলোতে ওষুধের সংকট তৈরি হয়েছে। গোটা  চিনে মাস্কের অভাব দেখা দিয়েছে বলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি।

গ্লোবাল হেলথ এর জ্যেষ্ঠ ফেলো ইয়াংঝং হুয়াং বলেন, সাধারণত খুব দ্রুত জিনিসপত্র তৈরির রেকর্ড চিনের রয়েছে। এমনকি এ ধরনের বিশাল বিশাল প্রকল্পের ক্ষেত্রেও। তিনি বলেন, ২০০৩ সালে বেইজিংয়ের হাসপাতালটি সাত দিনে তৈরি করা হয়েছিল। তাই এবার মনে হচ্ছে নির্মাণকারী দলটি সেই রেকর্ড ভেঙে ফেলতে চাইছে। বেইজিংয়ের হাসপাতালের মতোই, উহান সেন্টারটিও আগে থেকেই নির্মিত ভবনে তৈরি করা হবে। এই কর্তৃত্ববাদী দেশটি শীর্ষ থেকে নিচে বা টপ-ডাউন মোবিলাইজেশন পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে। যার কারণে তারা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে তাদের সব পুঁজি নির্দিষ্ট দিকে নিয়োগ করতে পারে।’ হুয়াং বলেন, ‘ঠিক সময়ে কাজ শেষ করতে সারা দেশ থেকে প্রকৌশলীদের এখানে নিয়ে আসা হতে পারে। প্রকৌশল বা দক্ষ শ্রমিকের যোগাড়ে চিন এক নম্বর।  দ্রুত গতিতে আকাশচুম্বী ভবন তৈরির রেকর্ড রয়েছে তাদের। এটা পশ্চিমাদের জন্য চিন্তা করাটাই কঠিন। কিন্তু চিনের পক্ষে এটা সম্ভব।’