ভারতে করোনা চিকিৎসায় প্লাজমা দান করছেন তাবলীগ জামাতের সদস্যরা

বিশ্ব Tamalika Basu ২৯-এপ্রিল-২০২০
Coronavirus
ID 170898304 © Francesco Alessi | Dreamstime.com

দিল্লিতে তাবলীগ জামাতে যোগ দেওয়ার পরে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, এরকম কয়েকজন সুস্থ হয়ে ওঠার পরে এগিয়ে এসেছেন নিজের রক্ত দান করতে। সেই রক্ত থেকে প্লাজমা নিষ্কাশন করে তা দেওয়া হবে করোনা সংক্রমিত রোগীদের শরীরে। করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় প্লাজমা প্রয়োগ করে গত সপ্তাহেই সাফল্য এসেছে। তারপরেই কোয়ারেন্টিন সেন্টারে থাকা সুস্থ তাবলীগ সদস্যরা প্লাজমা দিতে এগিয়ে এসেছেন। অথচ কিছুদিন আগেও সারা দেশে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর জন্য তাদেরই দায়ী করা হচ্ছিল। করোনা থেকে সেরে ওঠা রোগীর দেহে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, সেই অ্যান্টিবডি রক্তের প্লাজমা ট্রান্সফিউশনের মাধ্যমে সুস্থ মানুষের দেহে ঢুকিয়ে তাদের চিকিৎসা করা হচ্ছে ভারতে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে উঠে প্লাজমা দান করা এরকমই একজন তামিলনাডুর দিন্ডিগালের যুবক আনাস সৈয়দ। দারুল উলুম দেওবন্দের ছাত্র তিনি। পরীক্ষার শেষে ছুটি পড়েছিল মার্চ মাসে। দিল্লি হয়ে বাড়ি ফেরার ট্রেনের টিকিট কাটা ছিল আগেই। ট্রেন ছাড়ার একদিন আগেই পৌঁছেছিলেন দিল্লি। রাতটা থেকে গিয়েছিলেন নিজামুদ্দিনে। কিন্তু সেই ট্রেনে চড়ে বাড়ি যাওয়া হয়নি তার – হঠাৎই শুরু হয়ে যায় লকডাউন।

আরও বহু মানুষের সঙ্গে নিজামুদ্দিন মারকাজেই থেকে যেতে হয় আনাস সৈয়দকে। এরপরে তার শরীরে ধরা পড়ে করোনা সংক্রমণ। আইসোলেশনে ২১ দিন থাকার পরে সুস্থ হয়ে উঠেছেন তিনি। লালারস পরীক্ষা দুবার নেগেটিভ এসেছে। ‘কয়েকদিন আগে চিকিৎসকরা প্লাজমা দান করার প্রস্তাব দেন। তারা বলেন যে অন্য রোগীদের সুস্থ করে তোলা যাবে প্লাজমা দিয়ে। কোয়ারেন্টিনে থাকা অন্য তাবলীগ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করি আমি। আবার তাবলীগ প্রধান মৌলানা সাদ কান্দলভিও হোয়াটসঅ্যাপে অডিও বার্তা দেন যে আমরা নিজের ইচ্ছায় প্লাজমা দিতেই পারি। তখনই সিদ্ধান্ত নিই যে আমি প্লাজমা দেব,’ দিল্লির সুলতানপুরী এলাকার একটি করোনা কোয়ারেন্টিন সেন্টার থেকে টেলিফোনে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মি. সৈয়দ।

তাবলীগ ঘনিষ্ট এক চিকিৎসক ডাক্তার শোয়েব আলি বলেছেন যে তিন থেকে চারশো তাবলীগ সদস্য প্লাজমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন বলে তার ধারণা। রোববার প্রথম দিনেই আনাস সৈয়দের সঙ্গেই প্লাজমা দিয়েছেন তাবলীগের আরেক সদস্য ফারুক বাশা। তিনিও তামিলনাডুর বাসিন্দা – চেন্নাই থেকে দিল্লি এসেছিলেন তাবলীগ জামাতের সমাবেশে যোগ দিতে। তারপরে ফিরতে পারেননি আরও অনেকের মতোই। তিনিও দিল্লির সুলতানপুরীতেই কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। বাশা বলছেন, তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, রক্ত দিতে ইচ্ছুক কি না।