মতামত ১৬-এপ্রিল-২০২০

ভারতে তাবলীগের জমায়েত থেকে করোনা ছড়ানোর অভিযোগ, ঘটনার ধর্মীয়করণ না করলেই নয়?

صورة ملف شخصي
Fardeen Sheikh

ভারতে করোনার  হটস্পট হিসেবে পরিচিত হয়েছে তাবলীগী  জমায়েত। করোনা নামক মহামারীর কাছে আজ গোটা দুনিয়া অসহায়‌। এর কোনো প্রতিষেধক না থাকায় এই মহামারীর থেকে মুক্তির  একমাত্র উপায় নিজেকে  বন্দি করে রাখা । এ কারণে দিল্লির নিজমুদ্দিন দরগায় তাবলীগী  জমায়েত  গোটা ভারতের কাছে দুঃস্বপ্ন হিসাবে উপস্থিত  হয়েছে। এই জমায়েত  নিয়ে যে ধর্মীয় তর্জা শুরু হয়েছে তা অবশ্যগ্রহণযোগ্য নয়। ১৩-১৫মার্চ অবধি দিল্লিতে ঘটে এই অনুষ্ঠানটি। দিল্লী সরকার  এর কাছ থেকে সঠিক অনুমোদন পত্র পেয়েছিল অনুষ্ঠানে এর উদ্যোক্তারা। এর পরেও সরকার তাদের অবস্থান কেন পরিষ্কার করছে না , এই বিষয়টি নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছে।

ভারতে  সবধর্মের  সহাবস্থান  দেখা যায়। ইসলামী গোষ্ঠীর মানুষদের আল্লার প্রতি অতিরিক্ত বিশ্বাসকে ব্যঙ্গ করা অনুচিত। পাশাপাশি,  বৈজ্ঞানিক  ব্যাখ্যার বিরোধিতা করাটা যেমন কাজের কথা না, সেরকমই সরকারি অনুমোদন প্রাপ্ত কোনো সভার প্রতি কুৎসা রটানোও অনুচিত। বিজ্ঞান বিরোধী হয়ে অন্য ধর্মাম্বলী লোকদেরও সুস্থ রাখতে পারবে না তাদের রক্ষাকর্তারা। হিন্দু সমাবেশ ও হয়েছিল এই সময় বেশ কিছু  জায়গাতে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এখন জানাচ্ছে, মার্চের শেষের দিকে রামনবমী উপলক্ষে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এক বিরাট  সমাবেশে হাজির ছিলেন। সেই ঘটনা সামনে আনায় এক বেসরকারি গণমাধ্যমের সম্পাদককে ফাটকে পুরেছে ইউপি সরকার।

এই অশান্ত দুনিয়াতে ধর্মের উপরে স্থান হওয়া উচিত মানবতার। ধর্মকে টার্গেট করা যেমন উচিত নয় তেমনি বর্ম করা উচিত না। তাই মুসলিমরা সংখ্যা লঘু বলে হালকা করে দেখানোর কিছু নেই। শুধু ভারত নয় এর প্রভাব গোটা দুনিয়া জুড়ে  পড়ছে। তাবলীগী জমায়েত থেকে ভারতে ৪৪০০ (লেখার সময় পর্যন্ত) জন প্রায় সংক্রমিত। এই ঘটনার পরই সরকার পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ায়। সরকারের একটি রির্পোটে বলা হয়েছে দেশ বিদেশ মিলিয়ে প্রায় ৮৮০০জন সংক্রমিত । ভারত সব থেকে বেশি প্রভাব  দেখা গিয়ে ছে তেলেঙ্গানা তে ১১জন মৃত এবং ২২০০জন প্রায় সংক্রমিত ।গোটা দেশ থেকে আসা সমস্ত লোকের মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং লোকেশন কয়েকদিনের তাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে সরকারে নির্দেশে মোবাইল সংস্থা গুলি। এছাড়া সেই সময় আসা বিদেশ থেকে  প্রত্যেক ব্যক্তির স্বাস্থ্য এর দিকে কড়া নজর রাখা হয়েছে।তাদের প্রত্যেককে আইসোলেশনের কথা বলা হয়েছে।মালেশিয়ার এর প্রভাব উল্লেখ্য।এই অবস্থা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় নিজেকে সঠিক নিয়মে রাখা। কোনো ধর্মের বশবর্তী হওয়ার সময় এটা না।তাই  ধর্মীয় পরিচয়ের উর্ধ্বে যেতে হবে আমাদের ।ভারতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পরীক্ষাও হচ্ছেনা জনসংখ্যার অনুপাতে । এক্ষেত্রে শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস আমাদের আমাদের বাঁচাতে পারবে না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দায়িত্বশীল নাগরিক এর পরিচয় দিতে হবে আমাদের। যা আমাদের সুস্থ মানসিকতার পরিচয় দেবে। ধর্মের রং না লাগিয়ে এই সমস্ত পরিস্থিতিতে সরকারকে কড়া হতে হবে।সেই পরিস্থিতি সরকার বুঝতে পারেনি ভবিষ্যতে  এর অবস্থা কতটা ভয়ংকর হতে পারে ।

ভারতের মতো ধর্মপ্রবণ দেশে তাই বজ্র আঁটুনি এর দরকার ছিল আগে থেকেই । করোনা জাত ধর্ম  নির্বিশেষে থাবা বসাচ্ছে ।ধর্মকে দেখাতে গিয়ে যেন পরিজনকে হারাতে হারাতে না হয় সেদিকে আমাদের  নজর রাখা উচিত। ধর্মকে বড়ো করে দেখার থেকে নিজের জীবনকে বড় করে দেখার সময় এটা। নিজেদের মধ্যে বন্ধনটাই  আসল যা মানবতা এর পরিচয় দেয়। ধর্মের কাদা না ছুঁড়ে নিজেদের দেখার সময় আমাদের আরেকবার দিয়েছে পৃথিবী।

সেই সুযোগ নষ্ট করা মানে বোকামির পরিচয় দেওয়া।এই পৃথিবীতে ধর্ম মানুষেরই সৃষ্টি।ধর্মীয় গোঁড়ামির প্রধানতম কারণ ,আসল ধর্মকে শিকেয় তুলে রেখে ধর্মের নামে কিছু আচার অনুষ্ঠানকে অস্বাভাবিক প্রশয় দান এবং শুধুমাত্র  নিজের অনুষ্ঠিত কাজগুলোকেই সঠিক বা অভ্রান্ত বলে ভাবা। জনসাধারণের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে ধর্মের রং দিচ্ছে সব ঘটনাকে ধর্মের সঙ্গে যুক্ত হয় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ শিক্ষা । মৌলবাদীরা যুগধর্মের দাবিকে অস্বীকার করে ধর্মের যুক্তি হীন আচার অনুষ্ঠানে দৃঢ়বদ্ধ থাকে । সম্প্রতি এই ধর্মান্ধতা ভারতকে কলঙ্কিত করছে করোনা  থেকে মুক্তির উপায় পরীক্ষার পর পরীক্ষা । তা না করে চলছে ধর্মের ঘৃণ্য রাজনীতি যা এই পরিস্থিতে দাড়িয়ে কাম্য নয়।

কিছুবলারথাকলে

যোগাযোগকরুন

ইসলামী গোষ্ঠীর মানুষদের আল্লার প্রতি অতিরিক্ত বিশ্বাসকে ব্যঙ্গ করা অনুচিত। পাশাপাশি,  বৈজ্ঞানিক  ব্যাখ্যার বিরোধিতা করাটা যেমন কাজের কথা না, সেরকমই সরকারি অনুমোদন প্রাপ্ত কোনো সভার প্রতি কুৎসা রটানোও অনুচিত।
Nizamuddin Dargah
প্রাসঙ্গিক নিবন্ধসমূহ
মতামত
মতামত ০৮-মে-২০২০
Muhammad Nassar
Fardeen Sheikh

আজকের দিনে ই-লার্নিং সত্যই একটা উল্লেখযোগ্য বিকল্প, তবে এ বিষয়ে কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। কোনো অনলাইন প্রোগ্রাম করতে প্রোগ্রাম এর বিষয়বস্তু, কারা উদ্যোগে আছে, এর খ্যাতি কতদূর -এ বিষয়ে অবগত হওয়া বিশেষ প্রয়োজন।

চলবে চলবে
মতামত
মতামত ১০-সেপ্টে.-২০২০
Muhammad Nassar
কাজী একরাম
শিক্ষাথী, মাহাদুল ফিকরি ওয়াদদিরাসাতিল ইসলামিয়াহ, ঢাকা। ধর্মতত্ত্ব ও গবেষণাকেন্দ্র।

একশ্রেণির সেকুলার ও নাস্তিকরা দাবি করে থাকে যে, ইসলামের ইতিহাসের মহান বিজ্ঞানীগণ ছিলেন সেকুলার বা নাস্তিক। অথচ সত্যিকার ইতিহাসের বয়ান এর সম্পূর্ণ বিপরীত

চলবে চলবে
মতামত
মতামত ২৮-আগস্ট-২০২০
Zeeshan R

সর্বপ্রথম যে মুসলিম দেশ থেকে মুসলমানরা ব্রিটেনে গিয়েছিল সে দেশটি হলো ইয়েমেন। সে সময় ইয়েমেনিরা ব্রিটিশদের বাণিজ্য জাহাজে নাবিক হিসেবে কাজ করতো। সেই সুবাদেই তারা ব্রিটেনে গিয়ে বসবাস করতে শুরু করেছিল। ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে তারা ব্রিটেনে সর্বপ্রথম মসজিদ তৈরি করেছিল।

চলবে চলবে
মতামত
মতামত ২৩-জুলাই-২০২০
Zeeshan R

কুরআন শরীফকে যদি এভাবে ব্যাখ্যা করা যায়, তাহলে তা ছোটদের বোঝাতে অনেক বেশি সুবিধা হবে বলেই মনে হয়। ছোটবেলা থেকে ধর্ম সম্পর্কে সঠিক এবং সুশিক্ষা তাদের বড় হয়ে সাচ্চা মুসলিম হতে সাহায্য করবে

চলবে চলবে