SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

ভিটামিন ডি কী থেকে পাওয়া যাবে? কেন দরকার এটি?

স্বাস্থ্যকর খাদ্য ১৮ ফেব্রু. ২০২১
সুস্বাদু
ভিটামিন ডি
© Tatjana Baibakova | Dreamstime.com

লকডাউনে টানা বাড়িতে বসে কয়েকদিন ধরেই প্রচণ্ড গা-হাতে-পায়ে ব্যথা হচ্ছিল বছর ছাব্বিশের শবনমের। খানিকক্ষণ সোজা হয়ে বসলেই যেন টনটন করতে শুরু করছিল পিঠ। শেষমেশ ডাক্তার যখন দেখানো হল, জানা গেল শরীরে ভিটামিন ডির ঘাটতি দেখা গিয়েছে তার। আর তারই ফলস্বরূপ শুরু হয়েছে এই গা-হাত-পায়ে ব্যথা!

সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য যে-সমস্ত পরিপোষক আমাদের সহায়তা করে, তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল ভিটামিন সমূহ। আমাদের মানবদেহের ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ভিটামিন হল ভিটামিন-ডি। এর রাসায়নিক নাম ক্যালসিফেরল। আজ আমরা ভিটামিন-ডি কী কাজে লাগে, কোথা থেকে আপনি ভিটামিন-ডি পাবেন, এবং ভিটামিন ডির অভাবে কী-কী রোগ হতে পারে, তাই নিয়ে আলোচনা করব।

ভিটামিন-ডি কেন প্রয়োজন?

মনে রাখবেন, ভিটামিন ডির প্রধান ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল হাড় ও দাঁতের বৃদ্ধিতে সহায়তা করা। এটি দেহে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের শোষণে সহায়তা করে। এই দু’টি আমাদের হাড়ের প্রধান উপাদান, ফলে হাড় ও দাঁত মজবুত থাকে। মেয়েদের ক্ষেত্রে নানাকারণে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা যায়, ফলে তাঁদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় ভিটামিন-ডি অত্যন্ত প্রয়োজন। মায়েদের শরীরে যদি গর্ভাবস্থার সময় ভিটামিন ডি-র ঘাটতি দেখা যায়, তাহলে গর্ভস্থ সন্তানের হাড় দুর্বল হয়। এছাড়া স্নায়ুতন্ত্রকে, মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও এই ভিটামিন সহায়ক। ভিটামিন ডি সার্বিকভাবে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িতে তোলার পক্ষেও কাজে দেয়।

ভিটামিন ডির অভাবে কী হয়?

ডাক্তাররা বলেন, ভিটামিন ডির অভাবে শিশুদের রিকেট রোগ এবং বড়দের ক্ষেত্রে অস্টিয়োম্যালেশিয়া, অস্টিয়োপোরোসিসের মতো রোগ দেখা যায়। গা-হাতে-পায়ে ব্যথা, হাড়ে ব্যথা, হাঁটতে সমস্যা হওয়া, একটু হাঁটলেই পায়ে যন্ত্রণা, পিঠে ব্যথা, হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার ফলে হাড় ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া ইত্যাদি রোগের পাশাপাশি স্তন ক্যানসার, কোলন ও প্রস্টেটের ক্যানসার, হৃদরোগ, ডিপ্রেশন ইত্যাদিও ভিটামিন ডি-এর অভাবজনিত কারণে হতে পারে। ‘আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ অ্যালার্জি অ্যাজমা অ্যান্ড ইমিউনোলজি’র এক গবেষণায় জানা যাচ্ছে, শিশুদের মধ্যে অ্যালার্জির প্রবণতাও ভিটামিন ডির ঘাটতির ফলে হতে পারে। আপনার যদি ইনফ্লুয়েঞ্জার সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে সেটিও কিন্তু ভিটামিন-ডির অভাবের ফলে হতে পারে।

কী থেকে পাবেন ভিটামিন ডি?

লকডাউনে বাড়িতে বসে থাকার ফলে সূর্যালোকের অভাব ইত্যাদির কারণে পৃথিবী জুড়েই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিজনিত সমস্যা মানুষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। ভিটামিন ডি-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হল সূর্যের আলো। সূর্যালোকের উপস্থিতিতে আমাদের ত্বকে ভিটামিন ডি সংশ্লেষ হয়, যা দেহে ক্যালসিয়ামের শোষণে সহায়তা করে। শীতের দেশে যথেষ্ট সূর্যালোক পাওয়া যায় না বলে সে দেশের মানুষের মধ্যে এই ভিটামিনের অভাব বেশি করে দেখা যায়। এছাড়া যাদের ত্বকের বর্ণ শ্যামলা, তাঁদের ক্ষেত্রে ত্বকে সূর্যালোকের সংশ্লেষের প্রক্রিয়াটি বাধাপ্রাপ্ত হয়। রোদে বেরলেই ট্যান পড়ার ভয়ে সানস্ক্রিন লোশন মেখে নেওয়ার অভ্যেসের কারণেও ত্বকে সূর্যালোক প্রবেশ করতে পারে না।

ভিটামিন ডি খাবারে খুব একটা পাওয়া যায় না। তাও কড লিভার অয়েল, মাশরুম, ডিমের কুসুম, চিজ, চিংড়িমাছ, কিছু খাদ্যশস্য, বিফ লিভার, চর্বিওয়ালা সামুদ্রিক মাছ, যেমন স্যামন, ম্যাকারেল, টুনে ইত্যাদিতে এই ভিটামিন কিছু পরিমাণে পেতে পারেন। তবে এই সামুদ্রিক মাছগুলি সমস্ত দেশে পাওয়া যায় না। ফলে যারা এগুলি পান না, তাঁরা অন্য উপাদানগুলি বেশি করে খান। এছাড়া সয়াবিনের দুধ, দুধ, দুধের প্রোডাক্ট, দই ইত্যাদিতেও ভিটামিন ডি পাবেন। তাই এগুলিকে নিয়ম করে খাদ্যতালিকায় রাখুন। তবে মনে রাখবেন, এইসমস্ত খাবার কিন্তু কিছুতেই সূর্যালোকের বিকল্প হতে পারে না।

কতটা প্রয়োজন ভিটামিন ডি?

ভিটামিন ডির পরিমাণ বয়স, লিঙ্গভেদে বিভিন্ন জনের ক্ষেত্রে বিভিন্নরকম হয়। ‘ইনস্টিটিউট অফ ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল সায়েন্স’-এর মতে, শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ৬০০ আইইউ (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট), ৭০ বছর পর্যন্ত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে ৬০০ আইইউ, ৭০-এর উপর বয়স্কদের ক্ষেত্রে ৮০০ আইইউ এবং গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে ৬০০ আইইউ ভিটামিন ডি প্রয়োজন হয়।

তবে আপনি যতই ভিটামিন-ডি সাপ্লিমেন্ট খেয়ে থাকুন না কেন, এর ঘাটতি দূর করতে এবং শরীরে ক্যালসিয়ামের শোষণ বাড়াতে সূর্যালোক ছাড়া কিন্তু গতি নেই। ফলে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি রোজ নিয়ম করে সূর্যের আলোয় বেরন। যারা বাইরে নিয়ম করে বেরন, তাঁদের রোদে বেরলে মাথা ধরার সমস্যা না থাকলে ছাতা ছাড়াই বেরন। আর এক্ষেত্রে ট্যানের মায়া না করাই ভাল। তাই সানস্ক্রিন যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করুন। যারা বাড়ি থেকে বেরন না, তাঁরাও নিয়ম করে রোদে খানিক সময় বেরন, দেখবেন ভাল থাকছেন।