ভেঞ্চার ক্যাপিটালে বিনিয়োগ? শরিয়াহ কী বলে

Islamic Finance, Kewangan Islam
3D illustration of a magnifier over the text Islamic finance written with golden letter. Black background.

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ট্রাস্ট (ভিসিটি) আজকের বিনিয়োগ অর্থনীতিতে একটা বড় অংশ জুড়ে আছে। এই ধরনের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের দিকে অনেকেই যাচ্ছেন কারণ এর থেকে ফেরত পাওয়া টাকার পরিমাণটা নিছক কম নয়। পাওনার টাকার সাথে সাথে বিভিন্ন দেশে একটা বড় ট্যাক্সছাড়ও পাওয়া যায়। যেহেতু ঝুঁকি অনেক বেশি তাই বিনিয়োগের আগে আপনাকে অবশ্যই জেনে নিতে হবে এর বাস্তব ঝুঁকিপূর্ণ দিকগুলো। এখানে আমরা এই পুরো বিষয়টা নিয়েই সংক্ষেপে আলোচনা করব।

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কী?

আজকের পুঁজিবাদি অর্থনীতি বড় বড় ইন্ডাস্ট্রীগুলো থেকে বেড়িয়ে এসে নতুন ধরণের ব্যবসার বাজারের দিকে ঝুঁকছে। এই ব্যবসার নাম স্টার্ট-আপ, যার প্রধান উদ্দেশ্য নতুন ভাবনাচিন্তাকে ব্যবসায় নিয়ে এসে একটা লাভজনক ব্যাবসার সৃষ্টিকরা।

এর জন্য প্রধান যেটা চাই সেটা পুঁজি। এই ধরনের ছোটো বা প্রাথমিক স্তরের ব্যবসায় লগ্নি করার ব্যবস্থাকেই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ট্রাস্ট বলে।

১৯৯৫ সালে ইংল্যান্ডে এই ব্যবস্থা শুরু হয়। ভিসিটি গুলি আর পাঁচটা কোম্পানীর মতো শেয়ার বাজারে লগ্নি করার জন্য খোলা থাকে। এরপর তারা ওই টাকা নিয়ে বিভিন্ন ছোটোছোটো বা কিছু ক্ষেত্রে বড় স্টার্ট-আপ বা সমগোত্রীয় ব্যবসায় লগ্নি করে। যেহেতু এই ধরনের বিনিয়োগে ঝুঁকি বেশি তাই হতে পারে আপনার পুরো টাকাটাই জলে গেল। কারণ যে ব্যবসায় আপনার ভিসিটি লগ্নি করেছিলো সেটা হয়তো বন্ধ হয়ে গেল বা যথেষ্ট উন্নতি করতে পারল না।

একজন ভিসিটি ম্যানেজার ঠিক করে তারা কোথায় লগ্নি করবে, এখন আপনার যদি আইনি ভাবে যোগ্যতা থাকে সেখানে লগ্নি করার তাহলে আপনি এই বিশাল বাজারের একটা অংশ পেতেই পারেন। ঝুঁকির কথা ভেবেও ভয় পাওয়ার কিছু নেই ভেঞ্চার ক্যাপিটালে। আপনার কোম্পানী সঠিক ভাবে প্রতিটা স্টার্টআপকে বিশ্লেষণ করে তবেই সেখানে লগ্নি করে এর মধ্যে লটারির মতো কোনো বিষয় নেই।

এর থেকে ট্যাক্সে কী ছাড় পাওয়া যায়?

এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ট্রাস্টে লগ্নি যেহেতু অর্থনীতির চাকা গড়াতে সাহায্য করে তাই প্রতিটা দেশের সরকার এই বিনিয়োগকারীদের সুবিদার্থে কিছু ট্যাক্স মকুব করে। সাধারণ ভাবে একটি কাট-অফ উল্লেখ করা থাকে যার উপরে অথবা নীচে বিনিয়োগ করলে একটি বিশেষ পরিমান ট্যাক্সমকুব করা হয়।

উদাহরণস্বরূপ ইংল্যান্ডে কেউ £২০০০০০ পর্যন্ত লগ্নি করলে তাকে ৩০% শতাংশ ট্যাক্সমকুব করা হয়। এই ট্যাক্সমকুবের কিছু বিধি নিয়ম আছে। যেমন, ধরা যাক অ ব্যক্তি £১০০০০০ লগ্নি করেছে ভিসিটিতে এবং তার বার্ষিক ট্যাক্সের পরিমান £৬০০০০। তাহলে তাকে ৩০% ট্যাক্স ছাড় দেওয়া হলে তার ট্যাক্সের পরিমান হবে £৪২০০০।

কিন্তু কেউ যদি £১০০০০০ লগ্নি করে কিন্তু তার বার্ষিক ট্যাক্স যদি £১৫০০০ হয় তাহলে সে কোনোরকম ট্যাক্স ছাড় পাবেনা।

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কি শারিয়া বিধি লঙ্ঘন করে?

এই ধরনের স্টার্ট আপ কোনো রকম রাখঢাক ছাড়াই তাদের পুরো অ্যাকাউন্টসের ডিটেলস দিয়ে দেয় লগ্নিকারিদের সামনে। সেখানে যদি আপনি দেখেন কোনো কোম্পানী শরীয়ামতে হারাম টাকা আনছে তাহলে অবশ্যই সেখানে লগ্নি করবেন না। কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই এরা শরীয়ামতে হালাল হয় এবং লগ্নি করা হালাল হয় সেক্ষেত্রে।