ভেষজবিদ জার্নাল: যেভাবে ফুসফুস নীরোগ ও সবল রাখবেন

ID 70215670 © Wasana Jaigunta | Dreamstime.com
Fotoğraf: ID 70215670 © Wasana Jaigunta | Dreamstime.com

কেস: সারা আমার কাছে সাধারণ শরীরের দূর্বলতা এবং হজমজনিত সমস্যা নিয়ে এসেছিল। তিনি প্রতিদিন ব্যায়াম করতেন, সোডা বা কফিতে অভ্যস্ত ছিলেন না, ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খেতেন।
তা সত্ত্বেও তিনি খানিকটা শারীরিক অস্বস্তিতে ভুগতেন। সারার শারীরিক গঠন ছিল চমৎকার। তার কোলন সবল ছিল, এটার সঞ্চালন ভাল ছিল। তবে তার নীল চোখে সাদা সাদা রঙ ছিল এবং ফুসফুসে ভাঙ্গা ভাঙ্গা ডাকছিল। এটা থেকে বোঝা যায়, তার ফুসফুস ছিল বেশ চাপে ছিল এবং তার স্নায়ুতন্ত্র ভালভাবে কার্যকর ছিল না।
আমি যেহেতু সারার জীবনযাত্রাকে স্বাস্থ্যকর বলে মনে করেছিলাম তাই শুরুতে খানিকটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়লাম। তাই আমি তার জীবনধারা এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলাম। আমি যখন তাকে জিজ্ঞাসা করলাম যে সে এমন কোনও কিছুর সংস্পর্শে আসে কিনা যা তার ফুসফুসকে প্রভাবিত করতে পারে তখন তিনি স্বীকার করেছিলেন যে তিনি মাঝে মাঝে ধূমপান করেন। তিনি বলেছিলেন যেহেতু তিনি কেবল সাপ্তাহিক ছুটিতে ধূমপান করতেন তাই এটি কোনও বড় বিষয় নয়। তবে, যদিও তিনি কেবল সপ্তাহান্তে ধূমপান করতেন তবে প্রায়শই তাঁর বন্ধুদের বাড়িতে যেতেন যারা ছিল ধূমপায়ী। তারা সারার সামনেই ধূমপান করত, ফলে সারার ফুসফুস এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হত।
যখন আমি তাকে বললাম, এটি তার অসুস্থতা অনুভূত হওয়ার কারণ হতে পারে তখন তিনি বলেছিলেন যে তিনি ধূমপানের প্রভাব থেকে বাচতে নিয়মিত ভিটামিন সি গ্রহণ করছেন।
তবে, আমি তাকে বুঝিয়ে দিয়েছিলাম যে দিনে দশটি সিগারেট খেলে যে ক্ষতি হয় তা প্রতিরোধ করতে এত বেশি ভিটামিন সি লাগবে যে তা কখনোই গ্রহণ করা সম্ভব না। এছাড়াও, ধূমপান দেহে ক্যালসিয়াম এবং সালফার হ্রাস করে। সারা ধূমপানকে কেবল একটি খারাপ অভ্যাস হিসাবে দেখেছিলেন কিন্তু ধূমপান যে কোনও একটি খারাপ অভ্যাসের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিকর তা আমার বলার পর তার চোখের সামনে স্পষ্ট হল। সিগারেটের নিকোটিন অনেক বেশি ক্ষতি করতে পারে। নিকোটিন হার্টেবিটের হারকে বাড়ায়, যা হৃৎপিণ্ডের অক্সিজেনের চাহিদা বাড়িয়ে তোলে। একই সময়ে, সিগারেটের কার্বন মনোক্সাইড রক্তের অক্সিজেন বহন করার ক্ষমতা হ্রাস করে।
আমি সারাকে বুঝিয়ে বললাম যে ধূমপান তার ফুসফুসকে প্রভাবিত করে। ধূমপানের ফলে ফুসফুস যে অক্সিজেনটি পাচ্ছে তা শোষণ করতে পারে না। অক্সিজেন যেহেতু রক্তকে শুদ্ধ করে, যে ব্যক্তি ধূমপান করে সে তার রক্তকে বিষাক্ত করে তোলে।
ধূমপান শরীরে অ্যাসিডিটির মাত্রাও বাড়িয়ে তোলে যা ভবিষ্যতে তার বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে। ধূমপান তার শরীরের খাবার হজমের ক্ষমতা হ্রাস করছিল। ধূমপানটি ভালভের সাথে জড়িত যা পেটে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। আমি সারা কে বলেছিলাম যে সে যেন ধূমপান বন্ধ করার চেষ্টা করে বা কিছু প্রাকৃতিক ভেষজ খাওয়া শুরু করে যা তার ধূমপানের অভ্যাস বন্ধ করতে সহায়তা করবে। আমি সারা কে কমফ্রে নামের একটি ভেষজ উদ্ভিদ ব্যবহার করতে পরামর্শ দিয়েছিলাম।
কমফ্রে মেয়েদের শরীরে হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করতে সহায়তা করে। এছাড়াও, আধুনিক যুগে এটি একজন ব্যক্তির ধূমপানের অভ্যাস কাটিয়ে দিয়ে ফুসফুস নিরাময়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।
কয়েক শতাব্দী ধরে কমফ্রে পাতা হজমে সহায়তা এবং পাচনতন্ত্রের রোগ নিরাময়ের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটিতে একটি ভিটামিন রয়েছে যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে।
সারা এই ভেষজের সাস্থ্যকর প্রভাব সরাসরি তার শরীরে অনুভব করেছিল। তাই সে ধূমপানের পরিবর্তে প্রতিদিন এই কমফ্রে দিয়ে তৈরি করা ভেষজ চা খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর উপকার ছিল অনেক এবং শারীরিক জটিলতা দূর করতে সহায়ক।
দু’সপ্তাহ পরে সারার থেকে জানতে পারলাম যে তিনি দারুণ বোধ করছেন এবং ধূমপানের অভ্যাস অনেক কমে গেছে।