ভয়কে হারাতে পারলেই আল্লাহর পথে চলতে পারব আমরা

Moon Sky Star
to 141273514 © Oleksii Yaremenko | Dreamstime.com

সাফল্য কাকে বলে ?  কিংবা সাফল্যের সংজ্ঞা কী ?

সত্যি কথা বলতে গেলে, এই প্রশ্নের জবাব দেওয়া খুবই কঠিন। কারণ প্রত্যেক মানুষ সাফল্যকে নিজের মতো করে দেখে, তাই প্রতিটি মানুষের কাছে সাফল্যের সংজ্ঞা ভিন্ন। তবে এটুকু বলতে পারি, ভয় হল সবচেয়ে শক্তিশালী আবেগ এবং সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে এই ভয়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। এই ভয়ের জন্যই জীবনের কিছু ঘটনা ভালো দিকে ঘুরে যায়, আবার কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে যায়। কখনও ভেবে দেখেছেন, কেন বলা হয় যে আল্লাহকে ভয় করুন? বা কায়ামতের দিনকে ভয় করুন? কারণ কেউ আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপের উপরে নজর রাখছে- এই ভয় আমাদের জীবনে ভালো কাজ করতে বাধ্য করে। তার ফলে জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে আমরা কম আফশোস করি।

কিন্তু এই ভয়-কে ব্যবহার করে যদি মানুষ একে অপরকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে কিংবা কাউকে মিথ্যার আশ্রয় নিতে বা ভুল পথে চলতে বাধ্য করে? হয়তো সত্যি কথা বললে বিপদে ফেলার ভয় দেখিয়ে কাউকে  মিথ্যা কথা বলতে বাধ্য করা হয়। এই রকম ক্ষেত্রে কী শুধুমাত্র কারও অপছন্দের পাত্র হয়ে থাকার ভয় কিংবা মৃত্যুভয়ের খাতিরে একজন ব্যক্তি সারা জীবন মিথ্যা বলে যাবেন? 

এই ধরনের বিপদ কাটিয়ে ওঠার একটি মাত্র উপায় রয়েছে। সবার আগে এটা বুঝতে হবে যে- এই ক্ষুদ্র জীবনে আমরা যা কিছুই অর্জন করি না কেন, মৃত্যুর পরে মাটির ছয় ফুট নীচে শুয়ে যখন কায়ামতের দিনের অপেক্ষা করতে হবে, তখন অন্য কোনও কিছুই সঙ্গে থাকবে না। তাহলে সারা জীবন কেন ভয় পেয়ে কাটাবেন?

ভয় কাটিয়ে ওঠা  

জীবনে সফল হওয়ার মূল চাবিকাঠি হল, যে ভয় আপনাকে একজন দুর্বল মানুষে পরিণত করে- সেই ভয় কাটিয়ে ওঠা। অনেকে হয়তো এই কথা শুনে হাসতে পারেন, আবার অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন- তারপরেও যদি জয় হাসিল না হয় তাহলে কী হবে? এই প্রশ্ন যদি সত্যিই আপনার মনে এসে থাকে, তাহলে এক সেকেন্ড অপেক্ষা করুন। ভাবুন, আমরা প্রকৃতপক্ষে কার মন জয় করার চেষ্টা করছি? একে অপরের? কীসের জন্য এই চেষ্টা? আমাদের কি একে অপরের বিরুদ্ধাচরণ করার পরিবর্তে পরস্পরের সহযোগিতা করা উচিত নয়?

অনেকে এই ভয়কে নিরাপত্তাহীনতার নাম দেন, কিন্তু এগুলি কিছু ছোটখাটো ভয় ছাড়া সত্যিই আর বেশি কিছু নয়। এবং খুব সহজেই আমরা এই ধরনের ভয় থেকে নিজেদের বরাবরের জন্য মুক্ত করতে পারি। কিন্তু তার জন্য এই ভয়গুলির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মোকাবিলা করতে হবে। এই ধরনের ভয়ের জন্যই মানুষ হিসেবে আমাদের বুনিয়াদ কমজোর হয়ে পড়ে। আমাদের মধ্যে যে সম্ভাবনা রয়েছে তার সদ্ব্যবহার আমরা করতে পারি না।

আল্লাহের চোখে সে-ই সেরা মানুষ, যে সবচেয়ে বেশি পবিত্র। তাহলে কেন আমরা একে অপরের চোখে ভালো সাজার বা পরস্পরের মন জয় করার চেষ্টা করব? প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি মানুষের চেষ্টা করা উচিত যাতে সে আল্লাহর নজরে ভালো, সৎ এবং পবিত্র থাকে। বাকি কে, কী ভাবলো- তাতে সত্যিই কিছু যায় আসে না। কারণ মানুষের বিচার করবেন আল্লাহ, অন্য কেউ নয়। 

কথায় বলে, পুরানো অভ্যাস বর্জন করা খুব কঠিন। এই কথা সত্য। কিন্তু জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার দ্বারা এই পুরানো অভ্যাসও বর্জন করা সম্ভব।

সত্যের পথ চিনুন

অনেক মানুষকে আমরা আল্লাহের রূপ বলে ভাবতে শুরু করি। কিন্তু এরা কেউ আল্লাহ নন। এরাও আমাদের মতোই সাধারণ মানুষ। এদের জীবনও আল্লাহ প্রদত্ত। এদের বিচারও আল্লাহ করবেন। এদের জীবনেও বাকিদের মতো কিছু না কিছু ভয় রয়েছে। তাই অকারণ এই ধরনের মানুষদের সন্তুষ্ট করার পিছনে এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট করা উচিত নয়। 

আল্লাহের কথা শুনে চললে, আমাদের উচিত পরস্পরকে সাহায্য করা। যাতে আমরা নিজেদের ভয় কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি আমাদের প্রিয়জনদেরও ভয় কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারি। মনে রাখতে হবে, কারও ছল-চাতুরি বা হুমকির ভয়ে আল্লাহের পথ থেকে সরে যাওয়া উচিত নয়। বরং আল্লাহের উপরে ভরসা রেখে সেই ভয় কাটিয়ে উঠে সর্বদা সৎ পথ অবলম্বন করা উচিত। তাহলেই নিজের জীবনের শেষ মুহূর্তে কোনও গ্লানি থাকবে না, কোনও আফশোস থাকবে না।

যে দিন আমরা সকলে এই সরল সত্য কথাটা বুঝতে শিখব এবং মন থেকে তা মানতে শুরু করব- সেদিন থেকে কোনও ভয় আর আমাদের স্পর্শ করতে পারবে না। কোনও ভয় আমাদের আল্লাহের দেখানো পথ থেকে সরাতে পারবে না। তখনই আমরা সঠিক অর্থে সফল হতে পারব এবং নিজেদের জীবনের সাফল্যকে উপভোগ করতে পারব।