SalamWebToday নিউজলেটার
সালামওয়েবটুডে থেকে সাপ্তাহিক নিবন্ধ পাওয়ার জন্য সাইন আপ করুন
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

মক্কার শায়েখা: করিমাহ বিনতে আহমদ আল মারওয়াযিয়াহ (রহঃ)

শিক্ষা ২২ ডিসে. ২০২০
জানা-অজানা
করিমাহ বিনতে আহমদ
© LidiaLydia | Dreamstime.com

কারিমাহ বিনতে আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাতিম আল মারওয়াযিয়াহ মক্কার পবিত্র নগরীতে লালিতপালিত হন। তিনি এই পবিত্র ভূমিতে ১০০ বছর অতিবাহিত করার পর ৪৬১ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

ইসলাম সম্পর্কে তাঁর অগাধ জ্ঞান এবং বিখ্যাত হাদিসের কিতাব সহিহ আল বুখারীর দরস প্রদানের জন্য তিনি এখনও ইলমী অঙ্গনে সমাদৃত হয়ে রয়েছেন।

তিনি অসংখ্য সহিহ হাদিস বর্ণনা করেছেন। ঐ সময়কার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় হাদিসের পন্ডিত হেরাতের আবু যর (রহঃ) তাঁর ছাত্রদেরকে পরামর্শ দিতেন যাতে তারা কারিমাহ বিনতে আহমদ (রহঃ) এর নিকট থেকে সহিহ হাদিস শিক্ষা করে।

ইলম অর্জনের জন্য ভ্রমণ

কারিমাহ (রহঃ) মূলত তুর্কমেনিস্তানের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি তাঁর পিতার সাথে ইলম অর্জন এবং হাদীস অধ্যয়নের জন্য দূর-দূরান্তে সুদীর্ঘ পথ ভ্রমণ করার জন্য ঐ জামানায় প্রসিদ্ধ ছিলেন।

তার এই ইলমের জন্য ভ্রমণ তাকে সরখস, ইসফাহান, জেরুজালেমে এবং শেষ পর্যন্ত মক্কা নগরীতে নিয়ে যায়। তিনি আবুল হাইথাম আল কুসমিহানী, আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ইবনে ইউসুফ ইবনে বায়মুয়াহ আল আসবাহানী এবং জহির বিন আহমদ আল সরখাসির মতো সুপ্রসিদ্ধ আলেমদের অধীনে ইলম অর্জন করেছেন।

একজন মহান আলেমা

মক্কায় বসতি স্থাপন করার পরে কারিমাহ বিনতে আহমদ আল মারওয়াযিয়াহ (রহঃ) মক্কার শায়েখা নামে পরিচিতি লাভ করেন।

তিনি হাদিসের শিক্ষা ও বর্ণনার জন্য বিশেষত বুখারী শরীফ সংগ্রহের জন্য বিশেষত্ব অর্জন করেছিলেন; তিনি যে ইলম অর্জন করেছিলেন তা থেকে তিনি পুরুষ এবং স্ত্রী উভয়কেই শিখিয়েছিলেন।

সুপ্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-যাহাবি (মৃত্যু: ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দ) করিমাহ সম্পর্কে মন্তব্য করেন, “তিনি প্রচুর ইলমের অধিকারী ছিলেন এবং অত্যন্ত ধর্মপরয়াণ একজন মহিলা ছিলেন।”

তার ধর্মপরায়ণতা, বিশুদ্ধ আকিদা এবং অগাধ জ্ঞানের জন্য তিনি ইলমি অঙ্গনে এখনও পর্যন্ত সুপ্রসিদ্ধ হয়ে রয়েছেন।

করিমাহ (রহঃ) মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি উজ্জ্বল উদাহরণ ছিলেন এবং স্নেহের সাথে তাকে এখনও “উদারতার মাতা” হিসাবে স্মরণ করা হয়।

সকলের প্রতি অনুরাগী শিক্ষিকা

আনসি তামারা গ্রে নামক একজন মহিলা মুসলিম মহিলা পন্ডিতদের নিয়ে একটি সিরিজ সংকলন করেছেন। তিনি এই সিরিজে করিমাহ (রহঃ) কে নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই আলোচনা কালে তিনি কারিমাহ (রহঃ) কে একজন অনুরাগী শিক্ষিকা হিসেবে তুলে ধরেছেন। যে ছাত্ররা তার কাছে ইলম অর্জনের জন্য আসত তিনি তাদেরকে কঠোর পরিশ্রম করার শর্তে তাঁর কাছে পড়ার অনুমতি দিতেন। এবং তাঁর কাছ থেকে ইলম অর্জনের সময় তাদেরকে পর্যাপ্ত গাইডলাইনও দিতেন।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, তিনি কারও প্রতি চাপ সৃষ্টি করতেন না। তবে তিনি এমনভাবে সকলকে ইলমের প্রতি অনুরাগী করে তুলতেন যে, তাঁর সকল ছাত্রই কঠোর পরিশ্রমের জন্য প্রস্তুত হয়ে যেত।

হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর সাবধানতা এমন ছিল যে, তিনি তাঁর ছাত্রদেরকে শুধু মুখে শোনার উপর নির্ভর করতে নিষেধ করতেন। বরং, তাদের প্রত্যেকের সাথে থাকা অনুলিপির সাথে তাঁর মুখনিঃসৃত হাদিসগুলিকে মিলিয়ে নিতে বলতেন।

হাদীসের বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসৃত এই নীতি হাদিসের ক্ষেত্রে তাঁর পদমর্যাদার একটি চিত্র তুলে ধরে।

২ জন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসের শিক্ষিকা

পরবর্তী যুগের অনেক সুপরিচিত মুসলিম আলেম করিমাহ (রহঃ)-এর ছাত্র ছিলেন; যারা সরাসরি তাঁর কাছ থেকে হাদিসের ইলম অর্জন করেছেন। এর মধ্যে ২জন প্রসিদ্ধতম হলেনঃ খতিব আল-বাগদাদী (মৃত্যুঃ ১০৭১ খ্রিষ্টাব্দ) এবং আলী বিন হুসাইন আল-ফাররা (মৃত্যুঃ ১০৬৬ খ্রিষ্টাব্দ)

অনুসরণ করার মত একটি উদাহরণ

এই আলোকিত নারী কখনও বিয়ে করেননি। বরং তাঁর পুরোটা জীবন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস শেখা ও শেখানোর জন্য উত্সর্গ করে দিয়েছেন। তাঁর জীবনী এটি প্রমাণ করে যে, একজন মহিলার মূল্য কেবল স্ত্রী এবং মা হওয়ার উপরই নির্ভর করে না। মূলত, করিমাহ (রহঃ) একটি দুর্দান্ত উদাহরণ রেখে গেছেন; যা আমাদের সকলের জন্যই অনুসৃত।

সহিহ বুখারীর হাদিস বর্ণনা করার সময় পরবর্তী অধিকাংশ মুহাদ্দিসদের সনদে তাঁর নামের উল্লেখ পাওয়া যায়।

তিনি আমাদেরকে শিখিয়ে গেছেন যে, নিজ সম্প্রদায়ের সেবায় আত্মোৎসর্গ এবং আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমেই এই ক্ষণস্থায়ী জীবনটি পূর্ণতা লাভ করে।

ইসলামী জ্ঞান অধ্যয়ন, অন্বেষণ, শিক্ষাদান এবং প্রচারের মাধ্যমে করিমাহ (রহঃ) এটি করেছেন।

যাই হোক, বর্তমানে আমাদের সমাজ ও পরিবারের মেয়েরা যদিও কারিমাহ-এর মত হতে পারবে না। তবুও আমরা যদি তাদের মাঝে কারিমাহ (রহঃ)-এর জীবনী থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার অনুপ্রবেশ ঘটাতে পারি তবে হতে পারে তা মুসলিম নারীদের জন্য জাগরণের আরেকটি সাক্ষী হয়ে থাকবে।