SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

মঙ্গলের লাল মাটি স্পর্শ করল নাসার ‘পারসেভেরান্স’!

আবিষ্কার ২০ ফেব্রু. ২০২১
জ্ঞান-বিজ্ঞান
পারসেভেরান্স
© Evgenii Puzanov | Dreamstime.com

কিছুদিন আগেই আরব দুনিয়ার ‘হোপ’ বা আমল মঙ্গলের কক্ষপথে পৌঁছেছে। এবারে ২০৩ দিনে প্রায় ৪৭.২ কোটি কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নাসার এখনও অব্দি সর্বাপেক্ষা আধুনিক এবং সর্ববৃহৎ রোভার পারসেভেরান্স (Perseverance), যার বাংলা অধ্যাবসায়, বৃহস্পতিবার ১৮ই ফেব্রুয়ারী মঙ্গলে সফলভাবে অবতরণ করল।

প্রসঙ্গতঃ ২০২০ সালের ৩০শে জুলাই ফ্লোরিডার Cape Canaveral Space Force Station থেকে কে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল মঙ্গল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা পৃথিবীতে ফেরত আনার উদ্দেশ্যে। মঙ্গলে এই মুহূর্তে নাসার পাঠানো ল্যান্ডার ‘ইনসাইট’ এবং রোভার ‘কিউরিওসিটি’ সফলভাবে কাজ করছে। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসার বিখ্যাত জেট প্রপালসন ল্যাবরেটরীর কনট্রোল রুমে EST অনুসারে বিকেল ৩.৫৫ মিনিটে সফল অবতরণের খবর আসতেই উচ্ছাসের বন্যা বয়ে যায় এই মিশন টিমের সদস্যদের মাঝে।

‘অধ্যাবসায়’ থুড়ি ‘পারসেভেরান্স’ ঠিক কী কী দায়িত্ত্ব পালন করতে চলেছে?

আকারে একটি গাড়ির সমান, ১০২৬ কিলোগ্রামের (২২৬৩ পাউন্ড) এই ‘ভূতত্ববিদ রোবট’ অধ্যাবসায় মঙ্গলের জেজেরো (Jezero) নামের খাতের পাথর এবং পলির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। জেজেরো হল ৪৫ কিলোমিটার চওড়া একটি খাত যেটি মঙ্গলের নিরক্ষরেখার উত্তরে Isidis Planitia নামের বিশাল অববাহিকার পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। বিজ্ঞানীদের মতে প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে এই খাতের নিজস্ব নদী ব-দ্বীপ ছিল এবং অববাহিকা জলে পরিপূর্ণ ছিল।

সাতটি অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্র, সবথেকে বেশি সংখ্যায় ক্যামেরা এবং বিশ্বে প্রথম ধরণের নমুনা সংগ্রহ প্রযুক্তির এই রোভারে প্রয়োজনীয় তাপ এবং বিদ্যুৎশক্তির সরবরাহের জন্য আছে Multi-Mission Radioisotope Thermoelectric Generator (MMRTG)।

নাসার Planetary Science Division এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক লোরি গ্লেজ বললেন, “পারসেভেরান্স এখনও অব্দি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ভূতত্ববিদ রোবট। ”

জেজেরা খাতের পাথর, পলি এবং অববাহিকা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলের ওই অঞ্চলের ভূত্বক এবং পূর্বের আবহাওয়া নিয়ে গবেষণার সাথে সাথে এই মিশনের আর একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল নভঃজীববিদ্যা অর্থাৎ মঙ্গলে প্রাচীন অণুজীবের খোঁজ করা।

আরো অত্যাধুনিক এবং বৃহদাকার যন্ত্রপাতি মঙ্গলে পাঠানো সম্ভব নয় বলে মঙ্গল থেকে প্রাপ্ত পাথর, পলি ইত্যাদি পৃথিবীতে ফেরত এনে তা বিশ্লেষণ করা হল এই মিশনের একটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নাসার সহকারী বিজ্ঞান পরিচালক থমাস জার্বাকেন এর কথায়, “পারসেভেরান্স হল মঙ্গল থেকে পাথর এবং অন্যান্য নমুনা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে নেয়া প্রথম পদক্ষেপ। ”

এই মিশন ভবিষ্যতে মঙ্গলে মানুষের পদার্পণের রাস্তা তৈরী করতে চলেছে

জেট প্রপালসন ল্যাবরেটরির ডিরেক্টর মাইকেল ওয়াটকিনস এর কাছে জানা গেল যে পারসেভেরান্স কে এমনভাবে বানানো হয়েছে যা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ এবং অবতরণ সম্পর্কে নিখুঁত তথ্য দেবে। মঙ্গলে প্রবেশ, অবরোহণ এবং অবতরণের জন্য তৈরী Mars Entry, Descent, and Landing Instrumentation 2 (MEDLI2) সেন্সর বিশদে তথ্য সংগ্রহ করে ভবিষ্যতের মানব মিশনের সফল অবতরণে সাহায্য করবে।

সাথে থাকা Planetary Instrument for X-ray Lithochemistry (PIXL) এবং Scanning Habitable Environments with Raman & Luminescence for Organics & Chemicals (SHERLOC) নামের দুই যন্ত্র সেখানকার ভূত্বকের বিশ্লেষণ এর সাথে সেইসব খনিজ এবং জৈব অণু খোঁজার কাজ করবে যেগুলি পৃথিবীতে জীবনের আধার।

তাছাড়া পারসেভেরান্স-এর সাথে থাকা Mars Oxygen In-Situ Resource Utilization Experiment (MOXIE) যন্ত্র মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত গ্যাস (প্রধানত কার্বন-ডাই-অক্সাইড) থেকে অক্সিজেন বানানোর চেষ্টা করবে। এমনকি রোভারের সাথে থাকা Ingenuity Mars Helicopter ব্যবস্থা ভীনগ্রহে নিয়ন্ত্রিত উড়ানের পরীক্ষা করবে। এই মিশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার জন ম্যাকনামী তাই জানালেন, “অধ্যাবসায় থাকলে মানুষ কী না অর্জন করতে পারে তার প্রমাণ এই মিশন।”