মঙ্গল অভিযানে নামছে আরব আমিরাত, আরব বিশ্বে প্রথম

Mars
ID 18606501 © Nerus | Dreamstime.com

আট শতাব্দী আগে আরব বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদরা প্রথিবীর বুকে যে অবদান রেখে গিয়েছিলেন সেখান থেকে আজ অনেকটাই সরে এসেছে এ প্রজন্মের মুসলিম বিশ্ব। বিজ্ঞান ও গবেষণায় আরও একবার সেই হারানো ইতিহাসকে লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী তাদের হারানো সেই গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা করছে এই আরব আমিরাতে। প্রথম আরব দেশ হিসেবে মঙ্গলগ্রহ অভিযানে নামছে আরব আমিরাত। আরব প্রায় পাঁচ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম ঢেলে তৈরী করেছে মঙ্গলযান। আরব আমিরাত মানবহীন এই মহাকাশযানটির নাম দিয়েছেআমাল। আরবিতে যার অর্থ ‘আশা’।

মঙ্গল গ্রহের চারিদিকে ঘুরে ঘুরে লাল রঙের এই গ্রহটি সম্পর্কে নানারকম তথ্য খুব সহজেই আমাদের হাতে উঠে আসবে এই মহাকাশযান  “আমালএর জন্য। 

বিবিসির পক্ষ থেকে জানা গেছে, ১৪ জুলাই জাপানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত দ্বিপ তানেগাশিমা থেকে মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণ করার কথা ভাবা হয়েছে। ৪৯৩ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত মঙ্গলগ্রহ। সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে গেলে এই মহাকাশযান পাড়ি দেবে মঙ্গল এর উদ্দেশ্যে। হিসেবে দেখা গেছে পৌঁছাতে পৌঁছতে মহাকাশযানটির প্রায় সময় লাগবে আনুমানিক সাত মাস। আমাদের যেমন ৩৬৫ দিনে একবছর সম্পন্ন হয় মঙ্গলে তেমনি ৬৮৭ দিনে হয়। এই পুরোটা সময়  মহাকাশযানটি মঙ্গলগ্রহের কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে চলবে। কক্ষপথ একবার ঘুরতে সময় লাগবে ৫৫ ঘণ্টা, যেখানে আমাদের পৃথিবীর লাগে ২৪ ঘন্টা। এই প্রকল্পের পরিচালক সারাহ আল আমিরি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন দেশটির তরুণ বিজ্ঞানীদের জন্য এই মিশনস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংপেশায় যুক্ত হওয়ার দ্বার উন্মুক্ত করবে।

যুক্তরাজ্যের সায়েন্স মিউজিয়াম গ্রুপের পরিচালক স্যার ইয়ান ব্ল্যাচফোর্ড বলেছেন, “এর আগে যত মহাকাশযান মঙ্গলগ্রহে পাঠানো হয়েছে সেগুলো ভূতত্ত্বের দিকে মনোযোগ দিয়ে কাজ করেছে। কিন্তু এবার মঙ্গলগ্রহের জলবায়ু সম্পর্কে একটি সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যাবে।

তাছাড়া সূক্ষ্ম বস্তুর ছবি তুলতে সক্ষম এই শক্তিশালী ক্যামেরাটি। আরও জানা গেছে যে গ্রহটির বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগ নিম্নভাগ পরিমাপ করার জন্য একটিইনফ্রারেড স্পেকটোমিটার থাকবে।  যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি এই যন্ত্রটি তৈরী করেছে বলে জানা গেছে। তৃতীয় যে সেন্সরটি আছে সেটি  গ্রহটির অক্সিজেন হাইড্রোজেনের মাত্রা পরিমাপ করবে।

জাপানিজ রকেট দ্বারা চালিত মহাকাশযানটিতে তিন ধরনের সেন্সর বর্তমানে যা মঙ্গলগ্রহের জটিল বায়ুমণ্ডল এর পরিমাপ করতে থাকবে। মহাকাশযানটিতে খুব শক্তিশালী রেজুলুশনসম্বলিত একটিমাল্টিব্যান্ডক্যামেরা বিদ্যমান,যা দিয়ে মঙ্গলগ্রহের জলবায়ু সম্পর্কে একটি সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যাবে।

মঙ্গল গ্রহে পানি নেই। কিন্তু কেন? কি কি উপাদান এর অনুপস্থিতি এই মঙ্গল গ্রহে? সেই উদ্দেশ্যেই সারাহ আল আমিরি জানিয়েছেন যে এই মিশনের বিশেষ অন্যতম কাজ হল পানি তৈরির অন্যতম দুটি গুরুত্বপূর্ন উপাদান কেন মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডলে থাকতে পারছে না তা বোঝারই প্রয়াস করা।

মঙ্গলগ্রহে অভিজান যদি সফল হয় তবে দেশটি প্রতিষ্ঠার ঠিক ৫০ বছরে এসে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেবে। এই অভিযানের ফলে উঠে আশা তথ্য নাসা সমেত বিশ্বের ২০০টি  সংস্থার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হবে। প্রথম আরব হিসেবে মহাকাশ অভিযানে গিয়েছিলেন সৌদি আরবের সুলতান বিন সালমান আল-সৌদ। তিনি ১৯৮৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যানে মহাকাশ অভিযানে যান।