মতবিরোধকে শত্রুতায় পরিণত করবেন না

সমাজ Contributor
মতবিরোধকে
Deux jeunes hommes Musulmans d'Asie l'un murmure dans l'oreille de l'autre qui ferme ses oreilles pour ne pas entendre

গোষ্ঠী, পরিবার বা কোনো সংস্থা, যেকোনো জায়গাতেই সদস্যদের মধ্যে পারষ্পরিক মতপার্থক্য থাকে। তবে মতপার্থক্য যদি না শত্রুতায় রুপান্তরিত হয় তাহলে সমস্যার কিছু নেই।

মানুষ সহজাত ভাবেই স্বাধীন ভাবনাচিন্তার অধিকারী, তাই অনেক ক্ষেত্রেই দ্বিতীয় ব্যক্তির সাথে তার মতের অমিল হয়।

এই অমিল থেকে কখনও সমাধান বেড়িয়ে আসে অথবা একে অপরের সাথে সহমত না পোষণ করার স্বাধীনতা নেন যাকে ইংরেজিতে বলে Agree to Disagree।

কিন্তু অনেকেই একটা ভুল করেন মতবিরোধকে শত্রুতায় রূপান্তরিত করে।

মতবিরোধকে সামলাবো কীকরে?

এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য আজ আমরা বেশ কিছু উদাহরণ নিয়ে এসেছি যা আপনাকে শুধু অজানা তথ্যই দেবেনা, উৎসাহও বাড়াবে এ বিষয়ে উন্নতি করার। মতবিরোধকে শত্রুতা বানানো কাজের কথা নয়।

১) ইসলামী ইতিহাসের গোড়ার দিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মধ্যে একটি হলো খন্দকের যুদ্ধ। চতুর্থ হিজরিতে ঘটা এই যুদ্ধে ইহুদিরা বিশ্বাসঘাতকতা করে, চুক্তিভঙ্গ করে তারা মুশরিকদের সাথে হাত মেলায় এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে। অতর্কিতে আক্রমণের সামনে মদিনার মুসলমান সৈনিকরা কোনো উপায় না পেয়ে পালিয়ে যায় রাতের আঁধারে। এই সময় মহম্মদ (সাঃ) তাঁর সৈনিকদের নির্দেশ দেন বনু কুরাইজায় গিয়ে সেখানকার ইহুদিদের শায়েস্তা করার। তিনি আরও নির্দেশ দেন সেখানে যেন তারা আসরের নামাজ আদায় করে।

কিন্তু পথেই আসরের ওয়াক্ত এসে যাওয়ায় দ্বন্ধ সৃষ্টি হয়। একদল সাহাবা বলেন যেহেতু আসরের ওয়াক্ত হয়ে গেছে তাই রাস্তাতেই নামাজ আদায় করা হবে। অপর দল বলে যে নবীজি (সাঃ)-এর নির্দেশ অনুযায়ী বনু কুরাইজায় গিয়েই নামাজ আদায় করা হবে। দুই দলের মধ্যে মতবিরোধ হয় এবং দুদলই নিজমর্জিতে কাজ করে। পরে নবীজি (সাঃ)-এর কাছে খবর পৌঁছালে তিনি কোনো পক্ষকেই ভর্ৎসনা করেননি।

২) ইসলামের বিভিন্ন নিয়মের মধ্যে কিছু নিয়ে বিতর্ক হয়েছে অতীতে। এর মধ্যে একটি হলে ইমামের অজুহীনতায় নামাজ আদায় করলে শুধু ইমামকেই নামাজ পুনঃআদায় করতে হবে নাকি মুক্তাদিদদেরও করতে হবে।

এবিষয়ে মদিনাবাসীদের মতামত ছিলো শুধু ইমামের নামাজ আদায় করার পক্ষে।

সেই সময়ের খলিফা ছিলেন ইমাম আবু ইউসুফ (রাঃ), তাঁর মতে শুধু ইমামকেই নামাজ আদায় করতে হবে অন্যদের করার কোনো দরকার।

তিনি অনুসরণ করতেন আবু হানিফা (রাঃ)কে, যিনি মনে করতেন ওজুহীনতার ক্ষেত্রে ইমাম ও মুক্তাদিদ উভয়কেই নামাজ আদায় করতে হবে।

এখান থেকে আমরা জানতে পারি যে, কোনো একজনের মতের বিরোধিতা করলেই যে তাকে অশ্রদ্ধা করতে হবে এমন নয়।

মতবিরোধ মানেই অশ্রদ্ধা নয়

৩) ইমাম আবু হানীফা (রাঃ) ছিলেন ইসলামের সর্বকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইমামদের মধ্যে অন্যতম।

তাঁর সাথে মতবিরোধ থাকা ইমাম শাফী তাঁকে পরম শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন। একজন আলেম ছিলেন ইমাম আওজায়ী শামের, অগাধ পান্ডিত্য থাকলেও তাঁর আবু হানীফা সম্বন্ধে ধারণা ভালো ছিল না।

আবু হানীফার একজন শাগরীদের সাথে তাঁর সাক্ষাত হলে আওয়ায়ী হানীফাকে অগ্রাহ্য করে মন্তব্য করেন।

সেই শাগরীদ কিছু না বলেই সেখান থেকে চলে যান এবং আওযায়ীকে আবু হানীফার কিছু রচনা দিয়ে যান।

সেগুলি অধ্যয়ন করে ইমাম আওজায়ী বুঝতে পারেন আবু হানীফা কতবড় মাপের আলেম এবং তাঁর ধারণা বদলে যায়।

পরে দুজনের সাক্ষাত হলে তিনি আবু হানীফার প্রতি আরও বেশী শ্রদ্ধাজ্ঞ্যাপন করেন।

একে অপরকে না জানার কারণে এরকম ভুলত্রুটি অনেকক্ষেত্রেই হয়, মতবিরোধকে শত্রুতায় পরিণত না করার প্রমাণ উপরোক্ত ঘটনাটি।