SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

মনোবিজ্ঞান সারায় দাঁতের রোগ, আবিষ্কারে নারী-চিকিৎসক

সমাজ ০২ জুলাই ২০২০
মনোবিজ্ঞান সারায়
ID 139461999 © Milkos | Dreamstime.com

আজ বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত নতুন তথ্য তুলে ধরছে, খুলে দিচ্ছে বহু বন্ধ দরজা। মানবসভ্যতার এই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শুধু মাত্র ইউরোপআমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলিই নয় মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে সৌদি আরবের মতো বিজ্ঞানের নিরীখে অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা দেশগুলিও। সেই দেশেরই অন্যতমা মহিলা, ডাঃ আবীর আলনামানকানি, চিকিৎসাবিজ্ঞানকে এক নতুন দিশা দেখিয়েছেন। তাঁর একাধিক গবেষণাপত্র বিশ্বব্যাপি বিজ্ঞান চিকিৎসামহলকে খুঁজে দিয়েছে একের পর এক প্রশ্নের জবাব। 

মনোবিজ্ঞান সারায় দাঁতের অসুখ, কীভাবে?

ডাঃ নামানকানি প্রথমে আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয় পরে লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে পড়াশোনা করেন। প্রাথমিকভাবে দন্তচিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ হওয়ার পাশাপাশি তিনি মনোবিজ্ঞানেও অগাধ পান্ডিত্যের অধিকারী। মনোবিজ্ঞান সারায় দাঁতের অসুখ, এটি তাঁর প্রাথমিক দাবী। 

তাঁর কাজের প্রধান বিষয় হলো শিশুদের মধ্যে দন্তচিকিৎসায় সংক্রান্ত ভীতি এবং বিনা ঔষধে এর চিকিৎসা। ডাঃ নামানকানি শিশুদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ না করে কাউন্সেলিং বা থেরাপির মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করার কথা বলেন। অর্থাৎ মনোবিজ্ঞান সারাবে শিশুদের ভীতি। 

সম্মোহনবিদ্যা শিশু দন্ত্যচিকিৎসাবিদ ডাঃ নামানকানি ছাত্রাবস্থা থেকেই অতীব বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরষ্কার এবং সম্মানের অধিকারী হন। তিনি পাঁচটি ডিসটিংগুইশ ক্লিনিকাল অ্যান্ড রিসার্চ অ্যাওয়ার্ডের অধিকারী। বর্তমানে তিনি তইবা বিশ্ববিদ্যালয়ের পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক এবং সেখানকার গবেষণা লাইব্রেরি সংক্রান্ত বিষয়ের সহকারী অধ্যক্ষা। এছাড়া তিনি ব্যক্তিগত ক্ষেত্রেও প্র্যাকটিস করেন। তিনি যুক্ত রয়েছেন ইউনিভার্সটি কলেজ লন্ডন এবং ইস্টম্যান ডেন্টাল ইন্সটিটিউটের সঙ্গে। এছাড়া তিনি সৌদি জার্মান হসপিটালের কন্সাল্ট্যান্ট শিশু দন্ত বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। 

২০১২ সালে সৌদি আরবের প্রথম দশজন প্রভাবশালী মহিলার মধ্যে তিনি নিজের স্থান করে নিয়েছিলেন। ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সমগ্র বিশ্বে প্রভাবশালী ৫০০ জন মুসলমানের তালিকায় পর পর চার বছর বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিভাগে নিজের নাম ধরে রেখেছিলেন ডঃ নামানকানি। যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ কাউনসিল ২০১৫ সালে তাঁকে সৌদি থেকে আশা অন্যতম শীর্ষ গ্র্যাজুয়েট বলে ভূষিত করে।

ডাঃ নামানকানি সম্বন্ধে বলতে গেলে ডাক্তারি ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকা যায় না। সৌদি আরবের মতো দেশের একজন মহিলা বিজ্ঞান এবং সমাজব্যবস্থা বিষয়ে নিজের পরিচয় বিশ্বব্যাপি তুলে ধরেছেন, মতামত জানিয়েছেন বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্বন্ধেও সাধারণ মানুষের কৌতুহল কম নয়।

মনোবিজ্ঞান ও দন্তচিকিৎসা একসঙ্গে সামলাচ্ছেন এই চিকিৎসকঃ

নিজেকে পারফেকশনিষ্ট বলে দাবি করা ডাঃ নামানকানি নিখুঁত এবং সাজানোগোছানো জীবনযাপন পছন্দ করেন। একা মা হওয়ায় তাঁর মেয়েই হয় সর্বদার সফরসঙ্গী। আজ পর্যন্ত চল্লিশটারও বেশি কনফারেন্স লেকচারে ডাক পেয়েছেন ডাঃ নামানকানি, তুলে ধরেছেন একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য আবিষ্কার। বিজ্ঞান মহলে অসংখ্য অবদান রাখার পর তাঁর লক্ষ্য সক্রিয় রাজনীতিতে গিয়ে সৌদির মেয়েদের এগিয়ে আসতে সাহায্য করবেন।

তাঁর মতে, একবিংশ শতকের সৌদি আরব অনেক উন্নত এবং অগ্রবর্তী মানসিকতার পরিচায়ক। তিনি যেমন মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম শিশু দন্ত্যচিকিৎসক/মনোবিদ হয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন তেমনই প্রশাসনিক ক্ষেত্রে প্রথম মহিলা মন্ত্রী হয়ে মেয়েদের এগিয়ে যাওয়ার পথকে মসৃণ করতে চান। 

সৌদি যুবরাজ আলওয়ালিদ বিন তালালকে নিজের আদর্শ মনে করা এই চিকিৎসক শিক্ষা গবেষণা খাতে খরচ বাড়াতে স্থানীয় সরকারকে আবেদন করেছেন। সিঙ্গাপুরের অর্থনীতির সাথে তুলনা করে দেখিয়েওছেন যে দ্রুত অগ্রগতির জন্য বিজ্ঞাননির্ভর সমাজ কতটা প্রয়োজন। 

একটি সাক্ষাতকারে ডাঃ নামানকানি, হজরত আয়েশা (রাঃ)-এর উদাহরণ টেনে বলেন, প্রাচীন ইসলামিক পটভুমিতে দাঁড়িয়েও তিনি পুরুষ এবং মহিলাদের একই সাথে শিক্ষাদান করতেন। একটি সুন্দর সমাজের জন্য নারী পুরুষ উভয়কেই সমান সুযোগ করে দিতে হবে এগিয়ে যাওয়ার। 

ডাঃ নামানকানি বিজ্ঞানের জগতে তাঁর মূল্যবান অবদানের জন্য তাঁকে কুর্নিশ জানাতেই হয়। তাঁর মতো শিক্ষিত এবং সমাজসচেতন মহিলাকে আজকের সমাজে বিশেষভাবে প্রয়োজন।