মসজিদেই জান্নাতের বাগিচা সফর

hamidiye camii mosque

‘যে পবিত্র সত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদস্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসেবে। অতএব, আল্লাহর সঙ্গে তোমরা অন্য কাউকে সমকক্ষ কোরো না। বস্তুত এসব তোমরা জানো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২)

মুসল্লিদের অনুপ্রেরণা জাগানো এই  আয়াতটির অনুকরণে একটি মসজিদ রয়েছে তুরস্কে। যেখানে নামাজ আদায়ের সময়ে মনে হবে আপনি জান্নাতের বাগানে ভ্রমণ করছেন। তুরস্কের এই  মসজিদের নাম ‘হামিদিয়ে জামি’। মসজিদটি জান্নাতের মসজিদ হিসেবে স্থানীয়দের কাছে বিখ্যাত। এটি মধ্য আনাতোলিয়ার কিরশেহির শহরে অবস্থিত। ১৯১০ সালে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। তখন ওসমানীয় খলিফা সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদের নামে মসজিদটির নামকরণ করা হয়। কিন্তু সংস্কারের অভাবে কালপরিক্রমায় মসজিদটি একপ্রকার  ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। পরবর্তী সময়ে এই মসজিদের মুসল্লিরা চমৎকার উদ্যোগ নেন। তখন তারা পুরো মসজিদটি আবার নতুন করে অভাবনীয় কায়দায় নির্মাণ করেন। যেটি দর্শক-মুসল্লি সবাইকে বিমুগ্ধ ও চমৎকৃত করে।

মসজিদের ভেতরের অংশ সাজানো হয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক আবহে। নতুন ডিজাইনের মসজিদ নির্মাণে স্থানীয়রা মসজিদের ভেতরের ছাদকে আকাশের অবয়বে চিত্রিত করেছেন। আর মসজিদের মেঝেতে স্থাপন করেছেন দেখতে সবুজ ঘাসের মতো কার্পেটে। মসজিদের ভেতরে রয়েছে সুবিশাল ঝুলন্ত ঝাড় বাতি। এটা মসজিদের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মসজিদের মিম্বরটি তৈরি হয়েছে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে। মিম্বরের ধাপগুলোর আচ্ছাদনে ব্যবহৃত হয়েছে সবুজ ঘাসের ডিজাইনকৃত কার্পেট। মিম্বরে প্রবেশের জন্য রয়েছে, কালেমা লিখিত একটি কাঠের গেটও। বর্তমান ডিজাইনে মসজিদের ভেতরে নকশাগুলো আজারবাইজানের এক স্থপতি অংকন করেছেন। সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ শেষে মসজিদটি ২০১৬ নামাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এ মসজিদে স্থানীয় অধিবাসীরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেণ। শহরের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ মসেজিদের সৌন্দর্য দেখতে এবং নামাজ আদায় করতে আসেন।

আগে উল্লিখিত আয়াতের অনুকরণেই মসজিদটি নির্মাণের পর তার ছাদজুড়ে আকাশের ছবি অঙ্কন করা হয়েছে। আকাশ থেকে পানি বর্ষণের বিষয়টি ফুটিয়ে তুলতে মিহরাবের খাঁজে একটি ঝরনা আঁকা হয়েছে, যাতে দেখা যাচ্ছে, আকাশ থেকে স্বচ্ছ পানি নেমে আসছে। সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য প্রতিটি জানালার পাশে রাখা হয়েছে একটি সবুজ গাছ। আর নামাজ পড়ার জন্য মেঝেতে বিছানো হয়েছে সবুজ ঘাসের মতো নরম কার্পেট। মসজিদের অভ্যন্তরীণ নকশায় তারা এভাবেই আয়াতটির মূল প্রেরণা তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।