SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

মহিলা মুসলিম বিজ্ঞানীর যুগান্তকারী আবিষ্কার মঙ্গলে যাওয়ার রকেট!

আবিষ্কার ১৬ ফেব্রু. ২০২১
জ্ঞান-বিজ্ঞান
মঙ্গলে যাওয়ার রকেট
Photo by Pixabay from Pexels

সুদূরের প্রতি মানুষের চিরকাল আকর্ষণ। সেই লক্ষ্যেই মানুষ চাঁদ থেকে শুরু করে মঙ্গল অব্দি যন্ত্র পাঠিয়েছে। আমেরিকার NASA বা ইউরোপের ESA এর মত সংস্থা আরও দূর দূরান্তের গ্রহ পাড়ি দেয়ার চেষ্টায় দিনরাত রয়েছে। আর সেখানে এইমুহূর্তে সবথেকে মুশকিল বাধা হল – বাহন বা আরও নির্দিষ্ট করে বললে অফুরন্ত জ্বালানি যুক্ত বাহন। মঙ্গলে এখনও অব্দি আমেরিকা, পূর্বতন সোভিয়েত ইউনিয়ন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত – এই চারজন সফলভাবে পৌঁছেছে। কিন্তু রাসায়নিক জ্বালানির জন্য গন্তব্যে পৌঁছতে লেগেছে বহু মাস।

আমেরিকার Department of Energy এর অধীন Princeton Plasma Physics Laboratory (PPPL) এর মুসলিম মহিলা বিজ্ঞানী ডঃ ফাতিমা ইব্রাহিমী এমন এক রকেটের ডিজাইন বানিয়েছেন যা এই মুহূর্তে উপলব্ধ রকেটগুলির তুলনায় ১০ গুণ বেশি গতিবেগ সম্পন্ন এবং পাড়ি দিতে পারে আরও অনেক দূর অব্দি। তার এই যুগান্তকারী আবিষ্কার জায়গা করে নিয়েছে বিখ্যাত Journal of Plasma Physics এর পাতায়।

কেমন সেই মঙ্গলে যাওয়া রকেট-এর প্রযুক্তি?

এখন যে সমস্ত রকেট মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় সেগুলি সবই উৎক্ষেপণের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পেতে এবং সর্বোচ্চ গতিতে পৌঁছতে তড়িতাহত গ্যাস বা বৈদ্যুতিক উপায়ে চার্জড গ্যাস (যা প্লাজমা নামে পরিচিত) নিক্ষেপ করে। ডঃ ফাতিমার ডিজাইন করা রকেটে ব্যবহৃত হবে চুম্বক দিয়ে চার্জড বা চৌম্বকীয় গ্যাস। এই পদ্ধতির ব্যবহারিক প্রয়োগ দেখা যায় সূর্যে।

সেখানে চুম্বকীয় বলরেখা মিলিত এবং আলাদা হবার সময় প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়। ঠিক এই পরিমাণে এই ধরণের শক্তি উৎপাদন করা যায় Tokamak নামক যন্ত্রের মাধ্যমে।

ডঃ ফাতিমা জানালেন, “২০১৭ সালে জাহাজের ডেকে বসে গাড়ির এক্সজস্ট দিয়ে বেরনো কণা এবং PPPL এর National Spherical Torus Experiment (NSTX) এর থেকে নির্গত উচ্চগতির কণার মধ্যে সাদৃশ্য খুঁজতে খুঁজতে এই ধারণা তার মাথায় প্রথম আসে।” NSTX হল আমেরিকার একটি নিউক্লিয়ার ফিউশন (পারমাণবিক/কেন্দ্রিক সংযোজন) সংস্থান এবং NSTX এর tokamak যন্ত্রে আসলে ফিউশন শক্তি উৎপাদন করা হয়।

কী এই ফিউশন শক্তি এবং কীভাবে তা রকেটে কাজে লাগবে?

ফিউশন শক্তি হল সূর্য সহ সমস্ত নক্ষত্রের অফুরন্ত শক্তির উৎস। যখন প্লাজমা হিসেবে থাকা মুক্ত অনু-পরমাণু-নিউক্লিয়াসের সংযুক্তিকরণ ঘটে, তখন এই বিপুল শক্তি উৎপন্ন হয়। এই ফিউশন শক্তিকেই রকেটের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের উপায় বাতলেছেন ডঃ ফাতিমা।

চুম্বকীয় বলরেখার মধ্যে সংযোগ সৃষ্টি করে সেই ফিউশন শক্তি তৈরী করার কথায় ভেবেছেন তিনি। ফাতিমার কথায়, “Tokamak যন্ত্রটি পূর্ণ শক্তিতে চললে plasmoid নামে চুম্বকীয় বুদ্বুদ তৈরী করে যেগুলো সেকেন্ডে প্রায় ২০ কিমি গতিবেগে নির্গত হয় এবং এই গতিবেগ রকেটের প্রয়োজনীয় ধাক্কার (উৎক্ষেপণের শক্তি) জন্য যথেষ্ট।” পরীক্ষা করে দেখা গেছে এই গতিবেগ বর্তমান প্রযুক্তির রকেট থেকে প্রায় ১০ গুণ বেশি।

এই দ্রুতগতিই যাত্রাপথের সময় অনেকটাই কমিয়ে দূরের গ্রহদেরও নাগালের মধ্যে এনে দেবে। প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষা সমাপ্ত এবারে prototype তৈরীর দিকে এগোচ্ছেন বিজ্ঞানী ফাতিমা।