SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

মাইগ্রেনের সমস্যা দূর করতে কী করবেন?

স্বাস্থ্য ২১ ফেব্রু. ২০২১
মতামত
মাইগ্রেনের সমস্যা
Photo by Andrea Piacquadio from Pexels

মাইগ্রেনের সমস্যায় আপনারা অনেকেই ভোগেন। যে-সমস্ত কারণে মাথা ধরে বা মাথাব্যথা হয়, তার মধ্যে মাইগ্রেন অন্যতম। তবে অন্যান্য মাথা ধরার সঙ্গে মাইগ্রেনের বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। সাধারণত মাইগ্রেনের ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়, অনেকসময় ৭২ ঘণ্টা ধরে টানা এই ব্যথা থাকতে পারে। মাথা বা কপালের কোনও নির্দিষ্ট একদিকে এই ব্যথা দেখা যায়। যাদের মাইগ্রেন খুব মারাত্মক আকার ধারণ করে, তাঁদের ক্ষেত্রে অসহ্য মাথাযন্ত্রণার পাশাপাশি বমি, ঝিমুনিও হতে পারে। আজকের লেখায় মাইগ্রেন কেন হয় এবং কীভাবে আপনি মাইগ্রেনের সমস্যা দূর করতে পারেন, সেই নিয়ে আলোচনা করব।

মাইগ্রেন কেন হয়?

মনে রাখবেন মাইগ্রেনের পিছনে অনেকগুলি কারণ কাজ করতে পারে। ব্যক্তিবিশেষে এই কারণগুলি পৃথক-পৃথক হয়। পিরিয়ডের সময় হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে যেমন এই মাইগ্রেন অ্যাটাক হতে পারে, তেমনই স্ট্রেস, ডিপ্রেশন, উদ্বেগ বা হঠাৎ করে কোনও উত্তেজনার কারণেও মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হতে পারে। রাতে ভাল করে ঘুম না হওয়া মাইগ্রেনের অন্যতম কারণ। অনেকসময় রাতে ভাল ঘুম না হলে সকাল থেকেই মাথা ধরে থাকে। যাদের কাঁধ বা ঘাড়ে ব্যথা হয়, তাঁদের মাইগ্রেনের প্রবণতা বেশি থাকে। এছাড়া অ্যালকোহল, ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, চকোলেট, চিজ খেলেও এই মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হতে পারে। আপনি যদি কোনও আওয়াজযুক্ত স্থানে থাকেন বা বদ্ধ ঘরে, খুব বেশি উজ্জ্বল আলোয়, তাহলে সেখান থেকেও মাইগ্রেনের যন্ত্রণা শুরু হয়। ঘুমের ওষুধ খাওয়ার অভ্যেস, ক্লান্তি, ভুলভাবে দীর্ঘক্ষণ ধরে বসে থাকা, নিম্ন রক্তচাপ, জেট ল্যাগ, খাওয়ার কোনও নির্দিষ্ট সময় না থাকা, ডিহাইড্রেশন এবং কিছু জন্মনিরোধক ওষুধ খেলেও মাইগ্রেন হতে পারে।

মাইগ্রেনের সমস্যা দূর করবেন কীভাবে?

মাইগ্রেনের সমস্যা একবার শুরু হলে সেটি পুরোপুরি সারিয়ে তোলা যায় না। তবে নির্দিষ্ট কিছু উপায়ের মাধ্যমে ব্যথা ও তার তীব্রতা যাতে কমে সেই চেষ্টা করা যায়। নীচে রইল তারই হদিশ।

কী খাচ্ছেন, কখন খাচ্ছেন?

আজ্ঞে হ্যাঁ। আপনার যদি মাইগ্রেনের সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে। কী খেলে আপনার মাইগ্রেনের সমস্যা শুরু হচ্ছে, সেটি আগে নিজে জানুন, তারপর সেগুলি এড়িয়ে চলুন। কফি বা চা জাতীয় পানীয় অনেকসময় মাথাব্যথা কমায়। তবে তাই বলে মাথাব্যথা শুরু হলেই কাপের পর কাপ কফি খাবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। দিনে এক বা দু’কাপ কফি বা চা তাও চলতে পারে। কিন্তু এর বেশি ক্যাফেইন? নৈব নৈব চ! অনেকেই রোগা হওয়ার জন্য ব্রেকফাস্ট বা লাঞ্চ স্কিপ করেন। মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে এটি বন্ধ করুন। যা খাবেন, সেটি নিয়ম করে সময় মেনে খাওয়ার চেষ্টা করুন।

মাইগ্রেনের সমস্যা হলে এড়িয়ে চলুন

ব্লু চিজ বা পারমেসান চিজের মতো এজেড চিজ, যাতে টাইরামিন থাকে, সেগুলি এক্ষেত্রে এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। রেড ওয়াইন, ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, যেমন কফি, চকোলেট, চা, কোল্ডড্রিঙ্কস, সোডা খাওয়া বন্ধ করুন। এছাড়া নাইট্রেটযুক্ত খাবার, যেমন হটডগ, প্রসেস করা মাংস, পাউরুটি ও বেক করা খাবার, চিপস, ড্রায়েড ফ্রুটস, পিৎজা, চিনাবাদাম, মুরগির মেটে খেলেও মাইগ্রেনের ব্যথা হতে পারে। তবে এগুলি ব্যক্তিবিশেষে নির্ভর করে। ফলে কী খেলে আপনার মাইগ্রেন হয় এবং তার জন্য কী খাবেন না, তার একটা লিস্ট তৈরি করুন।

মাইগ্রেনের সমস্যা হলে বাইরের খাবার বাদ!

আপনার মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে বাইরের ভাজাভুজি, ফাস্টফুডকে খাদ্যতালিকা থেকে একেবারে বাদ দিয়ে দিন। কারণ এতে থাকা নাইট্রাইট, এমএসজি অনেকসময় মাইগ্রেনের কারণ হয়ে ওঠে। সম্ভব হলে খাদ্যতালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার যতদূর সম্ভব কম করুন। মিষ্টি, চিনি কম খান। বরং তার বদলে বেশি করে সবজি, প্রোটিনযুক্ত খাবার খান। প্রাকৃতিক খাবারে ভরসা রাখুন। স্যালাড খান। তবে স্যালাডের ড্রেসিংটি আবার বাইরে থেকে রেডিমেড কিনে আনবেন না। আর ম্যাগনেসিয়াম যুক্ত খাবার, যেমন আমন্ড, তিল, সূর্যমুখীর বীজ, কাজুবাদাম, পিনাট বাটার, ওটস, ডিম, দুধ এবং ভিটামিন বি যৌগ খাবার, যেমন মাছ, মুরগির মাংস মাইগ্রেন কমাতে কার্যকরী। আর পরিমাণ মতো জল খান।

এসেনশিয়াল অয়েল, আদা ব্যবহার করুন

মাইগ্রেন কমাতে এটি দারুণ একটি টোটকা হতে পারে। ব্যবহার করতে পারেন ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল। এটি স্ট্রেস, চাপ কমিয়ে মাথা ঠান্ডা রাখে। ‘ইউরোপিয়ান নিউরোলজি’তে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, ল্যাভেন্ডার অয়েল মাইগ্রেনের তীব্রতা কমাতে সহায়ক। এছাড়া জিঞ্জার পাওডার খেয়ে দেখতে পারেন। মাইগ্রেনজনিত বমি, ঝিমুনি দূর করতে এর জুড়ি নেই।

ব্যায়াম করুন বুঝে-শুনে, চাপমুক্ত থাকুন

অনেকেই সুস্থ থাকবেন ভেবে ব্যায়াম করেন। কিন্তু আপনার যদি মাইগ্রেনের সমস্যা থাকে, তাহলে ব্যায়াম করলেও অনেকসময় মাইগ্রেনের যন্ত্রণা শুরু হতে পারে। তবে এই সমস্যা সবার ক্ষেত্রে হয় না। তাই ব্যায়াম করার আগে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে নিন। মাইগ্রেন থাকলে ভারি ব্যায়ামের বদলে হালকা যোগব্যায়াম, কিছু ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ, জগিং ইত্যাদি করতে পারেন। আমাদের বর্তমান জীবনযাপনের কারণে স্ট্রেস এখন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। যতদূর সম্ভব স্ট্রেস কমিয়ে ফুরফুরে থাকুন। উইকএন্ডে কাছের লোকদের নিয়ে ঘুরে বেড়ান, চাপমুক্ত থাকুন। দেখবেন, মাইগ্রেনের সমস্যা আর আগের মতো থাকছে না।

সময় মেনে ঘুম

ঘুমের সময় এদিক-ওদিক হলে অনেকেরই সারাদিন মাথা ধরে থাকে, এছাড়া ঘুমের সমস্যাও হয়। ঘুমের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় রাখুন। একদিন রাত বারোটা, আবার পরের দিন রাত তিনটেয় না ঘুমনোই ভাল। রোজ একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোন এবং সকালেও সেই নির্দিষ্ট সময়ে ওঠার চেষ্টা করুন।

এছাড়া অ্যাকুপ্রেশার বা শরীরের নির্দিষ্ট অংশে চাপ দিয়ে মাইগ্রেন কমানো, ম্যাসাজ ইত্যাদির সাহায্যেও মাইগ্রেনের যন্ত্রণা আপনি কিছুটা হলেও কমাতে পারবেন।

তবে অনেকসময়েই আমরা সাধারণ মাথাব্যথার সঙ্গে মাইগ্রেনকে গুলিয়ে ফেলি। ফলে আপনার মাইগ্রেন রয়েছে কিনা, সেটি জানতে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আর ঘনঘন মাথা ব্যথা করলে সেটা ফেলে রাখবেন না। আর ব্যক্তিবিশেষে মাইগ্রেনের কারণগুলির মধ্যে তফাৎ লক্ষ্য করা যায়। আপনার কী কী কারণে মাইগ্রেন হয়, বিশেষ কোন সময়ে বা কোন খাবার খেলে সেই সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়, সেটা আপনাকেই বুঝতে হবে। ফলে কখন মাথা ব্যথা হচ্ছে, তার আগে কী খেয়েছিলেন বা কী করেছিলেন, রোদে বেরিয়েছিলেন কিনা, এগুলির খেয়াল রাখার জন্য একটি ডায়েরি মেনটেন করুন এবং যে-যে কারণে মাইগ্রেন হচ্ছে, সেগুলি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। দেখবেন মাইগ্রেনের সম্ভাবনা কমিয়ে সুস্থ থাকতে পারছেন।