SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

মাছের ডিমে রয়েছে কোলেস্টেরল, খাওয়ার সময় সাবধান

স্বাস্থ্যকর খাদ্য ১১ ফেব্রু. ২০২১
মতামত
মাছের ডিমে
মাছের ডিমের বড়া

মাছের ডিম খেতে কে না ভালবাসে! আলু দিয়ে মাছের ডিম কষা বা মাছের ডিমের বড়ার ঝাল দিয়েই একথালা গরম ভাত অনায়াসে খেয়ে ফেলা যেতে পারে। বিকেলে চায়ের পাশে ‘টা’ হিসেবে যদি মাছের ডিম দিয়ে সুস্বাদু মচমচে পকোড়া থাকে, তাহলে তো কথাই নেই! বর্ষাকালে ইলিশের ডিমই বলুন বা পোনা, ট্যাংরা ইত্যাদি অন্য কোনও মাছের ডিম, কিংবা ক্যাভিয়র, ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে শুরু করে পৃথিবীর প্রায় সমস্ত দেশেই মাছের ডিমের কদর। কিন্তু মাছের ডিম খাওয়া কতটা উপকারী? নাকি প্রিয় মাছের ডিমের প্রেম অজান্তেই নিজের বিপদ ডেকে আনছেন? আজকের লেখায় আমরা মাছের ডিম খাওয়া ভাল না খারাপ, তা নিয়ে আলোচনা করব।

মাছের ডিমে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ

মাছের প্রকারভেদে মাছের ডিমও নানারকমের হয়। তবে সব মাছের ডিমেই কিছু বিশেষ পুষ্টিগুণ থাকে, যা মোটামুটিভাবে এক। সাধারণত মাছের ডিমে থাকে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণযুক্ত ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এছাড়া এতে থাকে অতি প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি। এছাড়া ভিটামিন এ, কে, বি১২, সেলেনিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, আয়রনের মতো খনিজ উপাদান।

চোখের দৃষ্টি ঠিক রাখে

কম্পিউটারের সামনে বসে বা মোবাইলে একটানা কাজ করে এখন অনেকেরই কম বয়সে চোখে চশমা হয়ে যায়। তাঁদের পক্ষে চোখকে ভাল রাখার জন্য অন্যতম উপকারী হতে পারে মাছের ডিম। কারণ এতে থাকে ভিটামিন এ, যা চোখের দৃষ্টি ভাল রাখার জন্য সহায়ক। মাছের ডিমে থাকা এই ভিটামিন এ গর্ভাবস্থায় শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির ঝুঁকি কমায়, চোখের বয়সজনিত সমস্যা ও ড্রাই আই-এর হাত থেকে চোখকে রক্ষা করে।

মাছের ডিমে শক্তিশালী হয় হাড় ও দাঁত

এতে থাকা ভিটামিন ডি হাড় ও দাঁতকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন ডি খাদ্যোপাদানের মধ্যে খুব একটা পাওয়া যায় না। মাছের ডিম এক্ষেত্রে তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে। এই ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের শোষণে সহায়তা করে, যা হাড় মজবুত রাখে। এছাড়া সঙ্গে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকার ফলে ভিটামিন ডি-এর শোষণের পক্ষেও তা সহায়ক হয়। হাড়ের রোগ, স্ক্লেরোসিস ইত্যাদির থেকে রক্ষা করতে ভিটামিন ডি কাজে লাগে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে

গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু ভিটামিনের সঙ্গে মাছের ডিমে থাকে জিঙ্ক। এই খনিজ উপাদান ও মাছের ডিমে থাকা ভিটামিন এ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। ফলে ছোটখাট রোগ, সর্দিকাশি যাদের লেগেই থাকে, তাঁরা মাছের তেল নিশ্চিন্তে খেতে পারেন।

এছাড়া আরও কিছু রোগের ক্ষেত্রে মাছের ডিম দারুণ কাজে লাগে। এতে থাকা ভিটামিন এ ত্বককে ভাল রাখে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে। রক্ত জমাট বাঁধা ঠেকাতে, অতিরিক্ত রক্তপাতের সমস্যাতেও মাছের ডিমে থাকা ভিটামিন কে সহায়ক। পিরিয়ডের সময় পেট ব্যথা হলে মাছের ডিম খেলে উপকার পেতে পারেন। শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তপাত এবং অতিরিক্ত পিরিয়ডের সমস্যাতেও মাছের ডিমে থাকা ভিটামিন কে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এছাড়া এতে থাকা ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন বি১২ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ঠিক রাখে এবং শরীরে প্রদাহ কমায়, মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে শরীরে এনার্জির যোগান দেয়।

মাছের ডিমে-র রয়েছে খারাপ দিকও!

তবে মাছের ডিমের প্রচুর উপকারিতা থাকলেও এর কিছু খারাপ দিকও রয়েছে। যার প্রধান কারণ হল এতে থাকা অত্যধিক পরিমাণে কোলেস্টেরল। যারা নিয়ম করে মাছের ডিম খান, তাঁদের এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। এই এলডিএল কোলেস্টেরল ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ নামে পরিচিত, কারণ এই ধরনের কোলেস্টেরল রক্তবাহে জমা হয়ে ধমনীতে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা তাই মাছের ডিম খাওয়া এড়িয়ে চলুন। মনে রাখবেন, মাত্র ১০০ গ্রাম মাছের ডিমে প্রায় ৪৭৯ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে। এছাড়া এতে থাকা উচ্চমাত্রার সোডিয়ামও শরীরে সোডিয়ামের তারতম্য ঘটিয়ে নানা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এতে থাকা পিউরিন গেঁটে বাতের কারণ। মাছের ডিম খেলে ভাল করে রান্না করে খাওয়াই ভাল। কারণ এতে অনেকসময় নানারকম ক্ষতিকর পরজীবী থাকতে পারে, যা শরীরের মধ্যে প্রবেশ করে ক্ষতি করতে পারে বা ইনফেকশন সৃষ্টি করে।

ফলে মাছের ডিম খান, তবে তা পরিমাণ মেনে খান।