SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

মানবিক দুর্বলতা দুর করতে ইসলামের শিক্ষা (২য় পর্ব)

আকীদাহ ২৫ জানু. ২০২১
মতামত
মানবিক দুর্বলতা
© Serezniy | Dreamstime.com

গীবত

কু-ধারণা বা সত্য ঘটনা যার উপর ভিত্তি করেই হোক না কেন, সর্বাবস্থায় কোনো ব্যক্তিকে লাঞ্ছিত ও হেয় প্রতিপন্ন করা হয় এমন কথা তার অসাক্ষাতে কাউকে বলার নামই গীবত। হাদীসে গীবত প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, “তোমার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার কথা এমনভাবে বলা, যা সে জানতে পারলে অপছন্দ করতো তাই গীবত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হল, “যদি বাস্তবেই তার মধ্যে ঐ দোষ থেকে থাকে তাহলেও কি তা গীবতের অন্তুর্ভুক্ত হবে? জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যদি তার মধ্যে ঐ দোষ থেকে থাকে এবং তুমি তা বর্ণনা করে থাক, তবেই তো তুমি গীবত করলে। আর যদি তার মধ্যে ঐ দোষ না থেকে থাকে তাহলে তুমি তার উপর মিথ্যা দোষারোপ করলে।” কুরআনও গীবতকে হারাম গণ্য করেছে। সূরা হুজরাতে বলা হয়েছে,

“আর তোমাদের কেউ কারোও গীবত করবে না। তোমাদের কেউ কি নিজের মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করো? নিশ্চয় তোমরা তা ঘৃণা করো।”

তবে কিছু ক্ষেত্র এমন রয়েছে যেগুলি উল্লেখ করা গীবতের অন্তুর্ভুক্ত হবে না। যেমন, বিবাহযোগ্য কারও খোঁজ নিলে তার প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরা, দ্বীনের ক্ষতি করছে এমন কারও সম্বন্ধে অন্যদেরকে সতর্ক করা ইত্যাদি। কতিপয় এসকল ব্যতিক্রম ছাড়া সর্বাবস্থাই গীবত করা হারাম এবং তা শুনাও হারাম। তাই শ্রোতার অবশ্য কর্তব্য হচ্ছে, গীবতকারীকে বাধা দেয়া, আর বাধা দেওয়া সম্ভব না হলে যে মজলিসে তার মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার শামিল এমন কিছু করা হচ্ছে সেখান থেকে উঠে যাওয়া।

মানবিক দুর্বলতা দূরকরণের উপায়

তওবা ও এস্তেগফার

ইসলামী শরিয়তে এসকল মানবীয় রোগ শুরু হবার সাথে সাথেই এর চিকিৎসাও উল্লেখিত হয়েছে। অতঃপর এর প্রতিটি পর্যায়ে পথ রোধ করার জন্যে নির্দেশও দান করেছে। কুরআন-হাদীসের অসংখ্য স্থানে ঈমানদারদেরকে তওবা ও এস্তেগফারের জন্য উপদেশ প্রদান করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, মু’মিন যেন কোনো সময় আত্মপূজা ও আত্মপ্রীতির রোগে আক্রান্ত হয়ে গেলেও কখনো আত্মম্ভরিতায় লিপ্ত না হয়, নিজের দুর্বলতা ও দোষ-ত্রুটি অনুভব এবং ভুল-ভ্রান্তি স্বীকার করতে থাকে। এবং কোনো বড় সাফল্যের পরও অহংকারে বুক ফুলাবার পরিবর্তে যেন দীনতার সাথে নিজেকে তার রবের সম্মুখে হাজির করে। এরপর এই মর্মে আর্জি পেশ করে যে, তার এই সাফল্যের মধ্যেও হয়ত কোনো ভুল রয়ে গেছে আর সেগুলো যেন মাফ করে দেওয়া হয়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের চাইতে বড় পূর্ণতার অধিকারী দুনিয়াতে আর কে হতে পারে? কোনো ব্যক্তি কি তার চাইতে বড় কোনো কাজ সম্পাদন করেছে? কিন্তু ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম ও মহত্তম কাজ সম্পাদন করার পরও আল্লাহ তা’আলার দরবার থেকে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে,

“যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় এসে যায় আর তুমি মানুষকে দলে দলে তোমার রবের দ্বীনের মধ্যে প্রবেশ করতে দেখো তখন নিজের প্রতিপালকের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করো এবং তাঁর নিকট মাগফেরাত চাও। অবশ্যই তিনি সকলের তওবা কবুলকারী।”

উদাহরণ সহিত বর্ণনা

অর্থাৎ যে মহান কাজ তুমি সম্পাদন করেছো সে সম্পর্কে জেনে রেখো, তাঁর জন্য তোমার প্রতিপালকই প্রশংসার যোগ্য। কারণ তাঁরই অনুগ্রহে যেকোনো কাজে সফলকাম হওয়া সম্ভব। এজন্য যেকোনো সফলতার পর নিজেকে বড় মনে করার পরিবর্তে আল্লাহর শুকরিয়ার অনুভূতি অন্তরে জাগ্রত থাকা উচিত। এবং কোনো ভুল-ত্রুটি থেকে গেলে তার জন্য এস্তেগফার করা উচিত।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ইন্তেকালের পূর্বে প্রায়শই বলতেন,

“আমি রবের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি, আমি আমার রবের কাছে মাগফেরাত কামনা করছি এবং তাঁর কাছে তওবা করছি।”

এমনিতেও রাসূলু সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বদা তওবা-এস্তেগফারে মগ্ন থাকতেন। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছেন,

“খোদার কসম আমি প্রতিদিন সত্তর বারেরও অধিক আমার রবের নিকট এস্তেগফার ও তওবা করি।”

এ শিক্ষার প্রাণবন্ততাকে আত্মস্থ করার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির মনে সহজে এসকল মানবীয় দুর্বলতার বীজ অংকুরিত হতে পারবে না।

সত্যের প্রকাশ

এরপরও যদি কোন ব্যক্তির মধ্যে এসকল ত্রুটি দেখা দেয়, তাহলে ইসলামী শরীয়ত চরিত্র ও কর্মের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতি পদে এর বিকাশ ও প্রকাশের পথ রোধ করে এবং এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ দেয়। যেমন এর প্রথম প্রকাশ এভাবে হয়ে থাকে যে, মানুষ নিজেকে সমালোচনার উর্দ্ধে মনে করে এবং নিজের কথা ও মতামতকে যথার্থ মনে করে। অন্য কোনো ব্যক্তি তার ভুলের সমালোচনা করবে, এটা সে বরদাশত করতে পারে না।

এর বিপরীতে ইসলামী শরীয়ত সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখাকে সকল ঈমানদারের জন্য অপরিহার্য করে দিয়েছে। বিশেষ করে ক্ষমতাশীন জালেমদের সম্মুখে সত্যের প্রকাশকে সর্বত্তোম জিহাদ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এভাবে মুসলিম সমাজে অসৎকাজ থেকে বিরত রাখার ও সৎকাজের নির্দেশ দেওয়ার উপযোগী এমন পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যেখানে এসকল মানবীয় দুর্বলতা স্থান লাভ করতে পারে না।

 

(সমাপ্ত)। (১ম পর্ব )