শরিয়াহ সম্মত ওয়েব পরিবেশ. আরওসন্ধানকরুন

মানসিক প্রার্থনার অপর নাম মেডিটেশন

Meditation
dreamstime_xs_112817520

আমরা শান্তির বিপরীত শব্দটিকে স্ট্রেস বা  উদ্বেগ বলে নামকরণ করতে পারি। আধুনিক সভ্যতায় টেনশন উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তাকে বিদায় জানানোর নানান কৌশল চর্চা হচ্ছে। দেহ ও মন কে যথাযথ সুস্থ রাখার অনন্য এক নাম মেডিটেশন। কিন্তু ইসলামে কী মেডিটেশন বা ধ্যানের কোন চর্চা আছে আসলে? আসুন তবে জেনে নেই।

 মেডিটেশন আসলে কী?
মেডিটেশন নিয়ে ভাবতে গেলেই প্রথমেই আমাদের মনে ভেসে উঠে জঙ্গলে পদ্মাসনে বসা কোনো সন্ন্যাসী বা সাধকের মূর্তি। কিন্তু মুসলিমদের  এমন কোনো চিত্র আছে কি আদৌ?

মেডিটেশন আসলে ইসলামী আধ্যাত্মিকতার আরেক রূপ। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এ বিষয়ে যথাযথ আলোচনা করা হয়না।  এটি আসলে আল্লাহর প্রতি বান্দার আত্মসমর্পণের এক শৈল্পিক উপস্থাপনা। মনের অশান্ত রাজ্যে প্রশান্তির ফল্গুধারা বইয়ে দিয়ে একমাত্র মহান রবের দিকে নিজের বিক্ষিপ্ত ভাবনা গুলোকে সমর্পণ করাই মেডিটেশন।

এটি মানসিক অবস্থাকে সুনিয়ন্ত্রিত রাখার একটি পদ্ধতি। আমাদের পূর্বসূরীরা বিভিন্নভাবে মেডিটেশন চর্চা করেছেন। তারা জানতেন এই কলাকৌশল তাদের শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক প্রার্থনা ও ইবাদতের জন্য কার্যকরী এক পন্থা। নামাজ, রোজা যিকির এর মাধ্যমে  প্রশান্ত হওয়ার জন্য তারা আগে স্থির হতেন বা মেডিটেশন চর্চা করতেন।

এক আর্টিকেলে জাস্টিন প্যারোট বলেছেন-

 সচেতন ভাবে  কোনো জিনিসের প্রতি যথাযথ মনোযোগ প্রদান ,বর্তমানের প্রতি মনোযোগী হওয়া এবং দেহ, মন ও চিন্তাকে প্রশান্ত করার নাম মেডিটেশন বা মাইন্ডফুলনেস।
এই মেডিটেশনের বিবিধ উপকারিতা রয়েছে। যেমন- উদ্বেগ কমানো, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, লক্ষে একাত্ম, তীক্ষ্ণ মনোযোগের ক্ষমতা, আবেগ সুসংহত করণ এবং পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন ।

মেডিটেশন চর্চার কিছু পদ্ধতিঃ

১। তাফাক্কুর বা আত্মনিমগ্ন হওয়াঃ
তাফাক্কুর অর্থ- কোনো বিষয়ের প্রতি সচেতনভাবে গঠনমূলক ইতিবাচক চিন্তা চেতনায় মগ্ন হওয়া। আল্লাহ তায়ালার অসীম মহত্ত্ব ও নেয়ামত নিয়ে ব্যস্ত এই জীবনে কতটুকু সময় আমরা গবেষণা করি ? বা সুন্দর এই  জগত সম্পর্কে কতটুকুই বা ভাবি?

এবার তবে দু চোখ বন্ধ করুন। খানিক স্থির হয়ে যান। ভাবুন পরম প্রভু কত কাছে আপনার, তিনি সব দেখছেন! এই মুহুর্তে কেবল আপনি ও আপনার প্রভু!  ভাবুন আপনার চিন্তায় এখন কি চলছে সে সম্পর্কে তিনি ঠিক জানেন, আপনার উদ্বেগ, আপনার ভয় , আপনার আশা দুরাশা, আপনার স্বপ্ন কোনোকিছুই তাঁর অজানা নয়!  এখন নিজের প্রতি কঠোর হওয়ার কোনো দরকার নেই, নেতিবাচক চিন্তা ঝেড়ে ফেলুন। আর মনে করুন আপনার প্রভুর ওয়াদা তিনি আপনার কত কাছে , কত নিকটে থাকার কথা দিয়েছিলেন কুর’আনে।  তিনি যে আপনারই রব … আপনার অভিভাবক! এই মুহুর্তে আপনার প্রধান ভাবনাই মহান আল্লাহ তায়ালাকে নিয়ে , তিনি আপনাকে কত কিছু দিয়েছেন ভাবুন, শোকর গুজার হন। দিনের একটা অংশ প্রশান্ত হয়ে তাঁর নেয়ামত ও শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে ভাবুন, তবেই আপনি প্রশান্ত হয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ।

২। কৃতজ্ঞ থাকুন

তিনি কি তোমাকে এতিম অবস্থায় পেয়ে আশ্রয় দেননি? পথ হারা পেয়ে পথ দেখাননি? অভাবী পেয়ে অভাবমুক্ত করেননি? তাই, এতিমদের প্রতি কঠোর হবে না। কেউ কিছু চাইতে আসলে তাকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেবে না। আর তোমার রব তোমার উপর যা অনুগ্রহ করেছেন, তা অন্যকে জানাতে থাকো। —আদ-দুহা
কৃতজ্ঞতা, সন্তুষ্টি চমৎকার এক গুণের সমাহার। কিন্তু এই পৃথিবীর ইঁদুর দৌড়ে কয়জন এমন হয় , যারা সব অবস্থায় কৃতজ্ঞ থাকতে পারে বা ছোট্ট কোনো কাজের জন্যও শুকরিয়া জানাতে দ্বিধাবোধ করেনা?

উমর ইবনে আব্দুল আজীজ বলেছেন-

আল্লাহর মহত্ত্ব নিয়ে চিন্তাভাবনা করা ভালো, আর তার নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা সর্বোত্তম কাজগুলোর একটি ।  
 

৩।  কিছু সময় নিশ্চুপ থাকুন
কিছু সময় একান্ত নির্জনে নিশ্চুপ থাকার  শিক্ষা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সা এর জীবনীতে আমরা পেয়ে থাকি। নবুওয়াতের পূর্বে তিনি হেরা গুহায় নিশ্চুপ হয়ে ভেবেছেন , চিন্তা করেছেন জীবন জগত ও পরকাল নিয়ে ।

দৈনন্দিন ব্যস্ততায় অন্তত কিছু সময় পরিবার পরিজন সবার চিন্তা ও সংস্পর্শ থেকে নিজের জন্য খানিক সময় বের করুন। গভীর ভাবে শ্বাস নিন।প্রশ্বাসের দিকে নজর দিন ধীরে ধীরে। এবার নিশ্চুপ থেকে  ভাবুন নিজেকে নিয়ে , বর্তমান নিয়ে , নিজের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে । ভাবুন কোন কোন বিষয়ে আপনি দক্ষ ? উম্মাহর কল্যাণে এই গুণ গুলো এই চেষ্টাগুলো কীভাবে কাজে লাগাতে পারবেন? মনে মনে তার তালিকা করুন।

রাসূল সা বলেছেন- যে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে সে যেনো আল্লাহর মহত্ত্ব নিয়ে কথা বলে বা চুপ থাকে। সুফিয়ান আস সাওরী বলেন- দীর্ঘ সময় নিরব থাকাও ইবাদতের আরেক রূপ ।

আমরা জীবনের পরতে পরতে কঠিন পরিস্থিতিতে হাবুডুবু খাই। বহুদিন চলে যায় , দুঃসময় যেনো পার হয়না!  কষ্টের যেন কোনো শেষ নেই, চারিদিকে ঘোর অন্ধকার দেখতে থাকি। ঠিক সে মুহুর্তে মেডিটেশন করতে নির্জন বনে গিয়ে সন্ন্যাসী হওয়ার কোনো দরকার নেই । একজন মুসলিম জীবনের জটিলতার মধ্যে ডুবে দুঃসময়ের মধ্যেই পরম আল্লাহর ইবাদতে সময় বের করে নিবে, নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে সব বাঁধা কে অতিক্রম করে শোকর গুজার বান্দায় পরিণত হবে।

 

কিছুবলারথাকলে

যোগাযোগকরুন