মানসিক যন্ত্রনা সম্পর্কে ইসলাম যা বলে

Bu
ID 159610933 © Airdone | Dreamstime.com

প্রতিটি মানুষের মধ্যেই শারীরিক ও মানসিক দুই প্রকার যন্ত্রণা অবস্থান করে। শারীরিক বিষয়গুলির জন্য আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করি, ডাক্তারের পরামর্শও নিই কিন্ত বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই মানসিক সমস্যাগুলো চাপা পরে যায়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা সাহায্য না পাওয়ার ফলে সমস্যাগুলো জমাট বাঁধতে থাকে এবং গুরুতর অসুবিধার সৃষ্টি করে। কিছুক্ষেত্রে এগুলি প্রাণঘাতীও হয়।

মানসিক যন্ত্রণার প্রকাশ কী ভাবে হতে পারে?

স্ট্রেস- আমাদের শরীরের যতটা কার্যক্ষমতা তার বেশি কাজ করলে স্ট্রেস হতে শুরু করে। এর লক্ষণ প্রকাশ পায় শারিরীক, মানসিক ও ব্যবহারিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে। স্ট্রেসের আধিক্য থেকে মাথাযন্ত্রণা, পিঠে ব্যাথা, অনিদ্রা ইত্যাদি হতে পারে।

উদ্বিগ্নতা- উদ্বিগ্নতা সাধারণত মানসিক ভাবে দুর্বল মানুষদের হয়। অতিরিক্ত দুঃশ্চিন্তা, অনর্থক চাপ ইত্যাদি উদ্বিগ্নতার লক্ষণ।

প্যানিক অ্যাটাক– হঠাৎ হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়ে যাওয়া, প্রচন্ড ঘাম হওয়া, বুকে চাপ অনুভব করা, মাথা ঝিমঝিম করা এসবই প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণ।

অবসাদ- প্রতিদিনের জীবনে অবসাদ একটা একঘেঁয়ে ভাব নিয়ে আসে। কোনো কিছুই ভালো লাগে না, উপভোগ করার মতো মন থাকেনা, সবসময় একটা চাপা দুঃশ্চিন্তার ভাব থাকে।

মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে ইসলাম কী বলে?

একটা ধর্ম হিসেবে ইসলাম মানবজীবনের প্রতিটি ভাগে নির্দিষ্টভাবে আলোকপাত করে। ইসলাম বিভিন্ন উপায়ে মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার কথা ব্যাখ্যা করেছে।

আধ্যাত্মিক সুখ

ইসলাম একটা আধ্যাত্মিক মুক্তক্ষেত্র যেখানে যে কেউ ইবাদতের মাধ্যমে সুখ লাভ করে। সর্বশক্তিমান আল্লাহের সাথে আত্মিক বন্ধনে নিযুক্ত হলে জীবন শান্তিপূর্ণ হয়।

ধৈর্য্যশীল হওয়া 

ধৈর্য্যশীল হওয়াকে ইসলামে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২০০টি আয়াতে আল্লাহতাআলা বলেছেন ধৈর্য্যশীল হতে। ধৈর্য্য এমন একটি গুণ যা মানুষকে লক্ষ্যের পিছনে ধাবিত করে, যেকোনো রকম বিপদকে কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে ধৈর্য্য।

মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে যেসব ভুল ধারণা আছে ইসলামে

অনেক মানুষই আছেন যাঁরা মানসিক অসুস্থতার শিকার কিন্তু সমাজের ভয়ে প্রকাশ করতে পারেন না। আমাদের সমাজে আজও মানসিক রোগকে ঘৃণ্য চোখে দেখা হয়। এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।

অনেকে মনে করে মানসিক অসুস্থতা অধার্মিকদের হয়, একথা ঠিক নয়। যেকোনো অসুস্থতা বিভিন্ন কারণ থেকে হয়, কিন্তু ধর্মে বিশ্বাস বা অবিশ্বাস তার মধ্যে একটা নয়। আপনারা আশেপাশে এরকম কোনো ব্যক্তি থাকলে তাদের সাহায্য করুন।

অনেকে মনে করেন মানসিক অসুস্থতা আসলে আল্লাহর পরীক্ষা কিন্তু আদতে তা একেবারেই নয়।

একটি প্রচলিত ধারণা আছে যে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কাউন্সেলিং-এ গেলে তারা আপনার ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হানে। একথাও একেবারে সত্যি নয়। কিছু মানুষ তার চরিত্রবিশেষে এরকম করতে পারে। কিন্তু ডাক্তার বা থেরাপিষ্ট মানেই এরকম নয়। বহু এরকম চিকিৎসক আছেন যাঁরা আপনার বিশ্বাসকে সম্মান করেই চিকিৎসা করেন।