মার্চ পর্যন্ত সব মাহফিল স্থগিত, বাংলাদেশ ছাড়ছেন মিজানুর রহমান আজহারী

বিশ্বাস Tamalika Basu ০৬-ফেব্রু.-২০২০
mijanur Rahman Ajhari

বাংলাদেশের আলোচিত ও জনপ্রিয় বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী এ বছরের মার্চ পর্যন্ত সব তাফসির কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ সময়ে গবেষণার কাজে তিনি মালয়শিয়ায় চলে যাচ্ছেন।আজহারী শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতেও খুব জনপ্রিয়। বিশ্বের নানা জায়গায় ছড়িয়েছিটিয়ে থাকা বাঙালিদের কাছে, তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ব্যাপক। তাঁর বক্তব্যে যুক্তি ও তথ্যের ক্ষুরধার উপস্থাপনার দেখা মেলে। বাংলাদেশের মাহফিলগুলিতে তাঁর ওয়াজ শুনতেই ২-৪ লাখ মানুষ জড়ো হন। ইউটিউবের মাধ্যমে এপার বাংলার ধর্মপ্রাণ মানুষও আজহারীর বক্তব্যের শ্রোতা হয়ে উঠেছে।কিন্তু হঠাৎ করে কী এমন হল, তা এখনও বলতে পারছে না কেউ। তবে এ্রর আগে বেশ কয়েকবার আল্লামা মিজানুরের মাহফিল বন্ধ করেছে শেখ হাসিনা সরকার। অবশ্য তাঁর বক্তব্যে সরকার বিরোধী কোনও মন্তব্য তেমন থাকে না বলে মত শ্রোতাদের।’কুরআনের পাখি’ নামে পরিচিত আল্লামা দেলওয়ার হোসেন সাইদির মুক্তি নিয়ে অবশ্য বেশ কয়েকবার তাঁকে সরব হতে দেখা গিয়েছে। সাইদি এখন মিথ্যা মামলায় জেলে বন্দি আছেন বলে অভিযোগ আজহারীর ওয়াজের শ্রোতাদের। সাইদির মুক্তি চেয়েই কি নিজের বিপদ ডেকে এনেছেন আজহারী, প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।তবে মিজানুর সেসব অভিযোগের ধারেকাছে যাননি। বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশ ছাড়ছেন। সেখানে তিনি লেখেন–

আস্সালামু ‘আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ..
প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোনেরা

পারিপার্শ্বিক কিছু কারণে, এখানেই এবছরের তাফসির প্রোগ্রামের ইতি টানতে হচ্ছে। তাই, মার্চ পর্যন্ত আমার বাকী প্রোগ্রামগুলো স্থগিত করা হল। রিসার্চের কাজে আবারো মালয়েশিয়া ফিরে যাচ্ছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সুযোগ করে দিলে, আবারও দেখা হবে ও কথা হবে কুরআনের মাহফিলে ইনশাআল্লাহ।

এবছর বেশীর ভাগ প্রোগ্রামগুলোতেই পারিবারিক ও সামাজিক ক্রাইসিস নিয়ে কথা বলেছি, পাশাপাশি কয়েকটি সূরার তাফসিরও করেছি। আশাকরি, আলোচনা গুলো থেকে আপনারা উপকৃত হবেন। পরিবারের সবাই মিলে আলোচনাগুলো শুনুন এবং কথাগুলো বাস্তব জীবনে মেনে চলার চেষ্টা করুন। তাহলে দেখবেন ধীরে ধীরে, আমাদের পরিবার ও সমাজ সুখময় এবং শান্তিময় হয়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ।

আমি একজন নগন্য মানুষ। মহাগ্রন্থ আল কুরআনের ছাত্র। কুরআনের ছাত্র হয়েই বেঁচে থাকতে চাই ও নিরলস কাজ করে যেতে চাই। তাই সুপ্রিয় শ্রোতাদেরকে বলব, প্লিজ আমাকে নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি করবেন না। আমাকে জড়িয়ে কোন ব্যাপারে কাউকে গালাগালি করবেন না, অন্য কোন মতাদর্শের আলেমদেরকে হেয় বা ছোট করে কিছু বলতে যাবেন না। যদিও তাদের কেউ কখনো আমাকে ছোট করে কথা বলে। অনুরুপ ভাবে, কোথাও আমাকে ডিফেন্ড করে তর্ক বা কমেন্ট করতে চাইলে, ভদ্রতা বজায় রেখে, যৌক্তিক ভাবে এবং বিনয়ের সাথে সেটা করুন। সত্য একদিন উন্মোচিত হবেই হবে ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানিতে, দেশের আপামর জনতার যে ভালোবাসা পেয়েছি, জানিনা সিজদায় পড়ে কতটুকু অশ্রু ঝড়ালে এবং কোন ভাষায় শোকরগোজার হলে এর যথাযথ শুকরিয়া আদায় হবে। মালিকের দরবারে আলীশানে লাখো কোটি শুকর এবং সুজুদ। ওয়ালহামদু লিল্লাহি ‘আলান্নি’আম।

প্রোগ্রামগুলো বাস্তবায়নে যারা সার্বিক সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবার জন্য রইল আন্তরিক ভালোবাসা ও দোয়া। বিশেষ করে পুলিশ, প্রশাসন এবং স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রোগ্রামগুলো সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। তাদেরকে আল্লাহ তায়ালা উত্তম প্রতিদান দান করুক।

আমার এ জীবনের ছোট্ট অভিজ্ঞতায় যা দেখলাম, সেটা হল: আমরা আমাদের জীবনের একটা উল্লেখযোগ্য সময় কাটিয়ে দেই অন্যকে হিংসা করতে করতে। নিজেরা কাজ না করে অন্যের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে আমরা মহা ব্যস্ত। আসলে, অপপ্রচার করে তেমন কোন লাভ নেই। অপপ্রচারে আমি কখনো মন:ক্ষুন্ন হইনা। আমার বিশ্বাস আপনারাও হবেন না। কারন অপপ্রচারগুলোই আমাদের প্রচারণার দায়িত্ব পালন করেছে আলহামদুলিল্লাহ। হক্বের পথে বাঁধা, বিপত্তি আসবেই। এটাই স্বাভাবিক। যে পথে কাঁটা নেই সেটা পথ নয়, সেটা কার্পেট। আর কার্পেটে হেটে মজলিশে পৌঁছানো যায়, মনজিলে নয়।

মন্তব্য কখনো গন্তব্য ঠেকাতে পারেনা।

তাওয়াক্কালতু ‘আলাল্লাহ…’