SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

মায়ের সঙ্গে শিশুর বিচ্ছেদ কেন ঘটাবেন না?

শিশু ২৫ সেপ্টে. ২০২০
dreamstime_s_55325583
Bagaimana cara anda tidur? © Paulus Rusyanto | Dreamstime.com

পৃথিবীর সবরকম বন্ধনের মধ্যে মা ও সন্তানের বন্ধন অটুট ও সবচেয়ে পবিত্র। কোনও নাপাক ছায়া সেই সম্পর্কে পড়তে পারে না। একজন মা তার সন্তানের সুখ দুঃখ অচ্ছেদ্য বন্ধনে যুক্ত থাকে। আল্লাহর বাণীতে রয়েছে, 

অতঃপর আমি তাকে জননীর কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চক্ষু জুড়ায় এবং তিনি দুঃখ না করেন এবং যাতে তিনি জানেন যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য, কিন্তু অনেক মানুষ তা জানে না। [ কুর-আন ২৮:১৩]

এই বাণীতে তিনি নবী মুসা (আঃ)-এর  মায়ের কথা উল্লেখ করেছেন , যখন ছোট্ট মুসাকে তার বড়বোন নদীর জলে ভাসিয়ে দিলেন তখন মায়ের বুক ফেটে গিয়েছিল। মনের হাহাকার তিনি অবশ্য মনেই চেপে রেখেছিলেন, কারণ স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা তাঁকে শক্তি যুগিয়েছিলেন। তাঁর এই ধৈর্য্যের জন্যই মুসা হয়েছিলেন আল্লাহর দূত। আল্লাহ বুঝেছিলেন মায়ের এই ধৈর্য্য সন্তানের মধ্যেও আসবে। 

সন্তান জীবনের পাঠ শেখে মায়ের থেকে

মায়ের হৃদয় থেকে যে মায়া মমতা ও দয়ালু মনোভাবে উৎপত্তি তার থেকেই সন্তান জীবনের পাঠ শেখে। সন্তান মূলত মায়ের এই আদর ও মমতার ঘেরাটোপে আবদ্ধ থেকে নিরাপদে রাখে। একটি শিশুর বড় হয়ে ওঠার পিছনে মায়ের অবদান অনস্বীকার্য। একজন ধার্মিক ইমানদার মুসলমান মা-ই শিশুকে ইমানদার মুসলমানে পরিণত করতে পারেন। যে শিশুর কপালে অত্যাচারী সৎ মা জোটে তার দুর্দশার শেষ থাকে না । প্রথমত সৎ মায়েদের বেশিরভাগেরই স্বার্থপরতা বেশ বেশি হয়। তারা শিশুর প্রতি অনেকসময় অযত্ন করেন। সেখান থেকে শিশু গুটিয়ে যায়, ভয় পেতে শেখে, পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠতে পারে না।

এটা মাথায় রাখা প্রয়োজন, একটি শিশু ছোটবেলায় যেভাবে বড় হয়ে ওঠে সেটাই তার পরবর্তী জীবনকে প্রভাবিত করে। মা বাবার স্নেহর ঘেরাটোপে বড় হয়ে উঠলে একরকম, কিন্তু বড় হয়ে ওঠার সময় যদি মা না থাকেন জীবনে তাহলে সেই বড় হয়ে ওঠা ভীষণই অসম্পূর্ণ। হ্যাঁ এটা সত্যি যে বাবা অনেকসময়ই শিশুকে একাধারে মা ও বাবার স্নেহ দিয়ে বড় করে তুলতে পারেন, কিন্তু সেটা খুবই ব্যতিক্রমী। সাধারণত মায়ের ধৈর্য্য বাবার থাকে না, বাবারা একটু আগোছালো হন অনেকসময়ই। তার ক্ষতিকর প্রভাব শিশুর উপর পড়ে। 

অনেকসময় বাবার অন্যমনস্কতা ও না থাকার সুযোগ নেন সৎ মায়েরা। তারা হয়তো বাবাকে বিশ্বাস করান যে তার সন্তান ভাল আছে, কিন্তু বাস্তব হয় সম্পূর্ণ উল্টো।

মায়ের ভূমিকা

শৈশবেই শিশুর ব্যক্তিত্ব বিকাশ হওয়া শুরু হয়। সে আস্তে আস্তে হয় বাবা অথবা মায়ের মতো হয়ে ওঠে। এই সময় তার চারপাশে সদর্থক ব্যবহার করা ভীষণ প্রয়োজন। এই সময় আস্তে আস্তে বাইরের জগতের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটানো উচিৎ, আর এই পরিচয় খুব ভালভাবে ঘটাতে পারেন তার মা। মায়ের ভূমিকা শিশুর জীবনে কখনোই অগুরুত্বপূর্ণ নয়। মা-ই শিশুর জীবনের ভিত গড়ে দেন।

একবার ভেবে দেখুন তো, নয় মাস দশ দিন আপনাকে গর্ভে ধারণ কে করেছেন? জন্মের পর আপনাকে নিজের বুকের দুধ কে খাইয়েছেন? কে বুকের ওম দিয়ে আগলে রেখেছেন? আপনার খেলতে গিয়ে কেটে ছড়ে গেলে কে ওষুধ লাগিয়ে দিয়েছেন? বাবার বকার হাত থেকে কে রক্ষা করেছেন?
একটাই উত্তর আসবে, মা, জননী, আম্মি। 

আজকে আমরা যা হয়ে উঠতে পেরেছি তার পিছনে মায়ের ভূমিকা নেই এমন কেউ যদি বলে তাহলে সে আল্লাহর পথে নেই।

শৈশবের আবেগ ও ভালোবাসা  

শৈশবে কোনও শিশু যদি মায়ের কোলছাড়া থাকে তাহলে তার প্রভূত সমস্যা হয়। যদি মা ও শিশু তিনমাস আলাদা থাকে, তাও বলা যায় যে শিশু মায়ের কাছে ফিরে আবেগ ও ভালবাসাটুকু পেয়ে পুষিয়ে নিতে পারে। যদি ছয়মাস বা তার বেশি থাকে, তখন থেকেই শিশুর একা লাগতে শুরু হয়। মায়ের শূন্যতা তাঁকে আস্ত আস্তে অস্থির ও কখনও অমানবিক করে তোলে।

যে শিশুর মা বিচ্ছেদ বা মৃত্যুর জন্য তার কাছে নেই, সেই শিশু প্রকৃত দুর্ভাগা।

তাই, ইমানদার মুসলমান বাবা ও মায়ের শিশুর প্রতি জিম্মেদারি নেওয়া উচিৎ। শিশুকে কোনওভাবেই মায়ের কাছ ছাড়া যেন না করা হয়, তাহলেই মানসিকভাবে সে বিপর্যস্ত হয়ে উঠবে। আল্লাহ তো বলেইছেন,
তাদের ভয় করা উচিত, যারা নিজেদের পশ্চাতে দুর্বল অক্ষম সন্তানসন্ততি ছেড়ে গেলে তাদের জন্যে তারাও আশঙ্কা করে; সুতরাং তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং সংগত কথা বলে। [কুর-আন ৪:৯]