SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

মুখে ঘা হলে তেঁতুল পানিতে কুলকুচি করুন

স্বাস্থ্য ১৬ ফেব্রু. ২০২১
ফোকাস
মুখে ঘা
© Govindji | Dreamstime.com

মুখে ঘা হলে আমাদের যেন অস্বস্তির শেষ থাকে না! খাবার খেতে গেলে বা সামান্য মরিচযুক্ত খাবার মুখে পড়লেই চিড়বিড়িয়ে ওঠে মুখের ঘা, তার উপর সারাক্ষণ অস্বস্তি লেগেই থাকে মুখে। মুখে ঘা হলে বারবার আমরা জিভ বুলিয়ে ফেলি জায়গাটির উপর, ফলে ঘা আরও বেড়ে যায়, জ্বালা করে। মুখে ঘায়ের সমস্যায় অনেকরকম ওষুধ পাওয়া গেলেও জানেন কি তেঁতুল পানি ব্যবহার করে খুব তাড়াতাড়ি আপনি এই ঘা সারিয়ে তুলতে পারবেন? আজ আমরা সেই নিয়ে আলোচনা করব।

মুখে ঘা কেন হয়?

মুখে ঘাকে মাউথ আলসার বলা হয়। এই ঘা হয় দাঁতের গোড়ায় মাড়িতে। এই ধরনের ঘা সাধারণত ছোট হলেও তীব্র ব্যথাযুক্ত হয় এবং ঘা হলে খেতে, এমনকী কথা বলাও অনেকসময় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিজের অজান্তেই কখনও দাঁত দিয়ে মাড়ি কামড়ে ফেললে বা জোরে ব্রাশ করার সময় এধরনের ইনফেকশন বা ঘা হতে পারে। টুথপেস্টে সোডিয়াম লরেল সালফেট থাকলে তা থেকেও অনেকসময় এইধরনের ঘা হয়। এছাড়া অ্যাসিডযুক্ত ফল, যেমন, স্ট্রবেরি, টক লেবুজাতীয় ফল, আনারস, কফি, চকোলেট খেলেও মুখে ঘা হয়। শরীরে ভিটামিন বি১২, জিঙ্ক, ফোলেট ও আয়রনের অভাবজনিত কারণে এই ঘা হয়। এছাড়া দাঁতে ব্রেস, অ্যালার্জির প্রবণতা, পিরিয়ডের সময় হরমোনাল পরিবর্তনও ঘায়ের কারণ।

মুখের ঘা কমাতে তেঁতুল পানি

আপনার যদি মাঝে-মাঝেই এইধরনের ঘা হওয়ার প্রবণতা থাকে, তাহলে তেঁতুল পানিতে কুলকুচি করলে উপকার পেতে পারেন। ভারতীয় উপমহাদেশে তেঁতুল খুব জনপ্রিয়। তেঁতুলের অম্বল, টক বা মাছের সঙ্গে তেঁতুলের টক আপনাদের অনেকেরই প্রিয়। সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া জুড়েই প্রাচীনকাল থেকে তেঁতুলকে জ্বর কমানোর জন্য ব্যবহার করা হত। কাঁচা তেঁতুলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, সি ইত্যাদি থাকে। এছাড়া ক্যালসিয়াম থেকে শুরু করে কপার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক ইত্যাদি খনিজ উপাদানও তেঁতুলে মজুত থাকে।

তেঁতুল সার্বিকভাবে আমাদের দেহে প্রদাহর উপশম ঘটায়। এতে থাকা এসেনশিয়াল অয়েলে থাকে একাধিক অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা প্রদাহ দূর করে। ফলে মুখের ঘায়ে আপনি যদি তেঁতুল পানি ব্যবহার করেন, তাহলে দ্রুত জ্বালা-যন্ত্রণা কমাতে এটি সাহায্য করবে। এছাড়া তেঁতুলে থাকা ভিটামিন সি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। এছাড়া তেঁতুলের অ্যান্টি-ভাইরাল, অ্যান্টিসেপ্টিক ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াম গুণ এইধরনের ঘায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ঘা দ্রুত সারিয়ে তুলতে এবং আশপাশে ছড়িয়ে পড়া আটকাতেও তেঁতুলের জুড়ি নেই। আবার তেঁতুলের চেয়েও তেঁতুলের বীজের এক্সট্রাক্ট ঘা দ্রুত সারিয়ে তোলে।

কীভাবে মুখের ঘায়ে তেঁতুল ব্যবহার করবেন?

মুখে ঘা হলে অনেকে তেঁতুল পানি দিয়ে কুলকুচি করার পরামর্শ দেন। আবার তেঁতুলের কাই বের করে তার সঙ্গে ধনেপাতা ও পুদিনাপাতা থেঁতো করে পেস্ট বানিয়ে মুখের ঘায়ের জায়গায় লাগিয়ে রাখলেও উপকার পাবেন। ঝাল, মশলাদার খাবারের ফলে যে-সমস্ত ঘা হয়, সেগুলিকে এই তেঁতুলের পেস্ট ঠান্ডা করে আরাম দেয়। এই পেস্ট ব্যবহারে জ্বালা কমে, এবং তেঁতুল মুখের ঘাকে দ্রুত সারিয়ে তোলে। এছাড়াও তেঁতুলের পানি দিয়ে কুলকুচি করা এক্ষেত্রে কাজে দেয়। এজন্য তেঁতুলের কাই বের করে জলে ফুটিয়ে নিয়ে সেই জল ঠান্ডা করে কুলকুচি করতে পারেন। তবে তেঁতুল দিয়ে তৈরি একটি মুখরোচক টোটকায় কিন্তু আপনি অনায়াসে ব্যবহার করতে পারেন।

বানিয়ে নিন তেঁতুল পানি

৫০ গ্রাম তেঁতুল, হাফ চামচ সৈন্ধব লবণ, ৪ চামচ চিনি, সামান্য ভাজা জিরেগুঁড়ো ও গোলমরিচ

কীভাবে বানাবেন

এক গ্লাস পানি গরম করে নিন। তারপর তাতে তেঁতুল দিন। হালকা আঁচে গ্যাসে বসিয়ে রাখুন যতক্ষণ না তেঁতুল নরম হয়ে যাচ্ছে। এবার ভাল করে চটকে এই জলটি ছেঁকে ফেলুন। এরপর ওই জলে চিনি মিশিয়ে নিন। পরে সৈন্ধব লবণ, ভাজা জিরে ও গোলমরিচ মিশিয়ে ফেলুন। তারপর এই ঘন মিশ্রণের মধ্যে পরিমাণমতো জল যোগ করে বরফ দিন। ঠান্ডা হলে খেয়ে ফেলতে পারেন। মুখরোচক এই তেঁতুল পানি গরমকালে নিয়ম করে খেলে যেমন আপনার শরীর ঠান্ডা করবে, তেমনই মুখে ঘা সহ যে-কোনওরকম ইনফেকশনকেও দূরে রাখবে। এছাড়া ঘা যাতে না হয়, সেজন্য সার্বিকভাবে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চাইলেও এই তেঁতুল পানি আপনি খেতে পারেন।